ভাবসন্ধান: মহেন্দ্রগুপ্তের ‘দেবী দুর্গা’ নাটকের জন্য কাজী নজরুল ইসলামের রচিত এই গানে অত্যাচার, অবিচার ও অমানবিকতার শিকার পৃথিবীর মুক্তির জন্য পরমেশ্বরের কাছে এক আন্তরিক প্রার্থনা নিবেদন করা হয়েছে। এখানে
ধরিত্রী দেবী সর্বমঙ্গলময় পরমসত্তারূপী ভগবানকে অসুরসংহারী রূপে আহ্বান জানিয়ে কবি মানবসমাজে ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
গানের শুরুতেই কবি নিপীড়িত পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য ভগবানের কাছে আবেদন জানান। পৃথিবী যেন অসুরপ্রবৃত্তির অত্যাচারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখানে ‘অসুর’ বলতে কেবল পৌরাণিক দৈত্য নয়; বরং অত্যাচারী, নিষ্ঠুর, অন্যায়পরায়ণ ও মানবতাবিরোধী শক্তির প্রতীককে বোঝানো হয়েছে। তাই কবি চান, ভগবান সেই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে পৃথিবীকে শান্তি ও ন্যায়ের পথে ফিরিয়ে আনুন।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি অত্যাচারিত মানুষের দুর্দশার করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। অসুরসদৃশ
ব্রিটিশ শাসকদের নিপীড়নে মানুষের সন্তানরা অন্ন ও বস্ত্রের অভাবে হাহাকার করছে। দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও বঞ্চনা তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। আবার অনেক নিরপরাধ মানুষ স্বাধীনতা হারিয়ে শৃঙ্খলবদ্ধ অবস্থায় পাষাণ কারাগারে বন্দি থেকে অসহায়ভাবে কান্না করছে। এই চিত্র কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্যের নয়; এটি সমগ্র মানবসমাজের ওপর নেমে আসা অবিচার, দাসত্ব ও নিপীড়নের প্রতীক।
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ অক্টোবর ১৯৩৯ (বুধবার, ১
কার্ত্তিক ১৩৪৬),
মিনার্ভা থিয়েটার মঞ্চে মহেন্দ্র গুপ্তের 'দেবী দুর্গা'
মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই নাটকে গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪০ বৎসর
৪ মাস।
গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৯৮১।
মঞ্চ: দেবী দুর্গা (নাটক)।
নাট্যাকার: মহেন্দ্রগুপ্ত।
[মিনার্ভা থিয়েটার, ১৮ অক্টোবর ১৯৩৯ (বুধবার,
১ কার্ত্তিক ১৩৪৬)] চতুরথ অঙ্ক। প্রথম দৃশ্য। ধরিত্রীর গান।