তাওরাতের উৎপত্তি:
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৬০০ থেকে ৩১০০ অব্দের ভিতরে
নীলনদের তীরবর্তী মানুষ দুটি প্রধান ধারার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল। এই নদীপ্রবাহের
সূত্রে সৃষ্টি হয়েছিল দুটি প্রধান ধারা। ঐতিহাসিকরা এর নাম দিয়েছেন উচ্চভূমির মিশর
ও নিম্নভূমির মিশর। এই দুটি সংস্কৃতিকে একটি অখণ্ড ধারায় পরিণত করেছিলেন মেনেস নামক
রাজা। এই থেকে শুরু হয় মিশরে ফারাও রাজবংশের
শাসন। এই ফারাওদের শাসনামলে ঈশ্বরে আশীর্বাদপুষ্ট মানুষ মোসেস জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং ইসলাম ধর্ম মতে তিনি ছিলেন একজন ঐশী ক্ষমতার অধিকারী
পয়গম্বর। সিগমুণ্ড ফ্রয়েড তাঁর 'Moses
and Monotheism' গ্রন্থে মোসেসকে মিশরীয়
হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই গ্রন্থ মতে আখনআটন (১৩৫২-১৩৩৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)-এর
মৃত্যুর পর, ভিন্ন ধর্মের প্রচারক হিসেবে মোসেস মিশর ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। এর অল্প
সময়ের ব্যবধানে মিশরের রাজসিংহাসনে বেশ কয়েকজন ফারাও অধিষ্ঠিত হন। তবে
ঐতিহাসিকদের মতে মোসেস থুৎমাস দ্বিতীয় (১৪৯৩-১৪৭৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)-এর শাসনামলে
মোসেস ঐশী বাণী প্রচার করেছিলেন। এই বাণী অনুসারে প্রতিষ্ঠত হয় ইহুদী ধর্ম। এই
সূত্রে সৃষ্টি হয়েছে তাওরাত নামক গ্রন্থ। হিব্রু ভাষায় একে বলা হয় তোরাহ
(Torah)। অনেক সময় ইহুদিরা মূলগ্রন্থ
হিসেবে তাওরাতকে, হিব্রু তানাখ
( Tanakh) বলে
থাকেন। তাওরাত শব্দের অর্থ হলো
পঞ্চপুস্তক। কারণ, আদি তাওরাত ছিল পাঁচটি গ্রন্থের সংকলন। খ্রিষ্টধর্মের পুরাতন
বাইবেলে এই পাঁচটি গ্রন্থ গ্রহণ করা হয়েছে। তাওরাতের এই পাঁচটি গ্রন্থ হলো-
১. Bəreshit (בְּרֵאשִׁית,): ইংরেজি নাম Genesis। বাংলা ভাষায় অনূদিত বাইবেলে এর নাম রাখা হয়েছে আদিপুস্তক।
২. Shəmot (שִׁמוֹת): ইংরেজি নাম Exodus। বাংলা ভাষায় অনূদিত বাইবেলে এর নাম রাখা হয়েছে যাত্রা পুস্তক।
৩. Vayikra (ויקרא): ইংরেজি নাম Leviticus। বাংলা ভাষায় অনূদিত বাইবেলে এর নাম রাখা হয়েছে লেবিয় পুস্তক।
৪. Bəmidbar (במדבר): ইংরেজি নাম Numbers। বাংলা ভাষায় অনূদিত বাইবেলে এর নাম রাখা হয়েছে গণনা পুস্তক।
৫. Dəvarim (דְּבָרִים): ইংরেজি নাম Deuteronomy। বাংলা ভাষায় অনূদিত বাইবেলে এর নাম রাখা হয়েছে দ্বিতীয় বিবরণ।
সূত্র: