পদ ও পদ-প্রকরণ

পদ : ব্যাকরণে র্ণিত একটি সংজ্ঞাবাচক শব্দ ব্যাকরণের মতে বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকে পদ বলে।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দগুলোকে পদ হিসেবে নির্ধারণ করার সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ শব্দ হিসেবে পাওয়া যায় না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর সাথে অতিরিক্ত কিছু ধ্বনি পাওয়া যায়। ওই সকল শব্দ লিখিত আকারে প্রকাশের সময় বাড়তি বর্ণ যুক্ত করতে হয়। যেমন 'নদী' একটি বিশুদ্ধ শব্দ। কিন্তু 'নদীর পানি' যখন লেখা হয়, তখন 'নদী' শব্দের সাথে অতিরিক্ত 'র' যুক্ত হয়। ফলে 'নদী' শব্দটি বিশুদ্ধ রূপ হারায়। বাংলা ভাষায় 'নদীর' শব্দটি মোটেই ভুল বলে বিবেচনা করা হয় না। মূল শব্দের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছকে বিভক্তি বলা হয়। পদ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে বিভক্তিকে বাদ দিয়ে মূল শব্দ অনুসন্ধান করতে হয়। যেমন 'নদীর' শব্দটির পদ নির্ণয় করার জন্য প্রথমে এর 'র' বাদ দিয়ে 'নদী'-কে বিশুদ্ধ শব্দ হিসেবে বিবেচনায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে 'নদী' শব্দটি পদ হবে আর 'র' হবে 'নদী' পদের বিভক্তি

যে সকল শব্দের সাথে কোনো বাড়তি বর্ণ পাওয়া যায় না, তা হবে বিভক্তিহীন। ব্যাকরণে বিভক্তিহীন শব্দকেও বিভক্তিযুক্ত বলা হয়। একে বলা হয় শূন্য বিভক্তি।

পদ-প্রকরণ
ব্যাকরণে পদের অবলম্বন হলো বাক্য। একটি বাক্যে কোনো শব্দ কি অর্থে বা কি নির্দেশনায় ব্যবহৃত হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে পদের শ্রেণিবিভাজন করা হয়।
পদের এই শ্রেণিবিভাজনকে বলা হয় পদ-প্রকরণ।

একটি শব্দ কোন্ পদের পর্যায়ে পড়বে, তা নির্ভর করবে বাক্যে শব্দটি কিভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তার বৈশিষ্ট্যের উপরএই বিচারে ঢালাওভাবে গোড়াতেই কোন্ শব্দটি কোন পদ হবে তা নির্ধারণ করা যায় নাধরা যাক একটি শব্দ নীল যদি বলি এই রঙটি নীলতার অর্থ হলো কোন সুনির্দিষ্ট রঙের নাম বলা হচ্ছেতাই এখানে নীল শব্দটি বিশেষ্যকিন্তু যদি বলা যায় নীল চোখ এই বাক্যে নীল শব্দটি চোখকে বিশেষিত করছেএই অর্থে নীল এখানে বিশেষণ

বাংলা ব্যাকরণে ব্যবহৃত শব্দগুলোকে মোট পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। এই পদগুলো হলো

১. বিশেষ্য
২.
বিশেষণ
৩.
সর্বনাম
৪. ক্রিয়া
৫.
অব্যয়