বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত
শিরোনাম: < অজানা খনির নূতন মণির গেঁথেছি হার
পাঠ ও পাঠভেদ:
- গীতবিতান (বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২)-এর পাঠ:
প্রেম: (উপ-বিভাগ :
প্রেমবৈচিত্র্য: -১৩) পর্যায়ের ৪০ সংখ্যক গান।
অজানা খনির নূতন মণির গেঁথেছি হার,
ক্লান্তিবিহীনা
নবীনা বীণায় বেঁধেছি তার॥
যেমন নূতন বনের
দুকূল, যেমন নূতন আমের মুকুল,
মা ঘের অরুণে খোলে স্বর্গের নূতন
দ্বার,
তেমনি আমার নবীন রাগের নব যৌবনে নব সোহাগের
রাগিণী রচিয়া উঠিল নাচিয়া বীণার
তার ॥
যে বাণী আমার কখনো কারেও হয় নি বলা
তাই দিয়ে গানে রচিব নূতন
নৃত্যকলা।
আজি
অকারণ বাতাসে বাতাসে যুগান্তরের সুর ভেসে আসে,
মর্মরস্বরে বনের ঘুচিল মনের ভার।
যেমনি ভাঙিল বাণীর বন্ধ উচ্ছ্বসি উঠে নূতন ছন্দ,
সুরের সাহসে আপনি চকিত বীণার তার ॥
Ms.127
[নমুনা
প্রথমাংশ
শেষাংশ]
তথ্যানুসন্ধান
- ক.
রচনাকাল ও স্থান: পাণ্ডুলিপি
Ms.127
-তে
গানটির রচনাকাল
রয়েছে ২৭শে শ্রাবণ ১৩৩৫।
এই সময় রবীন্দ্রনাথের
বয়স ছিল ৬৭ বৎসর ৪ মাস বয়স।
উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতায়
সুরারোপ করার প্রতি বিশেষ আগ্রহের সূত্রে মহুয়া কাব্যের নিবেদন কবিতাটা গানে পরিণত
হয়েছিল। শান্তিদেব ঘোষ এ প্রসঙ্গে তাঁর 'রবীন্দ্রসঙ্গীত' গ্রন্থের 'কাব্যগীতি'
অধ্যায়ে লিখেছেন- '১৩৪০ সালে ফাল্গুন মাসে বড়ো কবিতায় সুর দেবার বিশেষ ঝোঁক তাঁর
মনে দেখা দিয়েছিল। এই মাসের শেষ সপ্তাহে একটানা '
মহুয়া'র
সাতটি কবিতায় সুর-যোজনা করেন। কীর্তনের সুরে 'আজি এ নিরালা কুঞ্জে' মিশ্র পরজ,
বসন্ত-ভৈরবী সুরে 'অজানা খনির নূতন মণির গেঁথেছি হার'।
ভাবগত ঐক্য এবং সুরের বৈশিষ্ট্য বিচার
করে, শান্তিদেব ঘোষ ওই একই গ্রন্থে লিখেছেন- '....ভাবগত ঐক্য দেখি
'
মহুয়া'র
'অজানা খনির নূতন মণির গেঁথেছি হার' গানটির সঙ্গে 'কাহার গলায় পরাবি গানের রতনহার'
গানটির। মহুয়া'র
কবিতাটি যে রাগিণীতে গঠিত, 'কাহার
গলায় পরাবি'তে সে রাগিণী বসে নি, এখানে আছে ভৈরবী, 'অজানা খনির নূতন মণির গেঁথেছি
হার' গানটিতেও সুরযোজনায় বিদেশী আদর্শের ছাপ লক্ষ করি।'
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
- গ্রন্থ:
- পত্রিকা:
- ভারতবর্ষ
(ভাদ্র ১৩৪১)।
শান্তিদেব ঘোষ
কৃত স্বরলিপিসহ প্রকাশিত হয়েছিল।
গ. সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
- স্বরলিপি:
[নমুনা]
- স্বরলিপিকার:
শান্তিদেব ঘোষ
।
[শান্তিদেব
ঘোষ-কৃত রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]
- সুর
ও তাল:
-
স্বরবিতান চতুঃপঞ্চাশত্তম
খণ্ডে ( চৈত্র
১৪১৩ ) এ
গৃহীত স্বরলিপিতে রাগ-তালের উল্লেখ নেই । উক্ত স্বরলিপিটি
৩ । ৩
মাত্রা ছন্দে '
দাদর
া
' তালে নিবদ্ধ।
[দাদরা
তালে নিবদ্ধ রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]
- শান্তিদেব ঘোষ তাঁর 'রবীন্দ্রসঙ্গীত' গ্রন্থে এই গানটির রাগ হিসাবে -'বসন্ত-ভৈরবী'
উল্লেখ করেছেন।
- রাগ : মিশ্র কালাংড়া
রাগ-বহির্ভূত সুর হিসেবে কোমল নিষাদ প্রযুক্ত হয়েছে। [রবীন্দ্রসঙ্গীতে
রাগ-নির্ণয়। ভি.ভি. ওয়াঝলওয়ার। রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গান । সংগীত-শিক্ষায়তন। বৈশাখ ১৩৯০। পৃষ্ঠা : ৭৭]
- রাগ: পরজ-সোহিনী। তাল: দাদরা।
[রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস, ডিসেম্বর
২০০৩। পৃষ্ঠা: ২৩]
- রাগ: ভৈরব, ভৈরবী। তাল:
দাদরা। [রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত। প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি, জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা: ৪৬।
- গ্রহস্বর: ।
- লয়: ঈষৎ দ্রুত
।
>/li>