মধুকরী
প্রাচীন ভারতীয় সঙ্গীত শাস্ত্রে বর্ণিত ভাষারাগ বিশেষ ।

খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে যাষ্টিক এই রাগের প্রথম নামোল্লেখ করেছিলেন। একই নামে  ককুভ এবং হিন্দোল গ্রামরাগের ভাষারাগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ককুভ গ্রামারাগের-এর ভাষা বা বিভাষা রাগ মধু্করী
বৃহদ্দেশীতে [পৃষ্ঠা: ২১২] বর্ণিত মধুকরী রাগকে সঙ্কীর্ণা বলা হয়েছে। তবে কোন কোন রাগের মিশ্রণ এই রাগটি তৈরি হয়েছিল, তা জানা যায় নি। এই রাগে ধৈবত, ঋষভ, নিষাদ, ষড়্‌জ এবং পঞ্চমের বহুল ব্যবহার ছিল। সকল স্বরের প্রাধন্য থাকায়, এই 

গ্রামরাগ: ষড়্জগ্রাম
গ্রামরাগ: ককুভ
রাগ প্রকৃতি: ভাষারাগ
জাতি: সম্পূর্ণ -সম্পূর্ণ
অংশস্বর: পঞ্চম

রামকৃষ্ণের 'ভারতকোষ'-এর উদ্ধৃতিতে বৃহদ্দেশীর টীকার লিখেছেন- মধকরী ককুভের বিভাষা রাগ। এর গ্রহ, অংশ, ও ন্যাশ স্বর ধৈবত ছিল। এতে মন্দ্র ও মধ্য সপ্তকে গান্ধার ব্যবহার হতো না। কিন্তু তার সপ্তকে গান্ধারের ব্যবহার ছিল। সঙ্গীতরত্নাকারে মধুকরীকে বিভাষা রাগ বলা হয়েছে। কিন্তু এতে ষড়্‌জকে গ্রহ এবং ন্যাস স্বর, গান্ধারকে অঙপন্যাস স্বর বলা হয়েছে। 

'বৃহদ্দেশী' গ্রন্থে বর্ণিত আক্ষেপ্তিকা

হিন্দোল গ্রামরাগের-এর ভাষারাগ মধু্করী
বৃহদ্দেশীতে [পৃষ্ঠা: ২১৭]  হিন্দোলের চতুর্থ ভাষারাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত এটি সম্পূর্ণ জাতীয় রাগ। এতে পঞ্চম দুর্বলভাবে প্রয়োগ হয়। এই স্বরটি লোপ পেলে রাগটি ষাড়ব জাতির হয়। এই রাগের অংশস্বর মধ্যম এবং ন্যাস স্বর ষড়্‌জ। এই রাগে ধৈবত ও নিষাদের বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এতে ষড়্‌জ ও ধৈবতের স্বরসঙ্গতি হয়।


সূত্র: