কামসূত্র

হিন্দু ধর্ম-সাহিত্যে- যৌনকর্ম, যৌনানন্দ, প্রেম এবং হিন্দু আইন অনুসারে বিবাহ সম্পর্কিত প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় পাঠ্য। প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের অনেকে এই জাতীয় গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন এদের মধ্যে একমাত্র বাৎস্যায়ন নামক ঋষির রচিত কামসূত্রই বর্তমানে পাওয়া যায় কামসূত্রের 'প্রথমস্য সাধারণাধিকরণনস্য' থেকে জানা যায় যে- মহাদেবের অনুচর নন্দী সহস্র অধ্যায় সম্বলিত কামসূত্র প্রণয়ন করেছিলেন উক্ত গ্রন্থের তত্র মঙ্গলাচরণম-এ বলা হয়েছে- হর-পার্বতী সহস্র বৎসর যৌনসম্ভোগে কাটান এই সময় নন্দী এদের বাসগৃহের দ্বার রক্ষক হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন নন্দী পরে এই কামলীলাকে শাস্ত্র হিসাবে প্রণয়ন করেন পরে এই গ্রন্থকে সংক্ষিপ্ত করে পাঁচশত অধ্যায়ে নূতন করে রচনা করেছিলেন উদ্দালকের পুত্র শ্বেতকেতু শ্বেতকেতু কর্তৃক লিখিত এই গ্রন্থটিকে দেড়শত অধ্যায়ে সংক্ষেপিত করেন বাভ্রব্য নামক একজন ঋষি পুরো গ্রন্থটিকে তিনি সাতটি অধিকরণে বিভক্ত করেন এই অধিকরণগুলো হলো- সাধারণ, কন্যাসংপ্রযুক্তক, ভার্যাধিকারিক, পারদারিক, বৈশিক, সাম্প্রযোগিক ও ঔপনিষদিক

বাভ্রব্য রচিত কামসূত্রের সাতটি অধিকরণকে সাতজন ঋষি, পরে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন এই সাতজন ঋষি ও তাদের আলোচ্য অধিকরণগুলো হলো
                          সাধারণ                  চারায়াণ
                          কন্যাসংপ্রযুক্তক        ঘোটকমুখ
                          ভার্যাধিকারিক          গোনদীয়
                          পারদারিক              গণিকাপুত্র
                          বৈশিক                  দত্তক
                          সাম্প্রযোগিক           সুবর্ণনাভ
                          ঔপনিষদিক            কুচুমার

এরপর বাৎস্যায়ন এই সকল গ্রন্থের সংক্ষেপ করে যে কামসূত্র প্রণয়ন করেন, তার অধিকরণ সংখ্যা সাত, অধ্যায় সংখ্যা ছত্রিশ এবং প্রকরণ সংখ্যা চৌষট্টি ধারণা করা হয়, খ্রিষ্ট-পূর্ব ৩০০-২০০ অব্দের ভিতরে বাৎস্যায়ন এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন


কামসূত্র-এর এই বৈদ্যুতিন সংস্করণ গ্রহণ করা হয়েছে নবপত্র প্রকাশন থেকে প্রকাশিত (আগষ্ট ১৯৮৬), ত্রিদিব রায় সম্পাদিত এবং অনুবাদক গঙ্গাচরণ বেদান্ত বিদ্যাসাগর-এর পাঠানুসারে।

কামসূত্র সূচি