ককুভ
উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত শাস্ত্রে বর্ণিত বিলাবল ঠাটের রাগ বিশেষ।
নামান্তর: কুকুভ

খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে রচিত মতঙ্গের রচিত 'বৃহদ্দেশী' গ্রন্থে [পৃষ্ঠা:১৭৭-১৭৮] এই রাগের নাম প্রথম পাওয়া যায়। গীত প্রকরণ হিসেবে একে  সাধারণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এক নজরে ককুভ-এর পরিচয়
  • গ্রাম: ষড়্‌‌জ
  • গ্রামরাগ- জাত:  মধ্যমা, পঞ্চমী  এবং ধৈবতী থেকে উদ্ভূত
  • গীতি: সাধারণী
  • গ্রহস্বর:   ধৈবত
  • অংশস্বর: ধৈবত
  • ন্যাসস্বর: পঞ্চম
  • জাতি: সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ
  • ব্যবহৃত বিকৃত স্বর: অন্তর গান্ধার ও কাকলী নিষাদ
  • রস: অদ্ভুত, বীর ও হাস্য
  • তাল: চচ্চৎপুট
  • মার্গ: চিত্রা, বার্তিক ও দক্ষিণ
  • নাটকে মধ্যমকরণ প্রক্রিয়ার সময়ে এই রাগ ব্যবহৃত হতো।

সঙ্গীতরত্বাকর থেকে এর আক্ষিপ্তিকা দেওয়া হলো-

এই গ্রন্থে যাষ্টিকের উদ্ধৃতিতে এই রাগটিকে গ্রামরাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। [পৃষ্ঠা: ১৭২-১৭৩] এই গ্রামরাগের অধীনস্থ ভাষা রাগ ছিল ৭টি। এগুলো হলো- কাম্বোজ, মধ্যমগ্রামিকা, সালবাহনিকা (সাতবাহিনী), ভাগবর্ধনী (ভোগবর্ধনী), মধুরী (মধুকরী), শকমিশ্রিতাভিন্নপঞ্চমী

শার্ঙ্গদেবের রচিত সঙ্গীতরত্নকারেও এই রাগটিকে গ্রামরাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পণ্ডিত বিষ্ণু নারয়ণ ভাতখণ্ডে (১৮৬০-১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) এই রাগটিকে বিলাবলের ঠাটের অন্তর্ভুক্ত করেন। বর্তমানে উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে ভাতখণ্ডেজির রাগবিধি অনুসৃত হয়ে  থাকে। তাঁর রচিত 'হিন্দুস্থানী সঙ্গীত পদ্ধতি' গ্রন্থে এই রাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে-

'কুকুভ রাগ বিলাবল ঠাঠ থেকেই উদ্ভূত হয়। প্রভাতেই এ-রাগ গাওয়া হয়। বাদী স্বর মধ্যম এবং সম্বাদী ষড়্‌জ। বিলাবলের মতো এখানে সম্পূর্ণ আরোহ দেখতে সুন্দর লাগে। বিলাবলের মতো এখানেও দুটি নিষাদের প্রয়োগ হয়। 'সা-প' এবং 'সা-ম' স্বর-সঙ্গতি মাহাত্ম্যপূর্ণ। কিছু লোক অল্‌হৈয়া ও ঝিঁঝিট যোগ করে গান আর কিছু লোক জৈজৈওয়ন্তী ও অল্‌হৈয়া-র মিশ্রণে এই রাগ গেয়ে থাকেন।'
বর্তমানে প্রচলিত ককুভ রাগের পরিচিত
আরোহণ:  স র গ ম প ধ ন র্স      
অবরোহণ: র্স ণ ধ প ম গ র স
ঠাট: বিলাবল
জাতি: সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ
বাদীস্বর: মধ্যম
সমবাদী স্বর: ষড়্জ
অঙ্গ: পূর্বাঙ্গ।
সময়: দিবা প্রথম প্রহরের সূচনালগ্নে (প্রাতঃকাল)
পকড়: সগ, ম, ণ ধ প, মপ, গম, স, গম, ধণর্স, র্সধণপ, র্সধণপ, ধম, গ, স, গ, ম

সূত্র: