বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম:
হে কৃষ্ণ চাঁদ দাসীর হৃদয়ে কখন উদয় হবে
হে কৃষ্ণ চাঁদ দাসীর হৃদয়ে কখন উদয় হবে?
তুমি চিরদিন কৃষ্ণা তিথির আঁধারে কি ঢাকা রবে?
বিফল পূজার কুসুমের প্রায়
হের দেহলতা ম্লান হল হায়,
পথ চেয়ে আর থাকিতে পারি না হে নাথ আসিবে কবে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে একজন কৃষ্ণপ্রেমাসক্ত ভক্তের গভীর বিরহ, আকুলতা ও আত্মসমর্পণের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। ভক্ত নিজেকে কৃষ্ণের “দাসী” হিসেবে কল্পনা করে তাঁর হৃদয়ে কৃষ্ণের আবির্ভাবের অপেক্ষা করছে।
এখানে কৃষ্ণকে চাঁদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেমন অন্ধকার রাতে চাঁদের উদয় অন্ধকার দূর করে, তেমনি কৃষ্ণের প্রেম ও উপস্থিতি ভক্তের অন্ধকারাচ্ছন্ন হৃদয়কে আলোকিত করবে। কিন্তু সেই কৃষ্ণ এখনও হৃদয়ে উদিত হননি।
“তুমি চিরদিন কৃষ্ণা তিথির আঁধারে কি ঢাকা রবে?”—এখানে কৃষ্ণা তিথি অর্থ চন্দ্রপক্ষের অন্ধকার পর্ব, বিশেষত কৃষ্ণপক্ষ। এটি প্রতীকীভাবে বিরহ, আধ্যাত্মিক অন্ধকার ও ঈশ্বর-বিচ্ছেদ বোঝাচ্ছে। ভক্তের প্রশ্ন—কৃষ্ণ কি চিরকাল তাঁর হৃদয়ের অন্ধকারে অদৃশ্যই থাকবেন?
এরপর ভক্ত নিজের অবস্থার কথা বলেছেন। তাঁর দেহ-মন যেন বিফল পূজার ফুলের মতো শুকিয়ে ও ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ফুল যেমন পূজায় নিবেদন করার পর তার সৌন্দর্য হারায়, তেমনি দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বিরহে ভক্তের জীবনও জীর্ণ হয়ে পড়েছে।
গানের শেষাংশে তাঁর আকুলতা চরমে পৌঁছেছে। তিনি কৃষ্ণের প্রতীক্ষার পথ চেয়ে আর থাকিতে পার্ছেন
না। তাঁর একমাত্র আকাঙ্ক্ষা—কৃষ্ণ তাঁর হৃদয়ে এসে বিরহের অন্ধকার দূর করে বিরাজ করুন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ
১৩৪৫) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি
মহেন্দ্রনাথ গুপ্তের রচিত নাটক
'রুক্সিনী মিলন'-এর রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স
ছিল ৩৯ বৎসর ৭ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২১৪১। পৃষ্ঠা: ৬৪৫]
- রেকর্ড:
এইচএমভি [জানুয়ারি ১৯৩৯ (পৌষ-মাঘ ১৩৪৫)। মহেন্দ্রগুপ্তের রচিত নাটক
'রুক্সিনী মিলন'। এন ১৭২৩৯। চরিত্র: রুক্মিণী। শিল্পী: সরযুবালা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। বিরহ