বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
কালানুক্রমিক সংখ্যা: ১২২
গান সংখ্যা: ২৪২
শিরোনাম: নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখি-জল

রাগ: দুর্গা (বিলাবল ঠাট),
তাল:কাহার্‌বা

নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখি-জল
মলিন হয়েছে ঘুমে চোখের কাজল॥
হেরিয়া নিশি-প্রভাতে
শিশির কমল-পাতে
ভাব বুঝি বেদনাতে ফুটেছে কমল॥
এ শুধু শীতের মেঘে
কপট কুয়াশা লেগে'
ছলনা উঠেছে জেগে' এ নহে বাদল॥
কেন কবি খালি খালি
হ'লি রে চোখের বালি
কাঁদাতে গিয়া কাঁদালি নিজেরে কেবল॥

ভাবসন্ধান: অভিমানে দয়িতার আঁখি ছল ছল, গোপন অশ্রুজলে চোখের কাজল ম্লান হয়ে গেছে। কিন্তু অভিমানিনী দয়িতা তা প্রকাশ করতে চায় না। গোপন বেদনায় যা প্রকটিত, তাকে গোপনে রাখার জন্য, ছল করে বলছে, এ দুঃখের আঁখিজল নয়। অশ্রজলে চোখের কাজল মলিন হয় নি, হয়েছে ঘুমের কারণে।

এই গানের দুটি অন্তরায়, অভিমানিনী উপমার ভিতর দিয়ে নিজের গোপন বেদনাকে যেভাবে লুকাতে চেয়েছেন তা করুণ রসে সিক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। রাত্রি শিশিরসিক্ত পদ্মফুলের দলমণ্ডল যেমন ভোরের আলোয় মলিন দেখায়, তা দেখে বেদনাবিধুর মনে হতে পারে। কিম্বা শীতের মেঘে কুয়াসার স্পর্শ লেগে যেমন মেঘের প্রকৃত রূপ ভিন্নরূপে প্রকাশ পায়,  তেমনি অভিমানিনীকে যেন কপট বেদনাঘাতে নিষ্প্রভ বা ম্লান দেখায়। মেঘ থেকে ঝরে পড়া কুয়াসার বিন্দু যেমন বৃষ্টি নয়, তেমন অভিমানিনীর চোখের জলও প্রকৃত অশ্রুজল নয়। শেষ অন্তরায়, 'কবি' ভনিতায় অভিমানিনীর ভাব প্রকাশ পায় ভিন্ন মাত্রায়। দয়িতার অভিমানের বেদনাকে প্রকাশ করতে গিয়ে, কবি নিজেই বেদনাপ্লুত। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কবি দয়িত-দয়িতার বিচার করতে গিয়ে, এখন সে উভয়েরই যেন শত্রু।

রচনাকাল: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায় না। গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কালিকলম পত্রিকার 'জ্যৈষ্ঠ ১৩৩' সংখ্যায়।  রচনার স্থান ও রচনাকাল উল্লেখ নেই ।নজরুল ইসলাম তাঁর ২৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের শেষের দিকে এই গানটি রচনা করেছিলেন।