দরিরামপুর উচ্চবিদ্যালয়
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের সদর জেলার অন্তর্গত ত্রিশাল উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়।

১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে এই স্কুলটি দরিরামপুর স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। দরিরামপুর গ্রামের কিছুসংখ্যক শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এই স্কুল প্রতিষ্ঠা  করেছিলেন। এঁদের ভিতর হাজি মেহের আলী মৃধা অন্যতম। স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাবু বিপিং চন্দ্র চাকলাদার। সে সময়ে স্কুলটি ছিল একটি টিনের বাড়ি। সে সময়ে বিদ্যালয়টি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ছিল।

এই সময় এই স্কুলটি অখ্যাত ছিল। বিদ্রোহী কবি
কাজী নজরুল ইসলাম, এই স্কুলে কিছুদিন লেখাপড়া করেছিলেন। সেই সূত্রে পরবর্তী সময়ে এই স্কুলটি বিখ্যাত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে কাজী রফিজুল্লাহের পাঠানো চিঠির সূত্রে সাখওয়াত উল্লাহ নজরুলকে ময়মনসিংহ জেলার দরিরাম পুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। নজরুল তাঁর ১৫ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের শুরুতে  দরিরাম পুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রথমে তিনি কাজী সাখওয়াত উল্লাহের বাড়িতেই থাকতেন। পরে স্কুলের কাছাকাছি বিচুতিয়া ব্যাপারীর বাড়িতে জায়গির হিসেবে স্থান পান। এই সময় নজরুলের ফ্রি স্টুডেন্টশীপের ব্যবস্থা করেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই বৎসর স্কুলের একটি বিচিত্রানুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের 'দুই বিঘা জমি' এবং 'পুরাতন ভৃত্য' কবিতা আবৃত্তি করেন।

১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে মাসে (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩২১ বঙ্গাব্দ) স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে দেশে ফিরে যান। এই পরীক্ষায় পাশ করে তিনি অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দরিরাম পুর  ত্যাগ করে চুরুলিয়ায় ফিরে যান। পরে তিনি আর ওই স্কুলে ফিরে যান নি।

১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে এই স্কুলের নামকরণ করা হয়েছে. ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি ।

১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক পি.এ. নাজির ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তীর সূচনা করেন এই বিদ্যালয় মাঠে জাঁকজমকভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালন শুরু হয়। এরপর থেকে এই বিদ্যালয়ের মাঠে নজরুল জন্মজয়ন্তী রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎযাপিত হয়।

কবির স্মৃতিজড়িত বিদ্যালয়টিকে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯০, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনবার সরকারিকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় সরকারিকরণের কিছু কাজ হলেও পরে আর তা বাস্তবায়ন হয় নি। অবশেষে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণ করা হলে বর্তমান সরকারি নজরুল একাডেমি নাম ধারণ করে।  

কবি নজরুলের ব্যবহৃত এবং যে ক্লাসে বসে ক্লাস করেছেন সেই কক্ষ দুটি সংরক্ষিত আছে। এটি কবি নজরুলের দরিরামপুর হাইস্কুলে একমাত্র সাক্ষী।
সূত্র: