বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত
শিরোনাম:সুরের গুরু, দাও গো সুরের দীক্ষা
পাঠ
ও পাঠভেদ:
- গীতবিতান
( বিশ্বভারতী,
কার্তিক ১৪১২ )-এর
পাঠ: পূজা :
২
সুরের গুরু, দাও গো সুরের দীক্ষা—
মোরা সুরের কাঙাল, এই আমাদের ভিক্ষা॥
মন্দাকিনীর ধারা, উষার শুকতারা,
কনকচাঁপা কানে কানে যে সুর পেল শিক্ষা॥
তোমার সুরে ভরিয়ে নিয়ে চিত্ত
যাব যেথায় বেসুর বাজে নিত্য।
কোলাহলের বেগে
ঘূর্ণি উঠে জেগে,
নিয়ো তুমি আমার বীণার সেইখানেই পরীক্ষা॥
- পাণ্ডুলিপির
পাঠ: রবীন্দ্রনাথের
পাণ্ডুলিপি
RBVBMS 171
-এর ১৯
পৃষ্ঠায় গানটি পাওয়া যায়। [নমুনা]
পাঠভেদ
-
মন্দাকিনীর ধারা, উষার শুকতারা [গীতবিতান
(বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২) ]
মন্দাকিনীর ধারা, ঊষার শুকতারা
[পাণ্ডুলিপি (M s. 171,
পৃষ্ঠা ১৯।
নমুনা) ]
-
নিয়ো তুমি আমার বীণার সেইখানেই পরীক্ষা
[গীতবিতান (বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২)]
নিয়ো তুমি আমার বীণার সেইখানে পরীক্ষা ॥
[পাণ্ডুলিপি
(Ms. 171,
পৃষ্ঠা ১৯।
নমুনা]
ভাবসন্ধান: এই গানে কবি তাঁর সুরের গুরুর কাছে সঙ্গীতের দীক্ষা প্রার্থনা করে ছেন।
এই গানের ‘সুরের গুরু’ হলো- সেই পরম সত্তা, যিনি বিশ্বজগতের সকল সুর, লয় ও সৌন্দর্যের উৎস।
সেই সুরের আদি গুরুর কাছে শুধু কবি নিজে নন,
সমগ্র সত্তার হয়ে তিনি কাঙালের মতো ভিক্ষা চেয়েছেন। এই গানে কবি বহুর
মধ্যে একা। গানের শুরুতে কবি বলেছেন- 'মোরা
সুরের কাঙাল, এই আমাদের ভিক্ষা '
এখানে তিনি বহুসত্তার অংশভাগী। গানের শেষে- ' নিয়ো তুমি আমার
বীণার সেইখানেই পরীক্ষা '। এখানে বহুসত্তার ভিতর থেকে
নিজেকে এককভাবে উপস্থাপন করেছেন।
মন্দাকিনীর কলতান, উষার শুকতারা, কনকচাঁপার মৃদু সুবাস—সবই যেন
সেই পরম গুরুর কাছ থেকে সুরের শিক্ষা লাভ করেছে। অর্থাৎ সমগ্র
বিশ্বপ্রকৃতিই তাঁর সুরে সুরময় হয়ে আছে। এই উদাহরণের মাধ্যমে কবি
বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই পরমসত্তার সুরই বিশ্বজনীন চেতনার প্রতীক ।
কবি তাঁর চিত্ত কে সেই সুরে
পরিপূর্ণ করে যাবেন
বেসুরের রাজ্যে। এখানে বেসুর
হলো- পরম অসুন্দর।
যেখানে বিশৃঙ্খলা ও কোলাহলের
ঘূর্ণিতে জগতের পরমশান্তি বিঘ্নিত। অর্থাৎ তিনি সঙ্গীতের মাধ্যমে
অসামঞ্জস্য ও অশান্তিকে সুশৃঙ্খল ও সুন্দর জগৎ গড়ে
করে তুলতে চান।
কিন্তু কবির সংশয় তিনি যথার্থ শিক্ষা গ্রহণ করতে পেরেছেন কিনা। তাই তিনি
কোলাহলময় ও অস্থির জগত তথা বেসুর রাজ্যে সুর প্রতিষ্ঠায় সক্ষম কিনা,
তারই পরীক্ষা দিতে চান।
ক. রচনাকাল ও স্থান: ধারণা করা
হয়, ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে নবীন নাটকটি রচনার সময়ে রবীন্দ্রনাথ এ গানটি রচনা
করেছিলেন। ‘নবীন’- এর সকল
সংস্করণেই গানটি পাওয়া যায়। এই বিচারে বলা যায়, আলোচ্য গানটির রচনাকাল ফাল্গুন ১৩৩৭
বঙ্গাব্দ। এই সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ৬৯ বৎসর ১০ মাস।
[দেখুন:
৬৯
বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা
]
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
- গ্রন্থ
-
গীতবিতান
-
নবীন
[প্রথম প্রকাশ, বিশ্বভারতী ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ ) পৃষ্ঠা: ২
[নমুনা]
- বনবাণী [বিশ্বভারতী ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ]। নবীন : প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় গান।
[রবীন্দ্র
রচনাবলী দ্বাবিংশ খণ্ড (বিশ্বভারতী, আষাঢ় ১৩৯৩ বঙ্গাব্দ)
পৃষ্ঠা ৬৮]
-
স্বরবিতান
পঞ্চম (৫, বিশ্বভারতী, ভাদ্র ১৪১৪) খণ্ডের ১৫ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৩৫-৩৭ ।
[নমুনা]
-
পত্রিকা
-
মুক্তধারা
(চৈত্র ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ)।
-
সঙ্গীত বিজ্ঞান প্রবেশিকা(মাঘ ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ)।
অনাদিকুমার দস্তিদার-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল ।
- প্রকাশের কালানুক্রম:
রবীন্দ্র
রচনাবলী
দ্বাবিংশ খণ্ডে (আষাঢ় ১৩৯৩) 'নবীন' গ্রন্থটিতে সম্পর্কে
বলা হয়েছে [পৃষ্ঠা: ৫০৬]
'নবীন'
১৩৩৭ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে রচিত হয়। ঐ সালের চৈত্র মাসে কলিকাতায় নিউ এম্পায়ার থিয়েটারে
উহা মঞ্চস্থ হইবার উপলক্ষে ঐ নামের গীতিনাটিকাটি পুস্তিকাকারে প্রথম
প্রকাশিত হয়। পরে 'বনবাণী' গ্রন্থে (আশ্বিন ১৩৩৮) পরিবর্তিত আকারে
'নবীন পুনরায় প্রকাশিত হয়।
প্রধানত, অন্যত্র পুরাতন গানগুলি ও তৎপ্রাসঙ্গিক কথাবস্তু এই সংস্করণে
বর্জিত হয়।'
উল্লেখ্য বিশ্বভারতী কর্তৃক প্রকাশিত
রবীন্দ্ররচনাবলী
দ্বাবিংশ খণ্ডে (আষাঢ় ১৩৯৩),
নবীনের উভয় পাঠ পাওয়া যায়। পরে কোনো এক সময়, রবীন্দ্রনাথ রাজা নাটকটির পুনর্লিখনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন,
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ করেন নি। এই
অসম্পূর্ণ পাঠের পাণ্ডুলিপি
রবীন্দ্রসদনে সংরক্ষিত আছে। রবীন্দ্রনাথের
পাণ্ডুলিপি
Ms
171<-তে
এই অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপিটি পাওয়া যায়। এই পাণ্ডুলিপিতে 'তৃতীয়া' চরিত্রের
গান হিসেবে পাওয়া যায়।
গীতবিতানের তৃতীয় খণ্ডের প্রথম সংস্করণে গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল
শ্রাবণ ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের
শ্রাবণ মাসে। এরপর
১৩৪৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত গীতবিতানের
প্রথম খণ্ডের দ্বিতীয় সংস্করণে পূজা পর্যায়ের গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৩৭১ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে প্রকাশিত
গীতবিতানের অখণ্ড সংস্করণে গানটি পূজা পর্যায়ের
দ্বিতীয় গান
হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
১৩৮০ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে অখণ্ড
গীতবিতানের তৃতীয় এবং সর্বশেষ সংস্করণে গানটি
পূজা পর্যায়ের দ্বিতীয়
গান হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- গ.
সঙ্গীতবিষয়ক তথ্যাবলি:
-
স্বরলিপি:স্বরবিতান
পঞ্চম [(৫,
বিশ্বভারতী, ভাদ্র ১৪১৪)]
[নমুনা]
-
স্বরলিপিকার:
অনাদিকুমার দস্তিদার ।
[অনাদিকুমার
দস্তিদার-কৃত স্বরলিপির তালিকা]
-
সুর ও
তাল:
-
স্বরবিতান
পঞ্চম
খণ্ডে (ভাদ্র ১৪১৪, পৃষ্ঠা: ৩৫-৩৭) গৃহীত স্বরলিপিতে রাগ-তালের উল্লেখ
নেই ।
উক্ত স্বরলিপিটি ৩ /৩ মাত্রা ছন্দে
দাদরা
তালে নিবদ্ধ।
[দাদরা তালে
নিবদ্ধ রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]
-
রাগ:
কাফি-কানাড়া
।
তাল:দাদরা [রবীন্দ্রসংগীত:
রাগ-সুর নির্দেশিকা, সুধীর চন্দ, প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬],
পৃষ্ঠা: ৮২।
[কাফি-কানাড়া
রাগে
নিবদ্ধ রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]
-
রাগ: সাহানা,
কাফি।
দাদরা
[রাগরাগিণীর
এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত, প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ
রাজ্য সংগীত আকাদেমি, জুলাই ২০০১], পৃষ্ঠা: ১৪২
-
বিষয়াঙ্গ:
-
সুরাঙ্গ:
রবীন্দ্রনাথের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর।
-
গ্রহস্বর: সা।
-
লয়:
মধ্য।