তত্র মঙ্গলাচরণম্
মনসিজমথয়ে নমঃ সমেতং
হেরস্বানুগমনুজায় তথাহি।
শশিসিতচরিতায়
তে পুরাণা,
চক্রাঙ্কায়
নমোনমঃ সুরেন্দ্র ॥১॥
হে প্রাচীন-সুরশ্রেষ্ঠ! তুমি নিজে নির্ম্মলচরিত্র বলিয়া সঙ্কল্পজন্মা মদনকে ভস্মীভূত করিয়াছিলে। অতএব, তোমায় নমস্কার। তুমিই আবার দেহান্তর পরিগ্রহ করিয়া চক্রধারী বিষ্ণু হইয়াছিলে।–সংসারচক্র তোমারই ইঙ্গিতে পালিত হয়। অতএব হে বিষ্ণো! তোমায় নমস্কার। যাহাদিগের চরিত্র চন্দ্রের ন্যায় নির্ম্মল–দোষ শূন্য, সেই সকল বিঘ্নবিনায়ক গণপতির অনুগত মনুষ্যগণকে নমস্কার। কারণ, তাঁহারা অসাধারণ ক্ষমতা প্রকাশ করিয়া তবে সিদ্ধিদাতা গণেশের কৃপাপ্রাপ্ত হইয়াছেন। আমি তাঁহাদিগেরও অনুগত; সুতরাং আমি এই সকলকেই বারংবার নমস্কার করি॥১॥
নমো ধাত্রে তস্মৈ প্রতিবিহিতশাস্ত্রদিগুরবে,
নমো নন্দীশেভ্যঃ সপদি নম ঔন্দলকিধুরে।
তথা বাভ্রব্যয় স্ফুরদখিল-পাঞ্চাল-ভজয়ে,
নমশ্চাচার্য্যায়াপ্রতিহতধিয়ে
দত্তক-দৃশে॥২॥
বিধানকারী প্রত্যেক শাস্ত্রেরই আদি গুরু বিধাতাকে নমস্কার।
(অথবা, যে সকল শাস্ত্রের উপযুক্তরূপ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় লোপ হইয়াছিল, সেই
সকল শাস্ত্রের রক্ষণ, সংস্কার ও প্রতিসংস্কারাদি করিয়া, যে বিধানকর্ত্তা প্রতি
সর্গের (সৃষ্টির) আদিতে আবার প্রচার করিয়া থাকেন; সেই আদিগুরু, নিখিল শাস্ত্রেরই
প্রথম উপদেশকারী ধাতাকে নমস্কার।) নন্দীশ্বরকে নমস্কার। কারণ, তিনিই কামসূত্রের
প্রথম সঙ্কলন করেন (১)। তারপর উদ্দালক ঋষির পুত্র শ্বেতকেতুর চিন্তাকে নমস্কার।
কারণ, তিনি প্রথমে বহু পরিশ্রম করিয়া নন্দীশ্বর-সঙ্কলিত কামসূত্রের সংগ্রহ করিয়া
প্রচার করিয়াছিলেন। জ্ঞানগরিষ্ঠ সমগ্র পাঞ্চাল-দেশের অধীশ্বর বাভ্রব্য তাহার
সারসঙ্কলন করিয়াছিলেন বলিয়া, তিনিও নমস্কারের পাত্র; সুতরাং তাঁহাকে নমস্কার।
দত্তকাচার্য্যের সংগ্রহ দর্শন করিয়া কামসূত্র প্রণয়নকারী অপ্রতিহতবুদ্ধি আচার্য্য
মল্লনাগকেও নমস্কার।॥২॥
(১): দক্ষযজ্ঞে 'যোগবিসৃষ্টদেহা' সতী মেনকার গর্ভে হিমালয়ের ঔরসে জন্মগ্রহণ করিলে, মহাদেব পুনরায় পাণিগ্রহণ পূর্ব্বক পার্ব্বতীকে প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। তদন্তর উভয়ে মন্দর পর্ব্বতে বিশ্বকর্ম্মা কর্ত্তৃক সুরমাহর্ম্ম্য গৃহ নির্ম্মাণ করাইয়া বাস করিতে লাগিলেন। কিন্তু তথায় মধ্যে মধ্যে মহাদেব পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণবর্ণ থাকায় তাঁহাকে কালী বলিয়া পরিহাস করিতেন। সেই দুঃখে পার্শ্ববর্তী হিমালয়-শিখরে গমনপূর্বক তপস্যা করিয়া কমলযোনির বরে কনক-কান্তিলাভ পূর্ব্বক প্রত্যাবর্ত্তন করিলে শিবা ও শিব, উভয়ে শৃঙ্গারসুখ উপভোগার্থ বাসগৃহ দ্বারে নন্দীকে বসাইয়া কেলিনিরত হইয়াছিলেন। তাঁহাদিগের কেলিকালে দিব্যমান সহস্রবর্ষ পর্য্যন্ত বিপরীতাদিক্রমে নানাবিধ শৃঙ্গার হইয়াছিল। সেই সময়ে বিপরীত শৃঙ্গারাদির বিষয় নন্দীশ্বর উপদেশ করিয়াছিলেন। (বামনপুরাণ ৫৪শ অধ্যায় এবং ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণ গণেশখণ্ড ১ম অধ্যায় দ্রষ্টব্য।)