বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: সোজা পথে চল রে ভাই, ঈমান থেকো ধ’রে
সোজা পথে চল রে ভাই, ঈমান থেকো ধ'রে।
খোদার রহম মেঘের মত ছায়া দেবে তোরে॥
তুমি বিচার করো না- কেউ করলে তোমার ক্ষতি
এক সে-বিচার-করনেওয়ালা ত্রিভুবনের পতি,
তোর ক্ষতির ডালে ধরবে মোতি তাঁর বিচারের জোরে॥
সকল সময় ধ’রে থেকো আল্লা নামের খুঁটি
তিনি তোমার হেফাজতে দিবেন ক্ষুধার রুটি,
ইয়াকিন দিলে থেকে তুমি, নিবেন তোমায় ত'রে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে ঈমানে দৃঢ় থাকা, সত্যের পথে চলা, প্রতিশোধের পরিবর্তে আল্লাহর বিচারের ওপর আস্থা রাখা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের ওপর নির্ভর করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ধৈর্য, বিশ্বাস ও নৈতিক জীবনযাপনই মানুষের প্রকৃত শান্তি ও সফলতার পথ—এই ভাবই গানের মূল প্রতিপাদ্য।
এই ভাবাদর্শে রচিত এই গানে একজন মুমিনের আদর্শ জীবনযাপনের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি ঈমানে অটল থাকা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা, প্রতিশোধপরায়ণতা পরিহার করা এবং সর্বাবস্থায় ধৈর্য ও ন্যায়বোধ বজায় রাখার শিক্ষা দিয়েছেন।
গানের শুরুতে কবি মানুষকে সোজা পথে অর্থাৎ সত্য, ন্যায় ও ইসলামের আদর্শের পথে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঈমানকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে আল্লাহর রহমত মেঘের ছায়ার মতো মানুষের ওপর সর্বদা বিরাজ করবে। যেমন মেঘ প্রখর রোদ থেকে আশ্রয় দেয়, তেমনি আল্লাহর করুণা মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদে নিরাপত্তা ও শান্তি দান করে।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি প্রতিশোধের পরিবর্তে ধৈর্য ও আল্লাহর বিচারের ওপর নির্ভর করার শিক্ষা দেন। কেউ অন্যায় করে ক্ষতি করলেও নিজের হাতে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ প্রকৃত বিচারক একমাত্র আল্লাহ, যিনি সমগ্র বিশ্বজগতের অধিপতি। তিনি ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করেন এবং মানুষের ক্ষতি, দুঃখ ও ত্যাগের যথাযথ প্রতিদান দেন।
'তোর ক্ষতির ডালে ধরবে মোতি'—এই কাব্যিক চিত্রের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সাময়িক ক্ষতিও আল্লাহর বিচারে অমূল্য পুরস্কার ও কল্যাণে পরিণত হতে পারে।
এরপর কবি বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর নামকে আশ্রয় হিসেবে ধারণ করতে হবে। “আল্লা নামের খুঁটি” বলতে তিনি ঈমান, তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর নির্ভরতা) এবং আল্লাহর স্মরণকে বুঝিয়েছেন। যেমন একটি খুঁটি কোনো কাঠামোকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে, তেমনি আল্লাহর স্মরণ মানুষের জীবনকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাখে।
গানের শেষাংশে কবি আশ্বাস দেন, যে ব্যক্তি আন্তরিক বিশ্বাস (ইয়াকিন) নিয়ে আল্লাহর ওপর নির্ভর করে, আল্লাহ তাঁর জীবিকার ব্যবস্থা করেন এবং সব বিপদে তাঁকে রক্ষা করেন। ক্ষুধার রুটিও তিনি জোগান দেন এবং শেষ পর্যন্ত মানুষকে মুক্তি ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন। এখানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা, ধৈর্য ও আত্মসমর্পণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৭) মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির
প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ২ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২)-এর ৩৬৪
সংখ্যক গান। তাল: দাদরা পৃষ্ঠা: ১১৩।
- রেকর্ড: এইচ.এম.ভি.[আগষ্ট ১৯৪০ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৭)। এন ১৭৪৯২। শিল্পী: মি.
মীর মজফ্ফর আলী]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। হামদ