বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
কালানুক্রমিক সংখ্যা: ৮১
নজরুল সংগ্রহ:  ৬৭১
শিরোনাম: দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার হে

       
রাগ: বৃহন্নট-কেদারা, তাল: একতাল
দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার হে!
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার॥
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ —
ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মত।
কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত,
এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার॥
তিমির রাত্রি, মাতৃ-মন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার॥
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ,
কাণ্ডারি, আজি দেখিব তোমার মাতৃ-মুক্তি-পণ।
'হিন্দু না ওরা মুসলিম' — ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন,
কাণ্ডারি, বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র॥
গিরি-সঙ্কট, ভীরু যাত্রীরা, গুরু গরজায় বাজ —
পশ্চাৎ পথ যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ।
কাণ্ডারি, তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ মাঝ?
করে হানাহানি, তবু চল টানি' — নিয়েছ যে মহাভার॥
ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান —
আসি' অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান !
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ,
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কাণ্ডারি হুঁশিয়ার॥
রচনাকাল: ২ এপ্রিল ১৯২৬ থেকে ১৮ই মে ১৯২৬ পর্যন্ত কলকাতায় যে দাঙ্গা হয়, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং সতর্কবার্তা-স্বরূপ 'কাণ্ডারী হুঁসিয়ার' শিরোনামে কবি এই গান রচনা করেছিলেন। ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে গানটি নজরুলের প্রকাশিত 'সর্বহারা' নামক কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছিল। গানটির নিচে রচনার সময় এবং স্থান উল্লেখ আছে- কৃষ্ণনগর, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৩। গানটি রচিত হয়েছিল নজরুলের ২৬ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের শেষের দিকে।
‌