২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ (গ্রেগরীয় বর্ষাপঞ্জী)
৮ ফাল্গুন, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ (বাংলা পঞ্জিকা)
২৬ জিলহজ, ১৩৯০ হিজরী
রবিবার
সূর্যোদয়: ঢাকা- ভোর ৬:৩২ মিনিট (প্রায়)
সূর্যাস্ত: ঢাকা- সন্ধ্যা ৫:৫৮ মিনিটে (প্রায়)
বাংলাদেশের -এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলি
১. মহান শহিদ দিবস ও নতুন শপথ:
এবার ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়েছিল এক চরম উত্তপ্ত ও ক্রান্তিলগ্নে।
এদিন ভোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার সংগ্রামে র
রূপরেখা তৈরি করেছিল । শহিদ মিনারে সমবেত ছাত্র-জনতা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বানচালের সব চক্রান্ত রুখে দেওয়ার এবং বাঙালির ছয় দফার ম্যান্ডেট রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের শপথ গ্রহণ করেন।
২.
আন্দোলনের রূপরেখা:
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে অঙ্গীকার করা হয় যে, ৩ মার্চের অধিবেশনে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। ভুট্টোর বয়কটের প্রতিবাদ এবং সামরিক জান্তার টালবাহানার বিরুদ্ধে সারা দিন শহরজুড়ে ছোট-বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি মিছিলে কেবল বায়ান্নর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং আসন্ন চূড়ান্ত সংগ্রামের প্রস্তুতিও স্পষ্ট ছিল।
৩.রাজনৈতিক উদ্বেগ:
পাকিস্তান সামরিক জান্তার রহস্যজনক নীরবতা এবং পিপিপির অনমনীয় মনোভাবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর বাসভবনে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে কাজ করছেন। দেশজুড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক কঠিন পরীক্ষার সামনে।
সমসাময়িক বিশ্ব্ব
- উগান্ডা:
ইদি আমিনের সামরিক শাসনে উগান্ডায় দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও আমিন তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-
যুক্তরাজ্য: ডাক ধর্মঘট অব্যাহত। ব্রিটিশ যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থবিরতা কাটাতে সরকার ও ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে আরও বেশি ঝুঁকছে।
-
উপসাগরীয় যুদ্ধ (৩৭তম দিন): জোট বাহিনীর বিমান হামলা ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অব্যাহত। কুয়েতের পরিবেশগত বিপর্যয় রুখতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে তেলক্ষেত্রের আগুন নেভানোর প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টাগুলো যুদ্ধের ডামাডোলের কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব (ইতিহাসের এই দিনে)
- ১৯৫২: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জনতা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছিল। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা, যা বিশ্বের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
- ১৮৪৮: কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস তাদের যুগান্তকারী রাজনৈতিক নথি 'কমিউনিস্ট ইশতেহার' প্রকাশ করেন, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।
জন্ম
- ১৮৮৮—জর্জ ভ্যান বিসব্রুক (বেলজিয়ান-মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী)
-
১৯২৪—রবার্ট মুগাবে (জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট)।
মৃত্যু
- ১৬৭৭—বারুখ স্পিনোজা (বিখ্যাত ডাচ দার্শনিক)
- ১৯৭২—ব্রোনিস্লাভ গেরেমক (পোলিশ ইতিহাসবিদ)।
সূত্র:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র:
- বিভিন্ন পত্রপত্রিকা