বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
কালানুক্রমিক সংখ্যা: ৮০
নজরুল সংগ্রহ: ১৮২৬
শিরোনাম: আমরা শক্তি আমরা বল, আমরা ছাত্রদল


                 তাল : লোফা
        
আমরা শক্তি আমরা বল, আমরা ছাত্রদল।
মোদের  পায়ের তলায় মূর্ছে তুফান
            ঊর্ধ্বে বিমান ঝড় বাদল!
                                            আমরা ছাত্রদল॥
মোদের  আঁধার রাতে বাধার পথে যাত্রা নাঙ্গা পায়,
 আমরা  শক্ত মাটি রক্তে রাঙাই বিষম চলার ঘায়!
            যুগে যুগে রক্তে মোদের সিক্ত হল পৃথ্বীতল।
                                            আমরা ছাত্রদল॥
মোদের  কক্ষচ্যুত ধূমকেতু-প্রায় লক্ষ্যহারা প্রাণ,
 আমরা  ভাগ্যদেবীর যজ্ঞবেদীর নিত্য বলিদান।
   যখন  লক্ষ্মীদেবী স্বর্গে উঠেন আমরা পশি নীল অতল।
                                            আমরা ছাত্রদল॥
            আমরা ধরি মৃত্যু রাজার যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,
            মোদের মৃত্যু লেখে মোদের জীবন-ইতিহাস।
            হাসির দেশে আমরা আনি সর্বনাশী চোখের জল।
                                            আমরা ছাত্রদল॥
            সবাই যখন বুদ্ধি যোগায়, আমরা করি ভুল।
            সাবধানীরা বাঁধ বাঁধে সব, আমরা ভাঙি কূল।
            দারুণ রাতে আমরা তরুণ রক্তে করি পথ পিছিল।
                                            আমরা ছাত্রদল॥
মোদের  চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল বক্ষে ভরা বাক্,
           কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠা-বিহীন নিত্য-কালের ডাক।
 আমরা  তাজা খুনে লাল করেছি সরস্বতীর শ্বেত-কমল।
                                            আমরা ছাত্রদল॥
      ঐ  দারুণ উপপ্লবের দিনে আমরা দানি শির,
           মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে বিংশ-শতাব্দীর!
  মোরা  গৌরবেরি কান্না দিয়ে ভরেছি মা'র শ্যাম আঁচল।
                                            আমরা ছাত্রদল॥
           আমরা রচি ভালোবাসার আশার ভবিষ্যৎ,
মোদের  স্বর্গ-পথের আভাস দেখায় আকাশ-ছায়াপথ!
            মোদের চোখে বিশ্ববাসীর স্বপ্ন দেখা হোক সফল।
                                            আমরা ছাত্রদল॥

ভাবসন্ধান:
৩. রচনাকাল ও স্থান : ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে গানটি নজরুলের প্রকাশিত 'সর্বহারা' নামক কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছিল। গানটির নিচে রচনার সময় এবং স্থান উল্লেখ আছে- কৃষ্ণনগর, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৩। উল্লেখ্য' মে মাসে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে 'ছাত্র ও যুব-সম্মলেনের' অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সঙ্গীত হিসেবে কবি স্বকণ্ঠে এই গানটি পরিবেশন করেন। ধারণা করা হয়, 'ছাত্র ও যুব-সম্মলেনের' জন্য কবি এই গানটি রচনা করেছিলেন।