দিবোদাস
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা { পৌরাণিক সত্তা | কাল্পনিকসত্তা | কল্পনা | সৃজনশীলতা | দক্ষতা | জ্ঞান | মনস্তাত্ত্বিক বিষয় | বিমূর্তন | বিমূর্ত-সত্তা | সত্তা |}

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে এই নামে একাধিক চরিত্র পাওয়া যায়। যেমন
–

১
. ঋগ্বেদে বর্ণিত জনৈক ধর্মভীরু ন্যায়বান রাজা। এঁর জন্য ইন্দ্র একশত প্রস্তরপুরী  ধ্বংস করেন।
২. কাশীর রাজা। এঁর পিতার নাম সুদেব। দেবগণ আকাশ থেকে পুষ্প ও রত্ন ইত্যাদি এঁকে দান করতেন বলে ইনি এই নামে অভিহিত হতেন। হর্যশ্ব ও তাঁর পুত্র সুদেব দুইজনেই হৈহয় বা বীতহব্যের পুত্রদের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিহত হন। পিতার মৃত্যুর পর দিবোদাস রাজা হন। বীতহব্যের পুত্ররা আবার কাশী আক্রমণ করে দিবোদাসকে পরাজিত করেন ও তাঁর পুত্রদের হত্যা করেন। এরপর দিবোদাস মহর্ষি ভরদ্বাজের কাছে পালিয়ে যান। ভরদ্বাজ এঁকে আশ্বাস দিয়ে এক যজ্ঞ করেন। তার ফলে দিবোদাসের প্রতর্দন নামে এক পুত্র জন্মে। ভরদ্বাজ যোগবলে এই পুত্রকে পরাক্রান্ত করে তোলেন। দিবোদাসও খুশিমনে তাঁর পুত্রকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করেন। এরপর পিতার আজ্ঞায় প্রতর্দন বীতহব্যের শত পুত্র হত্যা করেন। বীতহব্য প্রতর্দনের ভয়ে পালিয়ে ভৃগু মুনির শরণাপন্ন হন। প্রতর্দন বীতহব্যের অনুসরণ করে ভৃগুর আশ্রমে এসে বীতহব্যকে ত্যাগ করবার জন্য ভৃগু মুনিকে অনুরোধ করেন। মুনি তার কারণ জানতে চাইলে প্রতর্দন সমস্ত ঘটনা বলেন এবং আরও বলেন যে, তাকে হত্যা করলে প্রতর্দন পিতৃঋণ হতে মুক্ত হবেন। তখন শরণাগতকে রক্ষা করার জন্য ধর্মাত্মা ভৃগু বীতহব্যকে ব্রাহ্মণ করে দিয়ে বলেন যে, এখানে কোন ক্ষত্রিয় নেই, সকলেই ব্রাহ্মণ। বীতহব্যকে জাতিত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন, এই তৃপ্তি নিয়ে প্রতর্দন নিজ রাজ্যে ফিরে যান।

৩. পুরুবংশীয় রাজা হর্যশ্বের পুত্র মুদ্গল। এই মুদগল হতে জাত ক্ষত্রিয়রা ব্রাহ্মণত্ব প্রাপ্ত হয়ে মৌদগল্য নামে খ্যাত হন। মুদ্গলের পুত্র বৃদ্ধশ্ব, বৃদ্ধশ্বের পুত্র দিবোদাস ও কন্যা অহল্যা।