বিষয়: নজরুলসঙ্গীত।
কালানুক্রমিক সংখ্যা: ১২৩
গান সংখ্যা: ১০৫
শিরোনাম আমার কোন্ কূলে আজ ভিড়লো তরী
       দ্রুত- দাদরা
আমার   কোন্ কূলে আজ ভিড়লো তরী
                     এ কোন সোনার গাঁয়
আমার   ভাটির তরী আবার কেন
                     উজান যেতে চায়
                 তরী উজান যেতে চায়
            কোন কূলে মোর ভিড়লো তরী
            এ কোন্ সোনার গাঁয়॥
আমার   দুঃখের কাণ্ডার করি'
আমি     ভাসিয়েছিলাম ভাঙা তরী
তুমি      ডাক দিলে কে স্বপন-পরী
            নয়ন ইশারায়॥
            নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি
            ডেকেছিল ঝড়ের রাতি
তুমি      কে এলে মোর সুরের সাথী গানের কিনারায়।
            তুমি কে এলে ? ওগো কে এলে মোর সুরের সাথি
                                                  গানের কিনারায়?
            সোনার দেশের সোনার মেয়ে,
ওগো তুমি   হবে কি মোর তরীর নেয়ে,
             ভাঙা তরী চলো বেয়ে রাঙা অলকায়॥
ক. রচনাকাল ও স্থান:  কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২৩ সংখ্যক গান। রচনার স্থান ও তারিখ। ঢাকা আষাঢ় ১৩৩৫। প্রতিভা বসু তাঁর 'জীবনের জলছবি‌' গ্রন্থের বর্ণনানুসারে জানা যায়, নজরুল ঢাকাতে এই গানটি রচনা করেছিলেন কোনো এক রাতে। তার পরের দিন এই গানটি প্রতিভা বসুকে শিখেয়েছিলেন, তাঁদের বনগ্রামের বাড়িতে। এ বিষয়ে তিনি তাঁর 'জীবনের জলছবি‌' গ্রন্থের '‌৮' অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন-

'...রাত জেগে নতুন গান লিখেছেন তিনি, না শিখিয়ে থাকতে পারছেন না। ‌'এসো এসো শিগ্গির এসো, হারমোনিয়াম নিয়ে বসো।' আমরা সবে চা খাচ্ছি, আমার চেহারায় তখনো ঘুম ঘুম ভাব। বসে গেলেন সঙ্গে। ...রাত্তিরে একটা গান লিখেছি সুরটা তুলে নাও তাড়াতাড়ি, আবার ভুল হয়ে যাবে।‌'
    সকালটা ঝক্ ঝক্ করতে লাগলো। আবার হারমোনিয়াম আবার পানের বাটা আবার ঘনঘন চা। গানটা হলো 'আমার কোনকূলে আজ ভিড়লো তরী, এ কোন সোনার গাঁয়/ভাঁটির টানে আবার কেন উজান যেতে চায়।' দেখা গেল তখনো তার বয়ান সঠিক নায়, সুরেরও হেরফের হচ্ছে। ঠিক করছেন গাইত গাইতে, শেখাতে শেখাতে।‌'