বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম:
হে গোবিন্দ, হে গোবিন্দ
হে গোবিন্দ, হে গোবিন্দ
ও রাঙা চরণ কমল ঘেরি গুঞ্জরে কোটি ভক্তবৃন্দ॥
শত দুখ দিয়ে ভক্তের সাথ,
একি অনন্ত-লীলা তব নাথ
যোগী মুনি ঋষি বুঝিতে পারে না
তুমি অচিন্ত্য তুমি অনিন্দ্য লীলা-রসিক হে গোবিন্দ॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে গোবিন্দের (শ্রীকৃষ্ণ) চরণমহিমা, ভক্তের গভীর আকর্ষণ এবং
কৃষ্ণের অচিন্ত্য লীলার প্রতি বিস্ময় ও আত্মসমর্পণ প্রকাশ পেয়েছে। ভক্তের কাছে গোবিন্দের চরণই পরম আশ্রয়; অসংখ্য ভক্ত সেই চরণকে ঘিরে মধুমক্ষিকার মতো আকুল হয়ে রয়েছে।
গানের শুরুতেই 'হে গোবিন্দ, হে গোবিন্দ' এই পুনরুক্তির মধ্যে গভীর ভক্তি, আকুলতা ও আত্মনিবেদনের প্রকাশ ঘটেছে। গোবিন্দের “রাঙা চরণ কমল” অর্থাৎ পদ্মের মতো সুন্দর ও রক্তিম চরণকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি ভক্ত যেন গুঞ্জনরত। এখানে ভক্তদের গুঞ্জনরত ভ্রমরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেমন ভ্রমর পদ্মের মধুর আকর্ষণে তার চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, তেমনি ভক্তরাও
কৃষ্ণের চরণপ্রেমে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর চারপাশে সমবেত হয়।
গানটির পরের অংশে ভক্তের মনে গভীর বিস্ময়ে প্রশ্ন জাগে- তিনি কেন তাঁর ভক্তদেরও এত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে রাখেন? ভক্তের প্রতি
তাঁর প্রেম যদি সত্য হয়, তবে তাঁর প্রিয়জনকে দুঃখ দেওয়ার এই রহস্য কী? এই প্রশ্নের কোনো সহজতর
উত্তর মেলে না। তাই কবি একে “অনন্ত-লীলা” বলে অভিহিত করেছেন। ভক্ত স্বীকার করেন, গভীর সাধনা, জ্ঞান ও তপস্যার অধিকারী যোগী-মুনি-ঋষিরাও
কৃষ্ণের এই লীলার প্রকৃত রহস্য সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারেন না। কারণ এই
লীলার রহস্য মানুষের সীমিত বুদ্ধি ও যুক্তির অতীত। একে কবি “অচিন্ত্য” বলেছেন।
অর্থাৎ যাঁকে সম্পূর্ণভাবে মানুষের চিন্তা, যুক্তি বা বুদ্ধির দ্বারা ধারণ করা যায় না।
তিনি 'অনিন্দ্য লীলা-রসিক' — যাঁর লীলা অপরূপ, অনিন্দনীয় এবং যিনি নিজের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে অসীম লীলার রস প্রকাশ করেন।
কৃষ্ণের এই লীলার রহস্য ভেদ করতে না পারলেই ভক্ত শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতি আস্থা হারান না। বরং সেই অজ্ঞেয়তার মধ্যেই
সকল লীলার মধ্যেই কৃষ্ণের অপার মহিমা উপলব্ধি করেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল
সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ ১৩৪২) মাসে,
মন্মথ
রায়ের, রচিত নাটক 'নরমেধ' টুইন রেকর্ড
কোম্পানি প্রকাশ করেছিল। এই নাটকে গানটি ছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ৭ মাস।
-
রেকর্ড: টুইন।
নরমেধ
(নাটক)।
নাট্যকার:
মন্মথ
রায় [জানুয়ারি ১৯৩৬ (পৌষ-মাঘ ১৩৪২)। এফটি ৪২১১। সমবেত গান। শিল্পী:
নরেশচন্দ্র মিত্র, ইন্দু সেন, ধীরেন্দ্রনাথ প্রমুখ]
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ২১৪৪। নাটিকা: ‘নরমেধ’। পৃষ্ঠা:
৬৪৬]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
সুধীন দাশ [নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, আটাশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। আষাঢ়,
১৪১৩/জুলাই ২০০৬] ২৫ সংখ্যক গান [নমুনা]
- সুরকার: চিত্ত রায়
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মদর্শন। হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট