সর্বহারা
কাজী নজরুল ইসলাম


          সর্বহারা

                ১
 ব্যথার সাতার-পানি-ঘেরা
                  চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস
                  সেই চরে তোর ঘর?
     শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা,
     হাট তুলে দে সর্বহারা,
     মেঘ-জননীর অশ্রধারা
                  'রছে মাথার' পর,
    দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি
                  দুলিয়ে তর-কর

                    ২
    কন্যারা তোর বন্যাধারায়
                  কাঁদছে উতরোল,
    ডাক দিয়েছে তাদের আজি
                  সাগর-মায়ের কোল।
            নায়ের মাঝি! নায়ের মাঝি!
            পাল তুলে তুই দে রে আজি
            তুরঙ্গ ঐ তুফান-তাজী
                  তরঙ্গে খায় দোল।
    নায়ের মাঝি! আর কেন ভাই?
                  মায়ার নোঙর তোল্‌।
    
                    ৩
    ভাঙন-ভরা ভাঙনে তোর
                  যায় রে বেলা যায়।
    মাঝি রে! দেখ্‌ কুরঙ্গী তোর
                  কূলের পানে চায়।
             যায় চলে ঐ সাথের সাথী
             ঘনায় গহন শাঙন-রাতি
             মাদুর-ভরা কাঁদন পাতি
                  ঘুমুস্‌ নে আর, হায়!
     ঐ কাঁদনের বাঁধন ছেঁড়া
                  এতই কি রে দায়?

                    ৪
    হীরা-মানিক চাসনিকো তুই,
                      চাস্‌নি ত সাত ক্রো,
    একটি ক্ষুদ্র মৃৎপাত্র-
                      ভরা অভাব তোর,
             চাইলি রে ঘুম শ্রান্তিহরা
             একটি ছিন্ন মাদুর-ভরা,
             একটি প্রদীপ-আলো-করা
                      একটু-কুটীর-দোর।
    আস্‌ল মৃত্যু আস্‌ল জরা,
                      আস্‌ল সিঁদেল-চোর।
    
                    ৫
    মাঝি রে তোর নাও ভাসিয়ে
                      মাটির বুকে চল্‌!
    শক্তমাটির ঘায়ে হউক
                      রক্ত পদতল।
     প্রলয়-পথিক চ’ল্‌বি ফিরি
     দলবি পাহাড়-কানন-গিরি!
     হাঁকছে বাদল, ঘিরি ঘিরি
                  নাচছে সিন্ধুজল।
    চল্‌ রে জলের যাত্রী এবার
                  মাটির বুকে চল্‌
 

লাঙল অফিস, কলিকাতা
২৪শে চৈত্র ১৩৩২