বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
কালানুক্রমিক সংখ্যা: ২৫১
গান সংখ্যা : ১৮২৪
শিরোনাম: দোষ দিয়ো না প্রবীণ জ্ঞানী
        রাগ: ভৈরবী। তাল: আদ্ধা কাওয়ালি
দোষ দিয়ো না প্রবীণ জ্ঞানী হেরি' খারাব শারাব-খোর।
তাহার যে পাপ তারি একার, হয় না লেখা নামে তোর॥
মন্দ ভালো যা হই আমি, তুই করে যা কাজ আপন,
কাট্‌ব তাহাই- যে ফসলের বীজ বুনেছি ক্ষেত্রে মোর॥
হউক মসজিদ হউক মন্দির প্রেমের গতি সবখানেই,
গাইছে একই প্রেমের গীতি- কেউ সজাগ কেউ নেশায় টোর॥
জন্মদিনের ললাট-লেখা হবেই হবে পূর্ণ মোর,
কেউ জানে না পর্দা-আড়ে আলোক না সে আঁধার ঘোর॥
শেয়র : ভেঙেছি দ্বার, ফিরব না আর পুণ্যশালার জেল-খানায়, আদিম পিতা আদামও ত স্বর্গ পেয়ে ছাড়ল তায়।
পুণ্যফলের ভরসা করে কাটিয়ো না কেউ বৃথাই কাল,
তোমার ললাট-লেখার বন্ধু, তুমিই নহ ওয়াকিফ্‌-হাল।
বেহেশ্‌তের ঐ কুঞ্জ-কানন মধুর, তবু হুঁশিয়ার!
ঝাউ-এর ছায়া, তরীর কিনার – তাই নিয়ে থাক্‌ সুখ-বিভোর॥
মরণ-ক্ষণে যদি, হাফিজ, রয় হাতে তোর শারাব-জাম
মলিন ধরা হতে তোরে তুরন্ত্‌ নেবে বেহেশ্‌ত-দোর॥

ভাবসন্ধান: রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাসে প্রকাশিত 'নজরুল গীতিকা' গ্রন্থে গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই  সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩১ বৎসর ৩ মাস।