বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: নামাজ পড়, রোজা রাখ, কল্মা পড় ভাই
নামাজ পড়, রোজা রাখ, কল্মা পড় ভাই।
তোর আখেরের কাজ করে নে, সময় যে আর নাই॥
সম্বল যার আছে হাতে
হজ্বের তরে যা কা'বাতে,
জাকাত দিয়ে বিনিময়ে শাফায়াত যে পাই॥
ফরজ তরক্ ক'রে কর্লি করজ ভবের দেনা,
আল্লাহ ও রসুলের সাথে হ'ল না তোর চেনা।
পরানে রাখ
কোরান বেঁধে,
নবীরে ডাক কেঁদে কেঁদে,
রাত্রি দিন তুই কর্ মোনাজাত- আল্লাহ্ তোমায় চাই॥
- ভাবসন্ধান: গানে একজন মুসলমানের ধর্মীয় কর্তব্য, আত্মশুদ্ধি এবং পরকালীন মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আমল সম্পর্কে আন্তরিক উপদেশ দেওয়া হয়েছে। কবি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী; তাই মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহর নির্দেশ পালন করে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।
গানের শুরুতেই কবি নামাজ, রোজা ও কালিমা পাঠের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, মানুষের প্রকৃত কল্যাণ পরকালের জীবনে নিহিত। তাই দুনিয়ার ব্যস্ততায় ডুবে না থেকে আখিরাতের জন্য সৎকর্ম করা অপরিহার্য। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে; মৃত্যুর আগে আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ করে তোলাই মানুষের প্রধান কর্তব্য।
এরপর কবি ইসলামের আর্থিক ও সামাজিক ইবাদতগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁদের পবিত্র কাবাঘরে হজ পালন করা উচিত এবং সম্পদের নির্ধারিত অংশ জাকাত হিসেবে দান করা উচিত। এর মাধ্যমে মানুষের সম্পদ পবিত্র হয়, দরিদ্রের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হয়। কবি ইঙ্গিত করেছেন যে, এসব ইবাদত পরকালে আল্লাহর রহমত ও সুপারিশ (শাফাআতের) আশা জাগায়।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, মানুষ দুনিয়ার নানা দায়-দেনা ও কর্তব্য পালনে ব্যস্ত থেকেও আল্লাহর ফরজ বিধান পালনে অবহেলা করে। ফলে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রকৃত পরিচয় ও সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়। অর্থাৎ জাগতিক সাফল্য যদি ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে তা প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না।
শেষ স্তবকে কবি হৃদয়ে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ধারণ করতে, মহানবী (সা.)-কে ভালোবাসা ও অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর পথে চলতে এবং দিন-রাত বিনম্রভাবে মোনাজাত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের একমাত্র চাওয়া হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য। আন্তরিক দোয়া, ইবাদত এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতাই মানুষকে প্রকৃত শান্তি ও মুক্তির পথে পরিচালিত করে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৪৫)
মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির
প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর ৫ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮।
ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৫৫৭ গান।
-
রেকর্ড: টুইন [নভেম্বর ১৯৩৮ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৪৫)। এফটি ১২৫৯৭। শিল্পী:
আশরাফ আলী ]
- পত্রিকা: মোয়াজ্জিন [জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৬ (মে-জুন ১৯৩৯)]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: নীলিমা দাস।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, ঊনত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। শ্রাবণ ১৪১৩/আগষ্ট
২০০৬] ২০ সংখ্যক গান। আশরাফ আলী-র রেকর্ডে গাওয়া গান অনুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামী গান। ধর্মাঙ্গ।
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য