উঁচলা
সংস্কৃত৪ উৎ- চালি {Öচল্ (চলা) +ণিচ}= Öউচ্চালি>প্রাকৃত Öউচাল, Öউঁচলা>বাংলা১ Öউঁচলা, ওঁচলা।
ক্রিয়ামূল (ণিজন্ত)। এর ভাবগত অর্থ হলো- পৃথক করা। সাধারণত চাউল ও এর তুষ পৃথক করা অর্থে উঁচলা ধাতুজাত ক্রিয়াপদ ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এই ধাতুজাত ক্রিয়াপদগুলোর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় না।


উঁচলানো [উঁচ্.লা.নো] [u).c.la.no]


উঁচা [উঁ.চা] [ũ.ca]
সংস্কৃত৪ উচ্চ>প্রাকৃত উচ্চা>বাংলা১ উচা, উঁচা (বিশেষণ)>√উঁচা। এর ভাবগত অর্থ হলো- উচ্চ করা।  সাধারণত কোনো জিনিষ উত্তোলিত করা, আঘাত করার জন্য অস্ত্র উঁচানো ইত্যাদির ক্ষেত্রে এই ধাতুজাত সকর্মক ক্রিয়াপদগুলোর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।  এর বিকল্প ধাতু √ওঁচা।

চলিত রূপ 
কালের নাম নাম পুরুষ মধ্যম উত্তম
সাধারণ
(সে)
সম্ভ্রমাত্মক
(তিনি)
সম্ভ্রমাত্মক
(আপনি)
সাধারণ
(তুমি)
তুচ্ছ
(তুই)
আমি
বর্তমান সাধারণ উঁচায় উঁচান উঁচান উঁচাও উঁচাস উঁচাই
ঘটমান উঁচাচ্ছে উঁচাচ্ছেন উঁচাচ্ছেন উঁচাচ্ছ উঁচাচ্ছিস উঁচাচ্ছি
পুরাঘটিত উঁচিয়েছে উঁচিয়েছেন উঁচিয়েছেন উঁচিয়েছ উঁচিয়েছিস উঁচিয়েছি
অনুজ্ঞা উঁচাক উঁচান উঁচান উঁচাও উঁচা, উঁচাস  
অতীত সাধারণ উঁচাল উঁচালেন উঁচালেন উঁচালে উঁচালি উঁচালাম
নিত্যবৃত্ত উঁচাত উঁচাতেন উঁচাতেন উঁচাতে উঁচাতি উঁচাতাম
ঘটমান উঁচাচ্ছিল উঁচাচ্ছিলেন উঁচাচ্ছিলেন উঁচাচ্ছিলে উঁচাচ্ছিলি উঁচাচ্ছিলাম
পুরাঘটিত উঁচিয়েছিল উঁচিয়েছিলেন উঁচিয়েছিলেন উঁচিয়েছিলে উঁচিয়েছিলি উঁচিয়েছিলাম
ভবিষ্যৎ সাধারণ উঁচাবে উঁচাবেন উঁচাবেন উঁচাবে উঁচাবি উঁচাব
ঘটমান উঁচাতে থাকবে উঁচাতে থাকবেন উঁচাতে থাকবেন উঁচাতে থাকবে উঁচাতে থাকবি উঁচাতে থাকব
পুরাঘটিত উঁচিয়ে থাকবে উঁচিয়ে থাকবেন উঁচিয়ে থাকবেন উঁচিয়ে থাকবে উঁচিয়ে থাকবি উঁচিয়ে থাকব
অনুজ্ঞা উঁচাবে উঁচাবেন উঁচাবেন উঁচায়ো উঁচাবি  
সাধু রূপ 
কালের নাম নাম পুরুষ মধ্যম উত্তম
সাধারণ
(সে)
সম্ভ্রমাত্মক
(তিনি)
সম্ভ্রমাত্মক
(আপনি)
সাধারণ
(তুমি)
তুচ্ছ
(তুই)
আমি
বর্তমান সাধারণ উঁচায় উঁচান উঁচান উঁচাও উঁচাস উঁচাই
ঘটমান উঁচাইতেছে উঁচাইতেছেন উঁচাইতেছেন উঁচাইতেছ উঁচাইতেছিস উঁচাইতেছি
পুরাঘটিত উঁচাইয়াছে উঁচাইয়াছেন উঁচাইয়াছেন উঁচাইয়াছ উঁচাইয়াছিস উঁচাইয়াছি
অনুজ্ঞা উঁচাউক উঁচাউন উঁচাউন উঁচাইও উঁচাইস  
অতীত সাধারণ উঁচাইল উঁচাইলেন উঁচাইলেন উঁচাইলে উঁচাইলি উঁচাইলাম
নিত্যবৃত্ত উঁচাইত উঁচাইতেন উঁচাইতেন উঁচাইতে উঁচাইতিস উঁচাইতাম
ঘটমান উঁচাইতেছিল উঁচাইতেছিলেন উঁচাইতেছিলেন উঁচাইতেছিলে উঁচাইতেছিলি উঁচাইতেছিলাম
পুরাঘটিত উঁচাইয়াছিল উঁচাইয়াছিলেন উঁচাইয়াছিলেন উঁচাইয়াছিলে উঁচাইয়াছিলি উঁচাইয়াছিলাম
ভবিষ্যৎ সাধারণ উঁচাইবে উঁচাইবেন উঁচাইবেন উঁচাইবে উঁচাইবি উঁচাইব
ঘটমান উঁচাইতে থাকিবে উঁচাইতে থাকিবেন উঁচাইতে থাকিবেন উঁচাইতে থাকিবে উঁচাইতে থাকিবি উঁচাইতে থাকিব
পুরাঘটিত উঁচাইয়া থাকিবে উঁচাইয়া থাকিবেন উঁচাইয়া থাকিবেন উঁচাইয়া থাকিবে উঁচাইয়া থাকিবি উঁচাইয়া থাকিব
অনুজ্ঞা উঁচাইবেন উঁচাইবেন উঁচাইবেন উঁচাইয়ো উঁচাইবি  

অসমাপিকা ক্রিয়া :        সাধু রীতি : উঁচাইতে, উঁচাইলে, উঁচাইয়া।       চলিত রীতি :  উঁচাতে, উঁচালে, উঁচিয়ে

 


উঁচা-আদি-গণ
বিশেষ্য

বাংলা ব্যাকরণ মতে- একটি গণের নাম। এই গণের সকল ক্রিয়ামূল থেকে '
উঁচা-ক্রিয়ামূলজাত' ক্রিয়াপদের মতো হয়। ব্যাকরণে তাই এই গণকে বলা হয়- √উঁচা-আদি-গণ। এই গণের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো-

১. ক্রিয়ামূলটি গঠিত হবে দুটি
বর্ণের সমন্বয়ে
।
২. ক্রিয়ামূলের প্রথম বর্ণটি হবে উ বা উ-কার যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ।
৩. শেষ বর্ণটির সাথে আকার যুক্ত থাকবে।  যেমন- উঁচা ।


নিচে এই গণ থেকে ক্রিয়াপদ সৃষ্টির সাধারণ সূত্রের তালিকার দেওয়া হলো।
 

চলিত রূপ 
কালের নাম নাম পুরুষ মধ্যম উত্তম
সাধারণ
(সে)
সম্ভ্রমাত্মক
(তিনি)
সম্ভ্রমাত্মক
(আপনি)
সাধারণ
(তুমি)
তুচ্ছ
(তুই)
আমি
বর্তমান সাধারণ -য় -ন -ন -ও -স -ই
ঘটমান -চ্ছে -চ্ছেন -চ্ছেন -চ্ছ -চ্ছিস -চ্ছি
পুরাঘটিত -য়েছে -য়েছেন -য়েছেন -য়েছ -য়েছিস -য়েছি
অনুজ্ঞা -ক -ন -ন -ও -, -স  
অতীত সাধারণ -ল -লেন -লেন -লে -লি -লাম
নিত্যবৃত্ত -ত -তেন -তেন -তে -তি -তাম
ঘটমান -চ্ছিল -চ্ছিলেন -চ্ছিলেন -চ্ছিলে -চ্ছিলি -চ্ছিলাম
পুরাঘটিত -য়েছিল -য়েছিলেন -য়েছিলেন -য়েছিলে -য়েছিলি -য়েছিলাম
ভবিষ্যৎ সাধারণ -বে -বেন -বেন -বে -বি -ব
ঘটমান -তে থাকবে -তে থাকবেন -তে থাকবেন -তে থাকবে -তে থাকবি -তে থাকব
পুরাঘটিত -য়ে থাকবে -য়ে থাকবেন -য়ে থাকবেন -য়ে থাকবে -য়ে থাকবি -য়ে থাকব
অনুজ্ঞা -বে -বেন -বেন -য়ো -বি  
সাধু রূপ 
কালের নাম নাম পুরুষ মধ্যম উত্তম
সাধারণ
(সে)
সম্ভ্রমাত্মক
(তিনি)
সম্ভ্রমাত্মক
(আপনি)
সাধারণ
(তুমি)
তুচ্ছ
(তুই)
আমি
বর্তমান সাধারণ -য় -ন -ন -ও -স -ই
ঘটমান -ইতেছে -ইতেছেন -ইতেছেন -ইতেছ -ইতেছিস -ইতেছি
পুরাঘটিত -ইয়াছে -ইয়াছেন -ইয়াছেন -ইয়াছ -ইয়াছিস -ইয়াছি
অনুজ্ঞা -উক -উন -উন -ইও -ইস  
অতীত সাধারণ -ইল -ইলেন -ইলেন -ইলে -ইলি -ইলাম
নিত্যবৃত্ত -ইত -ইতেন -ইতেন -ইতে -ইতিস -ইতাম
ঘটমান -ইতেছিল -ইতেছিলেন -ইতেছিলেন -ইতেছিলে -ইতেছিলি -ইতেছিলাম
পুরাঘটিত -ইয়াছিল -ইয়াছিলেন -ইয়াছিলেন -ইয়াছিলে -ইয়াছিলি -ইয়াছিলাম
ভবিষ্যৎ সাধারণ -ইবে -ইবেন -ইবেন -ইবে -ইবি -ইব
ঘটমান -ইতে থাকিবে -ইতে থাকিবেন -ইতে থাকিবেন -ইতে থাকিবে -ইতে থাকিবি -ইতে থাকিব
পুরাঘটিত -ইয়া থাকিবে -ইয়া থাকিবেন -ইয়া থাকিবেন -ইয়া থাকিবে -ইয়া থাকিবি -ইয়া থাকিব
অনুজ্ঞা -ইবেন -ইবেন -ইবেন -ইয়ো -ইবি  

অসমাপিকা ক্রিয়া :        সাধু রীতি : -ইতে, -ইলে, -ইয়া।       চলিত রীতি :  -তে, -লে, -য়ে

 

এই গণের অধীনস্ত ক্রিয়ামূলগুলি হলো-
উঁচা,
উঠা, উড়া, কুঁকা, কুঁচা, কুঁড়া, কুঁতা, কুঁথা, কুচা, কুটা, কুটকুটা, কুড়া, খুঁচড়া, খুঁচা,
 


উক (উকন্)
১. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। এই প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার নির্দেশ বিভিন্ন গ্রন্থে বিভিন্নভাবে দেখা যায়। যেমন-
১.
উক (উকন)। বঙ্গীয় শব্দকোষ/হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
২. উ
ক। সরল বাঙ্গালা ভাষার অভিধান/সুবলচন্দ্র মিত্র।, বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান।

উকন প্রত্যয়ের ন ইৎ হয় এবং উক ক্রিয়ামূলের সাথে যুক্ত হয়। এই কারণে এই গ্রন্থে এই প্রত্যয়কে উক (উকন) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রত্যয় যে সকল ক্রিয়ামূলের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে, তার তালিকা- √কঞ্চ্>কুঞ্চক


উক্ (উক্‌ঞ)
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। কৃৎ প্রত্যয়। এই প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার
             
√কম্ (ইচ্ছা করা, কামনা করা) +উক (উক্‌ঞ)=কামুক


উকট [উ.কট্] [u.kÿ]
সংস্কৃত৪ উৎ-Öকৃষ (কর্ষণ করা)>প্রাকৃত উক্কড্‌ঢ>বাংলা১ Öউকড়, Öউকট>বর্ণ বিপর্যয়ে Öউটক। এর ভাবগত অর্থ হলো- উৎকর্ষণ করা, টেনে বের করা। বর্তমানে এই ধাতুটি অপ্রচলিত। তবে মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যে Öউকট এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যেমন-বনে বনে উকটিয়া/জ্ঞানদাস। এই ধাতুর বর্ণ বিপর্যয়ে সৃষ্ট হয়েছে Öউটক ধাতুজাত ক্রিয়াপদ বাংলাতে ব্যবহৃত হয়। দেখুন : উকট।


উকশা [উক্.শা] [uk.Sa]
সংস্কৃত৪ উৎ-Öকাশি {Öকাশ্ (দীপ্তি পাওয়া) +ণিচ)=Öউকশ>বাংলা১ Öউকশ +আ>Öউকশা। এর ভাবগত অর্থ হলো- উজ্জীবিত করা। এই ধাতুজাত ক্রিয়াপদের ব্যবহার বাংলাতে ততটা দৃষ্ট হয় না। তবে এর অপর প্রকরণ Öউশকা ধাতু জাত ক্রিয়াপদ বাংলাতে ব্যবহৃত হয়। দেখুন : উশকা।  


উকস [উকশ্] [ukS]
সংস্কৃত৪ উৎ-Öকাশি {Öকাশ্ (দীপ্তি পাওয়া) +ণিচ)=Öউকশ>বাংলা১ Öউকস।
এর ভাবগত অর্থ হলো- উৎকাশিত বা খাড়া হওয়া। এই ধাতুজাত অকর্মক ক্রিয়াপদের ব্যবহার ততটা লক্ষ্য করা যায় না। তবে মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যে এই ধাতুজাত ক্রিয়াপদের ব্যবহার ছিল। যেমন- অঙ্গে রোমাবলি, উকসি উঁচিছে/ভক্তমাল-গ্রন্থ।
  


উকাড় [উ.কাড়্] [u.ka}]
সংস্কৃত৪ উৎ-Öকৃষ (কর্ষণ করা)>প্রাকৃত  Öউক্কড্‌ঢ> বাংলা১ Öউকড়>Öউকাড়।
এর ভাবগত অর্থ হলো- উৎপাটন করা। আধুনিক বাংলায় এই ধাতুজাত ক্রিয়াপদের ব্যবহার দেখা যায় না। তবে এই ধাতু থেকে উৎপন্ন সকর্মক ক্রিয়াপদের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে মধ্যযুগীয় কাব্যে। যেমন- আর কত ফুলের গাছ নিলে উকাড়িয়া/গোপীচন্দ্র
।