বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে
ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে
ব্যথায় মোদের চরণ ফেলে অরুণ আশার সোনার রথে॥
অশ্রু গঙ্গার জলে ধুই মা তোর চরণ নিতি
ত্রিশ কোটি কণ্ঠে বাজে রোদনে তোর বোধনগীতি
আয় মা দলিত রাঙা হৃদয় বিছানো পথে॥
বিজয়া তোর হ’ল কবে শতাব্দী চলিয়া যায়
ভারত-বিজয়-লক্ষ্মী ভারতে ফিরিয়া আয়
বিসর্জনের কান্না মা এবার তুই এসে থামা
সফল কর এ তপস্যা মা স্থান দে স্বাধীন জগতে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি ভারতমাতাকে ‘ভারতলক্ষ্মী’ রূপে কল্পনা করে তাঁর কাছে মাতৃভূমিতে পুনরায় ফিরে আসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। পরাধীনতার দীর্ঘ যন্ত্রণা, দুঃখ ও অপমানের অবসান ঘটিয়ে ভারত যেন আবার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও গৌরবের অধিকারী হয়—এটাই গানের মূল আকাঙ্ক্ষা।
কবি ভারতলক্ষ্মীকে আহ্বান করছেন—তিনি যেন অরুণ আশার সোনার রথে চড়ে ভারতে ফিরে আসেন। অর্থাৎ দীর্ঘ অন্ধকার ও পরাধীনতার পরে নতুন স্বাধীনতার সূর্যোদয় ঘটুক। দেশের মানুষের অশ্রু, দুঃখ ও বেদনা যেন তাঁর চরণ ধৌত করার পবিত্র জল হয়ে ওঠে। ‘ত্রিশ কোটি কণ্ঠ’ বলতে তৎকালীন ভারতের বিপুল জনসমষ্টিকে বোঝানো হয়েছে; তাদের সম্মিলিত কান্না ও আকুল আহ্বান যেন মাতৃশক্তির বোধনগীতিতে পরিণত হয়েছে।
পরের স্তবকে কবি বলেন, ভারতলক্ষ্মীর বিজয়া যেন বহু শতাব্দী ধরে বিলম্বিত। তাই তাঁর ফিরে আসার পথটি দেশের নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের রক্তিম হৃদয় দিয়ে বিছানো। এখানে ‘দলিত রাঙা হৃদয়’ পরাধীন ভারতবাসীর গভীর বেদনা, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষরণের প্রতীক।
শেষে কবির আকুতি আরও তীব্র হয়েছে। তিনি ভারতলক্ষ্মীকে বলেন—এবার যেন বিসর্জনের কান্না থামিয়ে তিনি সত্যিই ফিরে আসেন এবং দেশের মানুষের দীর্ঘ তপস্যাকে সফল করেন। তাঁর আগমনে ভারত যেন স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে বিশ্বসমাজে নিজের স্থান লাভ করে—এই প্রার্থনাতেই গানটি শেষ হয়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৩
খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর
মাসে (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪০) এইচএমভি
রেকর্ড
কোম্পানি গানটি প্রথম রেকর্ড করে। এই সময় এই
সময় নজরুলের বয়স ৩৪ বৎসর ছিল ৩ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৭৫৪।
রাগ: সুঘরাই কানাড়া, তাল: ত্রিতাল। পৃষ্ঠা: ২৩০]
-
সুরলিপি। আগষ্ট
১৯৩৪ (শ্রাবণ ১৩৪১)। জগৎঘটক-কৃত স্বরলিপি গ্রন্থ। প্রকাশক: কাজী নজরুল
ইসলাম
- রেকর্ড:
এইএমভি [সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪০)। এন ৭১৫৬। শিল্পী:
কে. মল্লিক। বিষয়: আগমনী। সুর: নজরুল ইসলাম]
- পত্রিকা:
সঙ্গীত বিজ্ঞান প্রবেশিকা। আশ্বিন ১৩৪০
(সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৩)। আগমনী। কথা ও সুর: কাজী নজরুল ইসলাম।
স্বরলিপি: শ্রী উমাপদ ভট্টাচার্য এম্-এ।
উল্লেখ্য, পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরলিপি পাদটীকায় উল্লেখ আছে- 'উপরোক্ত গানটি
শ্রীযুক্ত কে, মল্লিক মহাশয় কর্ত্তৃক এন ৭১৫৬ নং হিজ্ মাষ্টার্স ভয়েস্ রেকর্ডে
গীত হইয়াছে। [নমুনা]
- কথা ও সুর:
কাজী নজরুল ইসলাম
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- উমাপদ ভট্টাচার্য। সঙ্গীতবিজ্ঞান প্রবেশিকা।
আশ্বিন ১৩৪০ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর
১৯৩৩)।[নমুনা]
- জগৎ ঘটক।
সুরলিপি।
নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ১৪১০ বঙ্গাব্দ আগষ্ট, ২০০৩। [নমুনা]
- সেলিনা হোসেন
[একবিংশ খণ্ড,
নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা] ১৮ সংখ্যক গান।
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। দৈবসত্তা। দেশমাতৃকা। ভারতলক্ষ্মী। স্বদেশ।
- সুরাঙ্গ: খেয়ালাঙ্গ
- রাগ: সুখড়াই কানাড়া (সুমরাই
কানাড়া)
- তাল:
-
ত্রিতাল [উমাপদ ভট্টাচার্য। সেলিনা হোসেন-কৃত স্বরলিপিতে তালের বিভাজন কাহারবা'র মতো]
-
কাওয়ালি
[জগৎ ঘটক।
সুরলিপি]
- গ্রহস্বর:
- ণ। উমাপদ ভট্টাচার্য
- র্সা। জগৎ ঘটক।
- র্সনা। সেলিনা হোসেন