হেমলতা দেবী
(১৮৭–১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ)
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্রবধূ এবং দ্বিপেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী ছিলেন।

তাঁর পিতা ছিলেন ললিতমোহন চট্টোপাধ্যায়। ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে তাঁর পারিবারিক যোগাযোগ বিবাহের আগে থেকেই ছিল, কারণ তাঁর দুই দাদারও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে বিবাহ হয়েছিল। ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ মার্চ দ্বিপেন্দ্রনাথের প্রথাম স্ত্রী সুশীলা দেবীর মৃত্য হয়। ২৩ এপ্রিল তিনি হেমলতা দেবীকে বিবাহ করেন। হেমলতার নিঃসন্তান ছিলেন।

হেমলতা দেবী সে যুগের নারীদের তুলনায় অসাধারণ শিক্ষিতা ও বহুমুখী ছিলেন। তিনি ইংরেজি শিক্ষকদের কাছে দুই বছর পড়াশোনা করেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। উপনিষদ অধ্যয়ন করেন পণ্ডিত মেহচন্দ্র বিদ্যারত্নের কাছে। সুফি সাধনা ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখতেন। রামকৃষ্ণ মিশনেও বক্তৃতা দিয়েছেন এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে সুফি বিষয়ক বই অনুবাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।  

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন শান্তিনিকেতনে তাঁর ব্রহ্মচর্যাশ্রম গড়ে তুলছিলেন, তখন হেমলতা দেবী সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আশ্রমের ছাত্রাবাসের দেখাশোনা এবং আশ্রমিকদের মাতৃত্বের স্নেহে আগলে রাখতেন। নারী শিক্ষার প্রসারে এবং শান্তিনিকেতনের অন্দরমহলের শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।  

সম্পাদনা ও পত্রিকা হেমলতা দেবী সরোজনলিনী নারীমঙ্গল সমিতির মুখপত্র সচিত্র মাসিক "বঙ্গলক্ষ্মী" পত্রিকার সম্পাদনা করতেন। এটি সে সময়ে নারীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী পত্রিকা ছিল। নারী জাগরণ, সমাজসংস্কার ও সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা ছিল অসামান্য। তাঁর সম্পাদনাকালে পত্রিকাটি "সোনার ফসলে ভরে উঠেছিল" বলে বর্ণনা করা হয়।

রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বিদেশি পত্রিকার প্রবন্ধ অনুবাদ ও সারাংশ লেখার দায়িত্ব দিতেন, যা প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। সুফি সাধনা ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়ে অনুবাদ ও রচনা করেছেন। তাঁর লেখায় আধ্যাত্মিকতা, নারীমুক্তি, সমাজসেবা ও ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।