১. আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা: ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ৩ জানুয়ারি ১৯৭১ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসভায় শপথ গ্রহণের কর্মসূচি নেয়া হয়। এই উপলক্ষে ২ জানুয়ারি সারাদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমণ্ডির বাসভবনে এবং আওয়ামী লীগ অফিসে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এই ঐতিহাসিক জনসভা ও শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেন। শপথের মূল বিষয়বস্তু ছিল:সমসাময়িক বিশ্ব
- ৬-দফা ও ১১-দফা দাবি বাস্তবায়ন
- জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান প্রণয়ন
- পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে অটল থাকা
২. রাজনৈতিক উত্তেজনা: পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র-জনতার মধ্যে 'মুক্তির বছর' হিসেবে নতুন বছর উদযাপনের সঙ্গে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ আরও তীব্র হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র সংগঠনগুলো সক্রিয় ছিল।
৩. পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া: পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রধান হিসেবে জুলফিকার আলী ভুট্টো ৬-দফা দাবির বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন। তিনি বলেন যে, ৬-দফা পাকিস্তানের অখণ্ডতা ও কেন্দ্রীয় সরকারের শক্তিকে দুর্বল করবে। পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও ভুট্টো “পাঞ্জাব ও সিন্ধু পাকিস্তানের ক্ষমতার দুর্গ” বলে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলেন। ফলে এই দিনে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ৬-দফা বাস্তবায়নে অটল থাকার ঘোষণা দিলে ভুট্টোর বিরোধিতা সংকটকে আরও গভীর করে।
জন্ম