দেওয়ান আব্দুল আযীয
গীতিকার, সূফি সাধক, পীর
১৮৯০ থেকে ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার (বর্তমান কুমিল্লায়) বুড়িচং থানার অন্তর্গত বালিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতার নাম সৈয়দ কমর উদ্দিন আহমদ ও মাতার নাম সৈয়দা আমেনা বেগম।
জ্ঞানানুরাগী ও সত্যবাদী হওয়ায় তিনি শৈশবেই পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে অগাধ স্নেহ মমতা ও সমাদর লাভ করেছিলেন।
যৌবনে তিনি হয়ে ওঠেন বিজ্ঞ ইসলামী চিন্তাবিদ ও সুভাষী ইসলামী বক্তা। তার ওয়াজ নছিহত শোনার জন্য দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতেন এবং তাকে দাওয়াত করে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যেতেন।
এভাবে দীর্ঘ চল্লিশ বছর দেশ বিদেশে ওয়াজ করে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। সে সময় তাঁর সান্নিধ্য পাওয়াটা আলেম ওলামাদের জন্য গর্বের বিষয় ছিল। তাঁর খ্যাতি যখন চরমে,
তখন তিনি সুফি সাধক মাওলানা তোরাব আলী (রঃ) এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর নিকট সুফি মতাদর্শে দীক্ষিত হয়ে সুফি তত্ত্বগান বা ছামা রচনায় মনোনিবেশ করেন।
এই সময় বহু মানুষ তাঁকে আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু বা পীর হিসেবে মান্য করতে আরম্ভ করেন।
১৩৫৯ বঙ্গাব্দে (১৯৫২-১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) দেওয়ান আব্দুল আযীয এর মুরিদ কাজী জহিরুল হকের প্রচেষ্টায় ‘দেওয়ান আযীয’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
এর এই গ্রন্থের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। দেওয়ান আযীযের প্রিয় মুরিদ, বুড়িচং থানার জগৎপুর নিবাসী মাওলানা তোতা মিয়া ফকীরও অল্প সংখ্যক আধ্যাত্মিক গান রচনা করেছেন।
দেওয়ান আযীয গ্রন্থে দেওয়ান আব্দুল আযীযের ২২০টি এবং মাওলানা তোতা মিয়ার ৬০টি গান অন্তর্ভুক্ত হয়।
‘দেওয়ান আযীয’ গ্রন্থে আল্লাহ ও রাসুলের পরিচয় এবং আত্মার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে আত্মার পরিশুদ্ধি ও প্রেমের মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভের উপায় বর্ণিত হয়েছে।
দেওয়ান আব্দুল আযীয বঙ্গাব্দ ২০শে ভাদ্র ১৩৭২ অনুসারে ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে কুমিল্লা শহরের রামমালা সড়কস্থ ঠাকুরপাড়া আযীযিয়া দরবার শরীফে দেহত্যাগ করেন।
এরপর তার সাধনার ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন তারই উত্তরসূরী পীরজাদা সৈয়দ শহিদুর রহমান ও পীরজাদা সৈয়দ আতাউর রহমান বাচ্চু।
[দেওয়ান আব্দুল আযীয রচিত গানসমূহের তালিকা]
তথ্যসূত্রঃ