যবক্রীত
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে- ভরদ্বাজ মুনির পুত্র

ভরদ্বাজ ও তাঁর পুত্র যবক্রীত বেদ অধ্যয়ন না করে তপস্যার দ্বারা বেদজ্ঞান লাভের চেষ্টা করেছিলেন বলে, অন্যান্য ঋষিরা ভরদ্বাজ ও যবক্রীতকে সম্মান করতেন না বিষয়টি লক্ষ্য করে যবক্রীত কঠোর তপস্যা শুরু করেন এই তপস্যায় ইনি কোন গুরুর সাহায্য নিলেন না এই তপস্যায় ইনি এতই কঠোরভাবে নিমগ্ন হয়ে পড়লেন যে- ইন্দ্র অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়লেন এবং তাঁকে গুরুর কাছে বেদ শিক্ষার পরামর্শ দিলেন কিন্তু যবক্রীত ইন্দ্রের কথা না শুনে তপস্যা চালিয়ে যেতে লাগলেন এরপর ইন্দ্র যক্ষ্মারুগী ব্রাহ্মণের রূপ ধরে গঙ্গা তীরে এসে বার বার মুঠি মুঠি বালি পানিতে ফেলতে লাগলেন এই দেখে যবক্রীত ব্রাহ্মণরূপী ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন এর উত্তরে ইন্দ্র বললেন, তুমি যেমন বেদজ্ঞ হওয়ার আশায় বৃথা তপস্যা করছ, আমিও তেমনি বালু দিয়ে গঙ্গায় সেতু বাঁধার চেষ্টা করছি যবক্রীত পরে ইন্দ্রের পরিচয় জানতে পেরে তাঁর কাছে বিদ্বান হওয়ার বর প্রার্থনা করলেন তখন ইন্দ্র খুশী হয়ে পিতাপুত্রকে বেদজ্ঞ হবার বর দান করেলেন এরপর যবক্রীত এই বিষয়টি তাঁর পিতা ভরদ্বাজকে জানালে, ভরদ্বাজ যবক্রীতকে বললেন, অভীষ্ট বর পেয়ে তুমি অহঙ্কারী ও ক্ষুদ্রমনা হবে, ফলে তোমার মৃত্যু হবে

এর কিছুদিন পর, একদিন যবক্রীত পরাবসুর সুন্দরী স্ত্রীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে কামনা করলেন বিষয়টি বুঝতে পেরে পরাবসুর স্ত্রী ভয় পেয়ে সেখানে থেকে পালিয়ে যান এই সংবাদ পেয়ে রৈভ্য অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর দুইগাছি জটা ছিন্ন করে আগুনে নিক্ষেপ করলে এক সুন্দরী নারী ও একটি রাক্ষস সৃষ্টি হয় যবক্রীতকে হত্যা করার জন্য রৈভ্য উভয়কে আদেশ করেন এরপর রৈভ্য প্রেরিত সেই নারী যবক্রীতকে রূপ দ্বারা মুগ্ধ করে তাঁর কমণ্ডলু চুরি করে কমণ্ডলুহীন হয়ে যবক্রীত আত্মরক্ষার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এই সময় রৈভ্য প্রেরিত রাক্ষস শূল তুলে তাঁকে হত্যা করার জন্য অগ্রসর হয় যবক্রীত বিপদ বুঝতে পেরে দৌড়ে ভরদ্বাজের অগ্নিহোত্র গৃহে আশ্রয় নিতে গেলে- সেই ঘরের অন্ধ রক্ষী তাঁকে সবলে ধরে রাখে ফলে রাক্ষস অনায়াসে শূলের আঘাতে যবক্রীতকে হত্যা করে ভরদ্বাজ পুত্রের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে রৈভ্যকে অভিশাপ দিয়ে বলেন যে- কনিষ্ঠ পুত্রের হাতেই রৈভ্যের মৃত্যু হবে এরপর ভরদ্বাজ আগুনে আত্মহত্যা করেন

এর কিছুদিন পর রাজা বৃহদ্যুম্নের একটি যজ্ঞ করার আয়োজন করেন উক্ত যজ্ঞের কাজে রাজা অর্বাবসু ও পরাবসুকে নিযুক্ত করেন একদিন রাত্রে পরাবসু আশ্রমে ফেরার সময় বনের মধ্যে রৈভ্যকে দেখে হরিণ মনে করে হত্যা করেন পিতার হত্যার পর পরাবসু তাঁর বড় ভাই অর্বাবসুকে পিতৃহত্যার কথা বলেন এরপর পরাবসুর কথামতো অর্বাবসু আশ্রমে গিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করে রাজা বৃহদ্দ্যুম্নের যজ্ঞে যোগদান করেন কিন্তু রাজা ভাইয়ের পিতৃহত্যার অপরাধে- অর্বাবসুকে বিতারিত করেন এরপর অর্বাবসু বনে গিয়ে সূর্যের উপাসনা করতে লাগলেন উপাসনার ফলে সূর্য ও দেবতারা খুশি হয়ে অর্বাবসুকে বর প্রদান করেন এই বরে রৈভ্য, ভরদ্বাজ ও যবক্রীত পুনর্জীবিত হন এবং পরবাসুর পাপ দূর হয়

পুনর্জীবন লাভ করার পর যবক্রীত দেবতাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বেদাধ্যায়ী ও তপস্বী হওয়া সত্ত্বেও রৈভ্য তাঁকে কেমন করে হত্যা করার ক্ষমতা লাভ করলেন? উত্তরে দেবতারা বললেন- গুরুর সাহায্য না নিয়ে কেবল তপস্যার ফলে বেদশিক্ষা করেছিলেন যবক্রীত কিন্তু রৈভ্য অতি কষ্টে গুরুর কাছে দীর্ঘকাল বেদপাঠ করেছিলেন সে কারণে ক্ষমতার বিচারে রৈভ্য ছিলেন শ্রেষ্ঠ স্থানে।