১৭ জানুয়ারি, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ (গ্রেগরীয় বর্ষাপঞ্জী)
৩ মাঘ, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ (বাংলা পঞ্জিকা)
১৯ জিলকদ, ১৩৯০ হিজরী
রবিবার
সূর্যোদয়: ঢাকা- ভোর ৬:৪৫ মিনিট (প্রায়)
সূর্যাস্ত: ঢাকা- সন্ধ্যা ৫:৩৮ মিনিটে (প্রায়)
বাংলাদেশের -এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলি
১.লারকানা ষড়যন্ত্রের সূচনা: এদিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল
ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানায় জুলফিকার আলী ভুট্টোর
বাসভবন 'আল-মুর্তজা'-তে পৌঁছান। ইতিহাসে এটি 'লারকানা ষড়যন্ত্র' নামে পরিচিত।
সেখানে ইয়াহিয়া ও ভুট্টো দীর্ঘ সময় ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ধারণা করা হয়, এই
বৈঠকেই বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের নীল
নকশা চূড়ান্ত করা শুরু হয়।
২. বঙ্গবন্ধুর গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা:
ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদিনও দলীয় নেতাদের সাথে সাংগঠনিক বৈঠক করেন। তিনি গ্রাম পর্যায়ে আওয়ামী লীগের দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। যদিও ইয়াহিয়ার পক্ষ থেকে তাঁকে 'হবু প্রধানমন্ত্রী' বলা হয়েছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধু লারকানা বৈঠকের খবর পেয়ে কিছুটা সন্দিহান হয়ে ওঠেন এবং নেতা-কর্মীদের চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।
৩. জনগণের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ:
লারকানায় ইয়াহিয়া-ভুট্টো বৈঠকের খবর পূর্ব বাংলায় পৌঁছালে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মানুষ বুঝতে পারে যে, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের রায় বানচাল করার জন্য নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমসাময়িক বিশ্ব্ব
এদিন ক্যালিফোর্নিয়ায় ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী এক বিশাল ছাত্র সমাবেশ থেকে
নিক্সন প্রশাসনের সামরিক নীতির তীব্র সমালোচনা করা হয়।
ফিলিপাইন:
প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস দেশে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা দমনে সামরিক
আইন (Martial Law) জারির প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন।
আফ্রিকা:
উগান্ডায় সামরিক বাহিনীর ভেতরে অভ্যুত্থানের গুঞ্জন শোনা যেতে থাকে (যা
পরবর্তীতে ইদি আমিনের ক্ষমতা দখলের পথ প্রশস্ত করে)।
উপসাগরীয় যুদ্ধের শুরু: ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ২ আগস্ট
ইরাকের প্রেসিডেন্টড সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইরাকি বাহিনী কুয়েত আক্রমণ করে
দখল করে নেয়। এবং দেশটিকে ইরাকের ১৯তম প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইরাককে কুয়েত ছেড়ে যাওয়ার জন্য ১৫ জানুয়ারি, ১৯৯১ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়।
ইরাক জাতি সংঘের এই নির্দেশ অমান্য করলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং মিশরসহ
মোট ৩৪টি দেশের এক বিশাল সামরিক জোট গঠিত হয়।
জাতিসংঘ কর্তৃক ইরাককে কুয়েত ছাড়ার জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমা (১৫ জানুয়ারি) পার হওয়ার পরে- ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাতের পর (ইরাক সময় ১৭ জানুয়ারি ভোরে) বিমান হামলা শুরু হয়।
এই বিচারে ১৭ জানুয়ারিকে এই যুদ্ধের প্রথম দিন বিবেচনা করা হয়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব (ইতিহাসের এই দিনে)
- ১৮৯৩: হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং আমেরিকার মদতপুষ্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা দখল করে।
- ১৯৪৫: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সোভিয়েত রেড আর্মি পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ নাৎসি জার্মানির কবল থেকে মুক্ত করে।
- ১৯৪৬: লন্ডনের চার্চ হাউস হল-এ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের
প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯১: পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান হামলা দ্বিতীয় দিনে পদার্পণ করে এবং ইরাকের ওপর বোমাবর্ষণ তীব্র হয়।
জন্ম
- ১৭০৬: বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, লেখক, বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রনায়ক।
- ১৯৪২: মুহাম্মদ আলী – বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন মুষ্টিযোদ্ধা এবং মানবাধিকার কর্মী। (পূর্ব নাম ক্যাসিয়াস ক্লে)।
- ১৯৪৫: জাভেদ আখতার – প্রখ্যাত ভারতীয় কবি, গীতিকার এবং চিত্রনাট্যকার।
মৃত্যু
- ১৮৯৩: রাদারফোর্ড বি. হেইস – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম প্রেসিডেন্ট।
- ১৯৩০: গওহর জান – ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম রেকর্ডিং শিল্পী এবং বিখ্যাত সংগীতশিল্পী।
- ২০১০: জ্যোতি বসু – ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
- ২০১৪: সুচিত্রা সেন – বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা এবং কালজয়ী অভিনেত্রী।
সূত্র:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র:
- বিভিন্ন পত্রপত্রিকা