বিষয়: রবীন্দ্রসঙ্গীত।
শিরোনাম:
অরূপবীণা রূপের আড়ালে লুকিয়ে বাজে
পাঠ ও পাঠভেদ:
- গীতবিতান অখণ্ড (বিশ্বভারতী,
কার্তিক ১৪১২)-এর
পূজা
পর্যায়ের ৩৪৭ সংখ্যক গান। উপবিভাগ
বিশ্ব
১৪:
অরূপবীণা
রূপের আড়ালে লুকিয়ে বাজে,
সে বীণা আজি উঠিল
বাজি হৃদয়মাঝে
॥
ভুবন আমার ভরিল সুরে,
ভেদ ঘুচে যায় নিকটে দূরে,
সেই রাগিণী লেগেছে আমার
সকল কাজে ॥
হাতে-পাওয়ার চোখে-চাওয়ার সকল বাঁধন
গেল কেটে আজ,
সফল হল সকল কাঁদন।
সুরের রসে হারিয়ে যাওয়া সেই তো দেখা,
সেই তো পাওয়া—
বিরহ মিলন
মিলে গেল আজ সমান সাজে
॥
-
তথ্যসন্ধান:
- রচনাকাল ও স্থান: এই গানটি রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায়। ১৩২৬
বঙ্গাব্দে রবীন্দ্রনাথ 'রাজা' নাটককে অভিনয়যোগ্য করার উদ্যোগ
নেন এবং এই সূত্রে তিনি রচনা করেন অরূপরতন । এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল
১৩২৬ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে। এই গ্রন্থে
রবীন্দ্রনাথ এই গানটি-সহ মোট ৮টি নতুন গান যুক্ত করেছিলেন। সঙ্গত কারণেই ধারণা করা হয়,
এই গানগুলো তিনি রচনা করেছিলেন ১৩২৬ বঙ্গাব্দের মাঘের মাসের আগে। এই সময়
রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ৫৮ বৎসর।
[
রবীন্দ্রনাথের ৫৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে রচিত গানের তালিকা]
- প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
- গ্রন্থ
- অরূপরতন
-
গীতবিতান
-
অখণ্ড সংস্করণ, তৃতীয় সংস্করণ
(বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২) পর্যায়:
পূজা
৩৪৭,
উপবিভাগ:
বিশ্ব ১৪।
-
শাপমোচন
-
[১৩৩৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ সংখ্যক গান।
পৃষ্ঠা ২৬] [নমুনা]
উল্লেখ্য, রবীন্দ্রজয়ন্তী
ছাত্র-ছাত্রী উৎসব পরিষদ কর্তৃক শাপমোচন অভিনীত হয়
১৫
ও ১৬
পৌষ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) রাত্রে
জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে উক্ত উৎসবে
অভিনীত
শাপমোচনে গানটি গৃহীত হয়েছিল। পরে গানটি শাপমোচন থেকে
বর্জিত হয়।
-
স্বরবিতান দ্বিচত্বারিংশ (৪২,
অরূপরতন) খণ্ডের ৪৫ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ১২৭-১২৮।
[নমুনা]
- রেকর্ড সূত্র:
১৯৩৬ থেকে ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে গ্রামোফোন রেকর্ড (এইচ.এম.ভি
ও কলাম্বিয়া) এই গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। শিল্পী ছিলেন কনক দাশ (বিশ্বাস)।
রেকর্ড নম্বর
P 11818।
- প্রকাশের কালানুক্রম:
১৩২৬ বঙ্গাব্দে গানটি প্রকাশিত হয়েছিল
'অরূপরতন' নাটকে
অন্তর্ভুক্ত হয়ে।
১৩৩৮ বঙ্গাব্দের
১৫ ও ১৬
পৌষ রাত্রি বেলায়, জোড়াসাঁকোর
ঠাকুর বাড়িতে-
রবীন্দ্রজয়ন্তী
ছাত্র-ছাত্রী উৎসব পরিষদ কর্তৃক শাপমোচন অভিনীত হয়। উক্ত উৎসবে
অভিনীত
শাপমোচনে গানটি
ছিল। এই অভিনয় উপলক্ষে প্রকাশিত নাট্যপত্রে গানটি মুদ্রিত
হয়েছিল।
এরপর গানটি ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত
গীতবিতানের
দ্বিতীয় খণ্ড প্রথম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
এরপর ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত
প্রথম খণ্ড,
দ্বিতীয় সংস্করণে
পূজা পর্যায়ের
বিশ্ব
উপবিভাগের ১৪ সংখ্যক গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
এরপর ১৩৭১
বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে প্রকাশিত অখণ্ড গীতবিতানের
পূজা
পর্যায়ের ৩৪৭
সংখ্যক গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
- স্বরলিপিকার:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ:
পূজা
(বিশ্ব)।
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্টের গান।
- রাগ:
-
কালাংড়া।
[রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস,
ডিসেম্বর ২০০৬ । পৃষ্ঠা:
২৪]।
-
ছায়ানট।
[রাগ-রাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত।
প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি,
জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা:
৪৭।
- তাল:
- স্বরবিতান-৪২'এ
গৃহীত গানটির স্বরলিপিতে রাগ-তালের উল্লেখ
নেই। উক্ত
স্বরলিপিতে ছন্দোবিভাজন
দেখানো হয়েছে, ৪।৪ ছন্দ ; অর্থাৎ
গানটি 'কাহারবা'
তালে নিবদ্ধ।
-
দাদরা।
[রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর
নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬ । পৃষ্ঠা:
২৪।]
-
কাহারবা।
[রাগ-রাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত।
প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি,
জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা:
৪৭।]
- গ্রহস্বর:
মা।
- লয়:
মধ্য।