মর্ম্মবাণী
বাংলা সাপ্তাহিক
সাহিত্য পত্রিকা। নাটোরের মহারাজ জগন্দ্রিনাথের
উদ্যোগে এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। সুবোধচন্দ্র
দত্ত,
অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ ও জগদিন্দ্রনাথের
সিদ্ধান্ত অনুসারে, এই পত্রিকার নাম রাখা হয় 'মর্ম্মবাণী'।
শ্রীমানি বাজারের সামনে দোতলা থেকে, বৃহস্পতিবার, ১৩ শ্রাবণ ১৩২২
বঙ্গাব্দে
এই পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
পত্রিকাটির কার্যকরী পরিষদ :
সম্পাদক : জগদিন্দ্রনাথ ও অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ
সহকারী সম্পাদক : হেমেন্দ্রকুমার রায়
কার্য্যাধ্যক্ষ : বাণীনাথ নন্দী
১৩ শ্রাবণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩ মাঘ ১৩২২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত এই পত্রিকার মোট ২৫টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। নানা কারণে এই পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। পরে গোয়াতে বসবাসরত জগদিন্দ্রনাথ এর সমুদয় ঋণ পরিশোধ করেন। এবং শেষ পর্যন্ত এই পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এই পত্রিকাটি 'মানসী' নামক অপর একটি মাসিক পত্রিকার সাথে যুক্ত হয়ে নূতনভাবে প্রকাশিত হয়। তখন তার নাম হয়- 'মানসী ও মর্ম্মবাণী'। উল্লেখ্য মানসী'র ৮ম বর্ষ ১ম সংখ্যা (১৩২২-২৩ বঙ্গাব্দ) থেকে 'মর্ম্মবাণী'র সাথে যুক্ত হয়ে 'মানসী ও মর্ম্মবাণী' নামে প্রকাশিত হতে শুরু করে। [দেখুন : মানসী, মানসী ও মর্মবাণী]
বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। এই পত্রিকার জন্ম হয়েছিল একটি সাহিত্য-আড্ডায়। কলকাতার চৌরঙ্গীর ফটোগ্রাফির দোকান 'হপসিং কোম্পানি'তে এই আড্ডা বসতো। এই আড্ডায় হপসিং কোম্পানির ম্যানেজার সুবোধচন্দ্র দত্ত এবং কেলনার কোম্পানির কর্মী ফকিরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এবং পত্রিকা প্রকাশের জন্য চাঁদা ধরা হয় মাসিক ২ টাকা। অবশেষে পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে গৃহীত হলে- এর নাম রাখা হয় 'মানসী'। প্রথমাবস্থায় পত্রিকাটির লেখা সংগ্রহের জন্য ফকিরচাঁদ ও সুবোধচন্দ্র- রবীন্দ্রনাথের কাছে গেলে, রবীন্দ্রনাথ অর্থ এবং লেখকের অভাব দেখিয়ে তাঁদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এঁদের উৎসাহের জোর দেখে রবীন্দ্রনাথ তাঁদের সাহায্য করতে সম্মত হন। প্রথমাবস্থায় এই পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে হয়েছিলেন- ফকিরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুবোধচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ও শিবরতন মিত্র। পরে এই সম্পাদকমণ্ডলীতে ইন্দুপ্রকাশ বন্দোপাধ্যায়কে নেওয়া হয়- রবীন্দ্রনাথের পরামর্শে। ১৩১৫ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর শিবরতন মিত্র কলকাতা থেকে অন্যত্র চলে গেলে, সম্পাদকমণ্ডলীতে আসেন যতীনন্দ্রমোহন বাগচী। উল্লেখ্য এই পত্রিকার কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন-সুবোধচন্দ্র দত্ত।
এই পত্রিকারটির প্রকাশ-স্থানের কোনো স্থিরতা ছিল না। যেমন পত্রিকাটির প্রথম বর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যা হাওড়া কর্ম্মযোগ প্রিন্টিং ওয়ার্কস থেকে ছাপা হতো। তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয় কলকাতার ৭৭নং পটলডাঙ্গা স্ত্রীট জয়ন্তী প্রেস থেকে। এর প্রিন্টার ছিলেন কে.পি. চক্রবর্তী। ৪র্থ সংখ্যা কলকাতার ১১/৫ করায়াবাজার রোড, সান্টো প্রেসে ছাপা হয়েছিল। প্রিন্টার ছিলেন এস. এল. সাহা।
সম্পাদকমণ্ডলীর কর্মকর্তাদের শৈথিল্যের কারণে, পত্রিকাটি তাঁর মান হারাতে বসলে, ১৩২০ খ্রিষ্টাব্দে নাটোরের মহারাজা জগদ্রিনাথ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পত্রিকাটির ৮ম বর্ষ ১ম সংখ্যা (১৩২২-২৩ বঙ্গাব্দ) থেকে এই পত্রিকাটি সাপ্তাহিক 'মম্মবাণী'র সাথে যুক্ত হয়ে 'মানসী ও মম্মবাণী' নামে প্রকাশিত হতে শুরু করে।
১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে মানসী'র মুদ্রিত কপির সংখ্যা ছিল ১২০০।
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত কপির সংখ্যা ছিল ৫০০০।
১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত কপির সংখ্যা ছিল ৭০০০।
১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত
কপির সংখ্যা ছিল ৭৫০০।
বাংলা মাসিক
সাহিত্য পত্রিকা। মাসিক 'মানসী' ও সাপ্তাহিক 'মম্মবাণী' পত্রিকা
দুটি একত্রিত হয়ে প্রকাশিত হলে- পত্রিকাটির
নামকরণ করা হয় 'মানসী ও মম্মবাণী'। উল্লেখ্য মানসীর ৮ম বর্ষ ১ম সংখ্যা (১৩২২-২৩
বঙ্গাব্দ)
থেকে এই পত্রিকাটি সাপ্তাহিক 'মম্মবাণী'র সাথে যুক্ত হয়েছিল। এই সময় পর্যন্ত
'মম্মবাণী'র মোট ২৫টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় 'মানসী'র সম্পাদক
ছিলেন জগদ্রিনাথ রায়, এবং 'মম্মবাণী'র সম্পাদক ছিলেন জগদ্রিনাথ রায় ও অমূল্যচরণ
বিদ্যাভূষণ। এবারের 'মানসী ও মর্ম্মবাণী'র সম্পাদক
হলেন- জগদ্রিনাথ রায় ও প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়। ১৩৩৩
বঙ্গাব্দের
আষাঢ়
সংখ্যা পর্যন্ত প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় এককভাবে সম্পাদক
হিসাবে পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৩৩
বঙ্গাব্দের
শ্রাবণ সংখ্যা থেকে ১৩৩৬
বঙ্গাব্দ
পর্যন্ত প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের সাথে যুগ্ম-সম্পাদক
ছিলেন যোগীনন্দ্রনাথ
রায়। উল্লেখ্য অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। উল্লেখ্য ১৯২৮
খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত
কপির সংখ্যা ছিল ৫০০০।
মানসী পত্রিকায় প্রকাশিত গানের তালিকা