বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান
বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান।
সুরের সাথে হল আকুল পাষাণ পরান॥
আজকে ব্যথায় উঠল ভ'রে
মালার কুসুম পড়ল ঝ'রে,
পরান আমার কেমন করে নেবে তব দান॥
বৃথায় ফুলে সাজাও মোরে
ভাসাও যত নয়ন লোরে,
প্রাণের ঠাকুর ডাকেন মোরে কাঁদে মম প্রাণ॥
- ভাবানুসন্ধান: এই গানে বিদায়ের বেদনাময় মুহূর্তে প্রিয়তমের বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এক গভীর আত্মসমর্পণ ও বিরহবেদনার অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে। পার্থিব জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ভক্ত-হৃদয় পরম প্রিয়তমের আহ্বান অনুভব করছে। বিদায়ের সেই ক্ষণে করুণ সুরে গাওয়া গান বিচ্ছেদের ব্যথাকে আরও গভীর করে তোলে এবং কঠোর হৃদয়ও সেই সুরে গলে যায়।
গানের শুরুতেই কবি প্রশ্ন করেছেন—বিদায়ের মুহূর্তে কেন এমন করুণ সুরে গান গাওয়া হচ্ছে? সেই সুরের আবেগে পাষাণের মতো কঠিন হৃদয়ও আকুল হয়ে উঠছে। প্রিয়জনের বিদায়ের বেদনায় হৃদয় এতটাই ভারাক্রান্ত যে সমস্ত অনুভূতি যেন অশ্রু ও আকুলতায় প্লাবিত হয়েছে।
গানের পরবর্তী অংশে কবি বলেছেন, আজ দুঃখের ভারে তাঁর হৃদয় পূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে ফুলের মালা আনন্দ ও সম্মানের প্রতীক, তা-ও যেন ঝরে পড়ছে। অর্থাৎ জীবনের সকল সুখ, সৌন্দর্য ও আশা আজ বিচ্ছেদের বেদনায় ম্লান হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় প্রিয়তমের দেওয়া উপহার বা আশীর্বাদ গ্রহণ করার শক্তিও তাঁর আর অবশিষ্ট নেই।
আনের শেষাংশে কবি বাহ্যিক আড়ম্বর ও অলংকারের অসারতার কথা বলেছেন। ফুল দিয়ে সাজানো কিংবা অশ্রু বিসর্জন—এসবই তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে। কারণ অন্তরের গভীর থেকে ‘প্রাণের ঠাকুর’, অর্থাৎ পরমসত্তা তাঁকে নিজের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন। সেই ঐশী আহ্বানে তাঁর প্রাণও আকুল হয়ে কেঁদে উঠছে। ফলে পার্থিব জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে চিরপ্রিয়ের সান্নিধ্যে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই এই গানের মূল সুর হয়ে উঠেছে।
অতএব, এই গানে বিদায়ের বিষাদ, পার্থিব জীবনের অনিত্যতা এবং পরম পরমসত্তার আহ্বানে তাঁর সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়ার আকুল বাসনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩)
মাসে
টুইন রেকর্ড কোম্পানি
গানটির প্রথম রেক্র্ড করেছিল। এই সময় নজরুলের
বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ:
-
বুলবুল দ্বিতীয় খণ্ড
- প্রথম সংস্করণ [১৩৫৯
বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে, ১৯৫২)। ২ । পূরবী-তেতালা]
- নজরুল রচনাবলী ষষ্ঠ খণ্ড [জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, জুন ২০১২।
বুলবুল দ্বিতীয় খণ্ড। ২। পূরবী-তেতালা। পৃষ্ঠা ২৫৩-২৫৪]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৪০৩। পৃষ্ঠা: ৪২৪]
- রেকর্ড: টুইন [ডিসেম্বর ১৯৩৬ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৯৩৬)]। এফটি ৪৭১২। শিল্পী:
কার্তিকচন্দ্র দাশ
এর জুড়ি গান:
বিধুর তব অধর-কোণে [তথ্য]
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
আহসান মুর্শেদ। নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি (৪০ খণ্ড)। প্রথম প্রকাশ,জ্যৈষ্ঠ
১৪২৩ বঙ্গাব্দ/ জুন, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ]।
১৭ সংখ্যক
গান। পৃষ্ঠা: ৭৫-৭৬ [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পর্মসত্তা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গান।
- রাগ: রাগের উল্লেখ নেই।
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: পদা