বিষয়: রবীন্দ্রসঙ্গীত।
শিরোনাম: শূন্য হাতে ফিরি,
হে নাথ ও পথে পথে
পাঠ ও পাঠভেদ:
- গীতবিতান অখণ্ড ( বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২ )-এর
পূজা
পর্যায়ের ৪০০ সংখ্যক গান। উপবিভাগ
বিবিধ
২৮:
শূন্য হাতে ফিরি, হে নাথ, পথে পথে— ফিরি হে দ্বারে
দ্বারে—
চিরভিখারি হৃদি মম নিশিদিন চাহে কারে॥
চিত্ত না শান্তি জানে, তৃষ্ণা না তৃপ্তি মানে—
যাহা পাই তাই হারাই, ভাসি অশ্রুধারে ॥
সকল যাত্রী চলি গেল, বহি গেল সব বেলা,
আসে তিমিরযামিনী, ভাঙিয়া গেল মেলা—
কত পথ আছে বাকি, যাব চলি ভিক্ষা রাখি,
কোথা জ্বলে গৃহপ্রদীপ কোন্ সিন্ধুপারে ॥
- তথ্যসন্ধান:
- পাঠভেদ: স্বরবিতান-৪-এর ১৪১ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত পাঠানুসারে
নিচের পাঠভেদ দেখানো হলো।
যাব চলি ভিক্ষা রাখি
: ব্রহ্মসঙ্গীত-স্বরলিপি ১ (মাঘ ১৩১১)
যাবো চলে' ভিক্ষা রাখি' : গীতবিতান (আশ্বিন ১৩৩৮)
স্বরবিতান ৪ (চৈত্র ১৩৪৬)
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির সুনির্দিষ্ট রচনাকাল পাওয়া যায় না। ১৩০৯ বঙ্গাব্দের ১১ মাঘ [২৫
জানুয়ারি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ] ত্রিসপ্ততিতম
(মাঘোৎসব
৭৩) সাংবৎসরিক
মাঘোৎসবের সন্ধ্যার অধিবেশনে
অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবের ২৩টি গানের ভিতরে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভিতরে এই
গানটিসহ ১২টি গান ছিল নতুন। এই সময়ে রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ৪১ বৎসর।
প্রশান্তকুমার পাল তাঁর রবিজীবনী পঞ্চম খণ্ড (আনন্দ পাবলিশার্স, ১৪১৪
মুদ্রণ, পৃষ্ঠা: ১০৬)-এ এই সময়ের লিখিত গানগুলোর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে
লিখেছেন- গান-নির্বাচনে রবীন্দ্রনাথের সমকালীন মানসিকতাই প্রতিফলিত,
মৃণালিনী দেবীর অকালমৃত্যু-জনিত সন্তাপ অধিকাংশ গানেই ধ্বনিত হয়েছে।
[রবীন্দ্রনাথের
৪১ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে রচিত গানের তালিকা]
- প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
- পত্রিকা:
- উৎসব: ১৩০৯ বঙ্গাব্দের ১১ মাঘ
[২৫ জানুয়ারি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ] ত্রিসপ্ততিতম সাংবৎসরিক (মাঘোৎসব
৭৩)
মাঘোৎসবের
সন্ধ্যার অধিবেশনে
এই গানটি
পরিবেশিত হয়।
- প্রকাশের কালানুক্রম: ১৩০৯ বঙ্গাব্দের ১১ মাঘ [২৫ জানুয়ারি
১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ] ত্রিসপ্ততিতম সাংবৎসরিক (মাঘোৎসব
৭৩)
মাঘোৎসবের সন্ধ্যার অধিবেশনে
এই গানটি প্রথম
পরিবেশিত হয়।
এরপর
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার 'ফাল্গুন ১৩০৯
বঙ্গাব্দ' সংখ্যায়
গানটি
প্রথম প্রকাশিত
হয়েছিল। এরপর যে সকল গ্রন্থাদিতে
অন্তর্ভুক্ত হয়ে গানটি প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো হলো-
কাব্যগ্রন্থ
অষ্টম খণ্ড
(১৩১০ বঙ্গাব্দ),
ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি প্রথম ভাগ (১ মাঘ ১৩১১ বঙ্গাব্দ),
গান
প্রথম সংস্করণ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ),
গান
দ্বিতীয় সংস্করণ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ),
ধর্ম্মসঙ্গীত (১৩২১ বঙ্গাব্দ) ও
কাব্যগ্রন্থ
দশম খণ্ড (১৩২৩ বঙ্গাব্দ)।
এরপর গানটি
গীতবিতানের
প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) গানটি প্রথম
অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত
প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণে
পূজা
পর্যায়ের
বিবিধ উপবিভাগের ২৮
সংখ্যক গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এরপর ১৩৭১ বঙ্গাব্দের আশ্বিন
মাসে প্রকাশিত অখণ্ড গীতবিতানের
পূজা
পর্যায়ের
৪০০
সংখ্যক গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
- সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
- স্বরলিপিকার:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ:
পূজা (বিবিধ)।
ব্রহ্মসঙ্গীত।
- সুরাঙ্গ: ধ্রুপদাঙ্গ।
-
এটি একটি
ভাঙা গান।
মূল গান : কাফি-সুরফাঁক্তা। (মধ্যগতি)
রুম ঝুম বরখে আজু বাদরবা পিয়া বিদেশে মোরি,
থরথরাত ছতিয়া ন দিশ দিন মন ভাবে ॥
নৈন ন নীঁদ আবে দামিনী দমক লাগে,
উন বিন কল ন পরত নাথ নাথ ধাবে ॥
রহো ন জাত ঘরি পল ছিন তন দহে মোরি,
আবে মদন মাসন জুঝ সময় পাবে।
নিকসত নাহি প্রাণ হো রহী চিত পাখান,
তাপর করত ধ্যান তান বরষ গাবে ॥
সঙ্গীত মঞ্জরী।রবীন্দ্রসঙ্গীত ২ ; তানবরষ
রবীন্দ্রসঙ্গীত-গবেষণা-গ্রন্থমালা ৩য় খণ্ড/প্রফুল্লকুমার দাস। পৃষ্ঠা
৩৫।
উল্লেখ্য, যদুভট্টের কাছে উল্লিখিত মূল গানটি শুনে দ্বিজেন্দ্রনাথ
ঠাকুর একটি গান রচনা করেছিলেন। গানটি হলো-
দীন হীন ভকতে, নাথ, কর দয়া
[তথ্য]
আরও পরে একই সুরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা
করেছিলেন একটি গান। গানটি হলো
—
তুমি যে ভরসা মম। [তথ্য]
- রাগ:
কাফি।
- গ্রহস্বর:
মজ্ঞা।
- লয়: মধ্য।