২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ (গ্রেগরীয় বর্ষাপঞ্জী)
৯ ফাল্গুন, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ (বাংলা পঞ্জিকা)
২৭ জিলহজ, ১৩৯০ হিজরী
সোমবার

সূর্যোদয়: ঢাকা- ভোর ৬:৩১ মিনিট (প্রায়)
সূর্যাস্ত: ঢাকা- সন্ধ্যা ৫:৫৯ মিনিটে (প্রায়)

বাংলাদেশের -এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলি
১. সামরিক জান্তার গোপন বৈঠক ও তৎপরতা: ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বানচালের জন্য পাকিস্তান সামরিক জান্তা যে এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খান তাঁর সামরিক উপদেষ্টাদের সাথে এক গোপন বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকের বিষয় ছিল- এই সময় পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি লেফট্যান্ট জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের ভাইস এডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ আহসান, পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের উপর সামরিক হামলার বিরোধিতা করেন।

এই বৈঠকের বিষয়টি সম্পর্কে বিষয়টি গুজবের মতো ছড়িয়ে পরলে, রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের ভিতরে এই ধারণা জন্মে যে. সরকার সম্ভবত অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার বা অন্য কোনো অশুভ পথ বেছে নেওয়ার চিন্তা করছে। 

২. আওয়ামী লীগের হুঁশিয়ারি: বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে আজ ফের আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পিপিপির অসহযোগিতামূলক মনোভাব এবং সামরিক বাহিনীর সন্দেহজনক তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, গণতন্ত্রের পথে কোনো প্রকার বাধার সৃষ্টি করা হলে বাঙালি জাতি তা রুখে দেবে। আওয়ামী লীগ তাদের লক্ষ্য ও আদর্শে অবিচল থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

৩.ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রস্তুতি:
অমর একুশের শহীদ দিবসের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় পাড়ায় পাড়ায় ছোট ছোট ঘরোয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে আসন্ন কঠোর সংগ্রামের জন্য কর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও দৃঢ়তার কোনো কমতি নেই।

সমসাময়িক বিশ্ব্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব (ইতিহাসের এই দিনে) জন্ম মৃত্যু
সূত্র: