বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে একেলা
বাঁশীর কিশোর লুকায়ে হেরিছে একেলা।
পিয়াল বনের পথে নিরালা সাঁঝের বেলা॥
হেলে দুলে চলে কাঁখে গাগরি,
কাহার ঝিয়ারি, ও কাহার পিয়ারি ওই নবীনা নাগরি॥
নূপুর মিনতি করে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
আমারে রাখিও চরণে বাঁধিয়া,
পিয়া পিয়া ব’লে ডেকে ওঠে পাপিয়া।
অঙ্গ জড়ায়ে দোলে আনন্দে ঘাগরি॥
চাঁদের মুখে যেন চন্দন মাখিয়া
কাজল কালো চোখের কলঙ্ক আঁকিয়া –
আকাশ সম ওরে রেখেছে ঢাকিয়া নীলাম্বরী॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি শ্রীকৃষ্ণের প্রতি রাধার মুগ্ধ দৃষ্টির এক অপূর্ব চিত্র অঙ্কন করেছেন। গোধূলিবেলায় নির্জন পিয়ালবনের পথে এক নবীন গোপবালিকার আবির্ভাব ঘটে। শ্রীকৃষ্ণ আড়াল থেকে তার রূপ, চলন ও সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে নিরীক্ষণ করছেন। নবযৌবনার স্বাভাবিক লাবণ্য, সরলতা ও কোমল ভঙ্গিমা প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
কাঁখে গাগরি নিয়ে তার দুলে দুলে চলা, পায়ের নূপুরের মধুর ধ্বনি এবং পাপিয়ার “পিয়া পিয়া” ডাক—সব মিলিয়ে প্রেমময় প্রকৃতি যেন তার আগমনকে বরণ করে নিচ্ছে। নূপুর যেন মিনতি জানায়, চিরকাল সেই চরণে আবদ্ধ থাকার জন্য; আবার পাপিয়ার ডাক যেন কৃষ্ণের হৃদয়ের আকুল প্রেমেরই প্রতিধ্বনি। এতে মানবপ্রেম ও প্রকৃতির অনুভূতি একাকার হয়ে যায়।
গানের শেষাংশে কবি নবীনার অপরূপ রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। তার মুখ যেন চাঁদের মতো উজ্জ্বল, চন্দনলেপে সুশোভিত; কাজলমাখা নয়ন তার সৌন্দর্যকে আরও গভীর ও মোহনীয় করে তুলেছে। নীল বস্ত্রে আবৃত তার সমগ্র রূপ যেন নীল আকাশের বুকে উদিত পূর্ণচন্দ্রের মতো অপার্থিব সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটায়। এখানে বাহ্যিক রূপবর্ণনার আড়ালে প্রেমিকের হৃদয়ে প্রিয়ার প্রতি গভীর আকর্ষণ, মুগ্ধতা ও নীরব আরাধনাই প্রধান হয়ে উঠেছে।
অতএব, গানটি মূলত শ্রীকৃষ্ণের দৃষ্টিতে রাধার (বা এক নবীন গোপবালিকার) সৌন্দর্য, প্রকৃতির প্রেমময় আবহ এবং প্রেমের নীরব আকুলতার এক সুকোমল কাব্যিক রূপায়ণ।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর (কার্তিক-অগ্রহায়ণ
১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির
প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল।
এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৫ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
১৬১৩। পৃষ্ঠা: ৪৮২]
- রেকর্ড: এইচএমভি [নভেম্বর ১৯৩৬ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৪৩)]। এন ৯৭৯৯। শিল্পী:
হরিমতী
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
-
সুধীন দাশ [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি,
চৌত্রিশতম খণ্ড, (একুশে
বই মেলা। ফাল্গুন ১৪১৮/ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ২৪তম গান।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব।
রাধাকৃষ্ণ-লীলা
- সুরাঙ্গ: