বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: জয় জয় মা গঙ্গা পতিত পাবনী ভাগীরথী
জয় জয় মা গঙ্গা পতিত পাবনী ভাগীরথী।
হর-শির-বিহারিণী সুরেশ্বরী অগতির গতি॥
মৃত্যু সাগরের দেশে প্রাণদাত্রী তুমি
তোমার পুণ্যে হল তীর্থ ভারতভূমি,
পাপ-নিবারিণি কলুষ-হারিণী ত্রিলোকতারিণী
মাগো লহ প্রণতি॥
- ভাবসন্ধান: এটি একটি গঙ্গা দেবীর বন্দনা ও স্তবধর্মী ভক্তিমূলক গান। এখানে গঙ্গাকে দেবী, তীর্থদাত্রী এবং পাপনাশিনী শক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
মাতৃরূপিণী এই দেবী স্বর্গ থেকে শিবের জটা অবলম্বনে মরতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন
ভগীরথের প্রার্থনার সূত্রে। তিনি ভাগীরথী রূপে প্রবাহিতা হয়ে তাঁর পবিত্র জলধারায়
সিক্ত করে পতিত পাপীদের উদ্ধার করেছিলেন।
তিনি অমর ও সুরেশ্বরের প্রিয়। তিনি অজানা গন্তব্যেরও দিকনির্দেশনা দান
করেন। তাই তাঁর নামে জয়ধ্বনি দেওয়া হয়েছে এ গানে। মৃত্যুর সাগরের মতো কঠিন জগতেও
তিনি প্রাণদাত্রী। তাঁর জলে পাপ ধুয়ে যায়, জীবন ও মুক্তির আশ্বাস মেলে। তাঁর পুণ্য ও পবিত্রতায়
যেন সমগ্র ভারত তীর্থক্ষেত্রের মর্যাদা পায়। তিনি পাপ নাশকারিণী, কলুষ দূরকারিণী এবং
ত্রি লোকের (স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল) ত্রাণকারিণী। তাই কবি তাঁর কাছে প্রণতি
জানিয়েছেন। তিনি কামনা করেন যেন- এই দেবীর আশ্রয়ে তিনি ধন্য হন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর
১৯৩৫ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪২) মাসে, এইচএমভি থেকে বরদাপ্রসন্ন দাশগুপ্তের নাটক 'সুভদ্রা'র নাটক প্রকাশিত হয়েছিল। নাটকটিতে এই গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। ১৪০৭ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা:
৪২৫।
- রেকর্ড: এইচএমভি [ডিসেম্বর ১৯৩৫ (অগ্রহায়ণ-পৌষ
১৩৪২)]। এন ৭৪৫১। নাটিকা: সুভদ্রা। নাট্যকার: বরদাপ্রসন্ন
দাশগুপ্ত। চরিত্র: সহচরীগণের
- পর্যায়:
- বিষায়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বন্দনা। গঙ্গাদেবী