অভিজ্ঞতা
প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, অনুশীলন বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান বা প্রজ্ঞার ব্যবহারিক রূপ।
পদ : বিশেষ্য
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা  {প্রজ্ঞাজ্ঞান | অভিজ্ঞা | মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা | বিমূর্তন | বিমূর্ত সত্তা | সত্তা }
ইংরেজি:
experience
ব্যাখ্যা: একটি বিষয়ের জানার ক্ষুদ্র অংশ হলো অভিজ্ঞা, একটি বিষয়ের একটির অংশের অভিজ্ঞার সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় জ্ঞান। আর প্রকৃষ্টরূপে কোনো বিষয় সম্পর্কে জানাটা হলো প্রজ্ঞা। প্রকৃষ্টরূপে জানার জন্যই প্রজ্ঞার ক্ষেত্রটি অনেক বড়। এই প্রজ্ঞা থেকে জন্ম নেয় অভিজ্ঞতা। আবার প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে জ্ঞানের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। ফলে জ্ঞানজগতে জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতা একটি চক্র অনুসরণ করে বিকশিত হয় এবং জ্ঞানে স্থিতি লাভ করে।

মূলত কোনো সত্তা, ঘটনা বা বিষয় সম্পর্কে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, অনুশীলন বা বাস্তব অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে ব্যবহারিক উপলব্ধি জন্মে, তাকে অভিজ্ঞতা বলা হয়। অভিজ্ঞতা কেবল তথ্য জানা নয়; বরং অর্জিত জ্ঞান বা প্রজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ ও তার ফল উপলব্ধি করার মানসিক অবস্থা। অনুশীলনের সত্তাতাত্ত্বিক কাঠামোতে অভিজ্ঞা হলো জ্ঞানের ক্ষুদ্রতম একক। বহু অভিজ্ঞার সমন্বয়ে জ্ঞান সৃষ্টি হয় এবং সেই জ্ঞান বিচার, বিশ্লেষণ ও প্রয়োগের মাধ্যমে প্রজ্ঞা-য় পরিণত হয়। প্রজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ থেকে জন্ম নেয় অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে নতুন অভিজ্ঞা সৃষ্টি করে, যা নতুন জ্ঞান ও নতুন প্রজ্ঞার ভিত্তি গঠন করে। এইভাবে অভিজ্ঞা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা একটি ধারাবাহিক চক্রে পরস্পরকে সমৃদ্ধ করে জ্ঞান-বিকাশের পথ নির্মাণ করে।

অধঃক্রমবাচকতা