বিষয়: নজরুলসঙ্গীত
শিরোনাম: হেলে দুলে বাঁকা কানাইয়া গোকুলে চলে
হেলে দুলে বাঁকা কানাইয়া গোকুলে চলে।
বংশী বাজায়ে সে গোকুলে চলে॥
গোপনারী ভুলি’ স্বজন যৌবন মন পায়ে তা’র লুটায়,
দলে দলে গোপ-রাখাল ব্রজ-দুলাল নাচে তমাল-ছায়।
পুষ্প-মালঞ্চে বনান্তে আনন্দে গোপাল চলে॥
ভাবসন্ধান: কৃষ্ণের বাঁশির মোহন শক্তি এবং তাঁর প্রতি ব্রজবাসীর অকৃত্রিম প্রেম। কৃষ্ণের উপস্থিতি গোকুলের মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে যে আনন্দ, প্রেম ও উন্মাদনা সৃষ্টি করে, গানটি তারই একটি প্রাণবন্ত চিত্র। এখানে কৃষ্ণ শুধু গোকুলের রাখালবালক নন—তিনি ব্রজবাসীর আনন্দের কেন্দ্র এবং প্রেমের আকর্ষণময় অধিপতি।
এই ভাবাদর্শে রচিত এই গানে শ্রীকৃষ্ণের গোকুল-বিহার, তাঁর বাঁশির মোহন সুর এবং সেই সুরে গোপী ও গোপবালকদের প্রেমমুগ্ধ হয়ে ওঠার দৃশ্য আনন্দময়ভাবে ফুটে উঠেছে।
বঙ্কিম ভঙ্গিতে হেলে-দুলে গোকুলের পথে চলেছেন। তাঁর হাতে বাঁশি, আর সেই বাঁশির সুরে গোকুলের পরিবেশ মুখর হয়ে উঠেছে। কৃষ্ণের এই চলন ও বাঁশির সুরে তাঁর স্বাভাবিক সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
কৃষ্ণের বাঁশির সুর শুনে গোপনারীরা নিজেদের স্বজন, সংসার এবং সামাজিক কর্তব্যের কথা ভুলে কৃষ্ণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তাঁদের যৌবন ও মন যেন কৃষ্ণের চরণে সমর্পিত হয়। এখানে ‘পায়ে তা’র লুটায়’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে নয়; এটি কৃষ্ণের প্রতি তাঁদের গভীর প্রেম, আকর্ষণ ও আত্মসমর্পণের রূপক।
অন্যদিকে দলে দলে গোপবালকেরাও তাঁদের প্রিয় ব্রজের দুলাল কৃষ্ণকে ঘিরে আনন্দে নৃত্য করে। তমালগাছের ছায়ায় কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে তাদের এই নৃত্য গোকুলের সরল, স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের ছবি তুলে ধরে।
শেষে কৃষ্ণকে দেখা যায় ফুলে-সজ্জিত বনভূমির মধ্য দিয়ে আনন্দে বিচরণ করতে। প্রকৃতির সৌন্দর্য, গোপ-রাখালদের উচ্ছ্বাস, গোপীদের প্রেম এবং কৃষ্ণের বাঁশির সুর—সব মিলিয়ে গোকুল যেন আনন্দ ও প্রেমের এক অপরূপ লীলাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
এইচএমভি কোম্পানি থেকে ১৯৩৩
খ্রিষ্টাব্দের মে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪০) মাসে এই গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে
তা বাতিল হয়ে যায়। এটি ছিল ৩৩ বৎসর ছিল ১১ মাস অতিক্রান্ত বয়সের গান।