বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত।
শিরোনাম:
তার
অন্ত নাই গো যে
আনন্দে
গড়া আমার
অঙ্গ।
পাঠ
ও পাঠভেদ:
- গীতবিতান অখণ্ড (বিশ্বভারতী, কার্তিক
১৪১২)-এর পূজা
পর্যায়ের ৩১২ সংখ্যক গান। উপবিভাগ
আনন্দ
৪:
তার
অন্ত নাই গো যে
আনন্দে
গড়া আমার
অঙ্গ।
তার
অণু-পরমাণু পেল কত
আলোর
সঙ্গ,
ও তার অন্ত
নাই গো নাই।
তারে
মোহনমন্ত্র দিয়ে গেছে কত ফুলের গন্ধ,
তারে
দোলা দিয়ে দুলিয়ে গেছে কত ঢেউয়ের ছন্দ,
ও তার অন্ত
নাই গো নাই।
আছে
কত সুরের সোহাগ যে তার স্তরে স্তরে লগ্ন,
সে যে
কত রঙের রসধারায় কতই হল মগ্ন,
ও তার অন্ত
নাই গো নাই।
কত
শুকতারা যে স্বপ্নে তাহার রেখে গেছে স্পর্শ,
কত
বসন্ত যে ঢেলেছে তায় অকারণের হর্ষ,
ও তার অন্ত
নাই গো নাই।
সে যে
প্রাণ পেয়েছে পান করে যুগ-যুগান্তরের স্তন্য—
ভুবন
কত তীর্থজলের ধারায় করেছে তায় ধন্য,
ও তার অন্ত
নাই গো নাই।
সে যে
সঙ্গিনী মোর,
আমারে
সে দিয়েছে বরমাল্য।
আমি
ধন্য, সে মোর
অঙ্গনে যে কত প্রদীপ জ্বালিল—
ও তার অন্ত
নাই গো নাই।
RBVBMS 229
[নমুনা]
পাঠভেদ:
স্বরবিতান-৪৪'এর
৭৯ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত পাঠভেদ অনুসারে নিচের পাঠভেদটি দেখানো হলো-
কত
বসন্ত যে ঢেলেছে তায়
: গীতলেখা ৩ (১৩২৭)
কত
বসন্ত-যে
ঢেলেছে তা'র
: গীতবিতান
(আশ্বিন ১৩৩৮)
রচনাকাল ও স্থান: RBVBMS 229
পাণ্ডুলিপিতে
গানটির সাথে উল্লেখ আছে, '৫ই
বৈশাখ/১৩১৫/শান্তিনিকেতন'।
১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত
'গীতিমাল্য'-তে গানটির তারিখ '১লা
বৈশাখ ১৩২১ শান্তিনিকেতন'। সম্ভবত পাণ্ডুলিপির তারিখটি ভুলক্রমে '১৯১৫'-এর
পরিবর্তে '১৩১৫' হয়ে গিয়েছিল।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর
৫২ বৎসর ১১ মাস অতিক্রান্ত বয়সে গানটি রচনা করেছিলেন। উল্লেখ্য,
১৩২১ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখে
রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ছিলেন। ধারণা করা হয়- এইদিনের সকালে রবীন্দ্রনাথ রচনা
করেন- 'মোর প্রভাতের
এই প্রথম খনের কুসুমখানি'
গানটি। বৈশাখ মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত তিনি মোট ৪টি গান রচনা করেন।
[৫২ বৎসর
অতিক্রান্ত বয়সে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা]
প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
- গ্রন্থ:
-
কাব্যগ্রন্থ
-
নবম খণ্ড
[ইন্ডিয়ান প্রেস
১৩২৩। গীতালি ৪৯। পৃষ্ঠা ৪৭২-৪৭৩]
[নমুনা]
-
গীতবিতান
-
দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথম সংস্করণ
[বিশ্বভারতী,
আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ। ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত 'গীতিমাল্য'র
প্রথম সংস্করণ থেকে গৃহীত হয়েছিল। পৃষ্ঠা ৪৬২]
[নমুনা]
-
প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ
[বিশ্বভারতী, মাঘ
১৩৪৮। পর্যায়:
পূজা,
উপবিভাগ:
আনন্দ
৪,
পৃষ্ঠা: ১২৭-১২৮]
[নমুনা:
প্রথমাংশ,
শেষাংশ]
- অখণ্ড সংস্করণ, তৃতীয় সংস্করণ ( বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২ ),
পর্যায়:
পূজা ৩১২,
উপবিভাগ:
আনন্দ
৪।
-
গীতিমাল্য
-
প্রথম সংস্করণ
[ইন্ডিয়ান
পাবলিশিং হাউস, ১৯ আষাঢ় ১৩২১ বঙ্গাব্দ। ৯৯ সংখ্যক
গান। পৃষ্ঠা:
১২১]
[নমুনা]
- রবীন্দ্ররচনাবলী
একাদশ খণ্ড (বিশ্বভারতী)। পৃষ্ঠা ২০৪।
-
গীতলেখা ৩য় ভাগ (১৩২৭
বঙ্গাব্দ)।
দিনেন্দ্রনাথ
ঠাকুর-স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
-
সঞ্চয়িতা
[বিশ্বভারতী ১৩৩৮
বঙ্গাব্দ। গীতিমাল্য। শিরোনাম: দেহ। পৃষ্ঠা: ৪৮২]
[নমুনা]
-
স্বরবিতান একচত্বারিংশ
(৪১) খণ্ডের ১৪ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ৪১-৪৪।
[নমুনা]
- পত্রিকা:
-
আনন্দসংগীত
[মাঘ-চৈত্র ১৩২৪
বঙ্গাব্দ।
দিনেন্দ্রনাথ
ঠাকুর-স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল]
- প্রকাশের কালানুক্রম:
গানটি প্রথম
গীতিমাল্য
প্রথম সংস্করণে (১৩২১
বঙ্গাব্দ) অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর যে সকল পত্রিকা ও
গ্রন্থাদিতে গানটি স্থান পেয়েছিল, সেগুলো হলো-
কাব্যগ্রন্থ
নবম খণ্ড
(১৩২৩
বঙ্গাব্দ),
আনন্দসংগীত
(১৩২৪
বঙ্গাব্দ),
গীতলেখা ৩য় ভাগ (১৩২৭
বঙ্গাব্দ)।
এ সকল পত্রিকা এবং গ্রন্থাদিতে গানটি প্রকাশের পর
গীতবিতান
-এর
দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথম সংস্করণ
১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত 'গীতিমাল্য'-র প্রথম সংস্করণ থেকে গৃহীত
হয়েছিল। এরপর
সঞ্চয়িতাতে
(১৩৩৮
বঙ্গাব্দ)
গানটি গৃহীত হয়েছিল
গীতিমাল্য
থেকে।
গীতবিতান
-এর
প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে।
এই সংস্করণে গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল
পূজা,
পর্যায়ের
আনন্দ
উপবিভাগের
চতুর্থ
গান হিসেবে। ১৩৭১
বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে প্রকাশিত অখণ্ড গীতবিতানের
পূজা
পর্যায়ের ৩১২ সংখ্যক গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত
হয়েছিল।
গানটি
একইভাবে অখণ্ড গীতবিতানের তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত
হয়েছিল ১৩৮০ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে।
সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
- স্বরলিপিকার:
দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
[স্বরলিপিটি আনন্দসঙ্গীত পত্রিকা
(১০-১২।১৩২৪ বঙ্গাব্দ) থেকে স্বরবিতান-৪১-এ গৃহীত হয়েছে।]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ:
পূজা (আনন্দ)
- সুরাঙ্গ: কীর্তনাঙ্গ।
- রাগ:
- সুকুমারসেন তাঁর '
রবীন্দ্রনাথের গান' নামক গ্রন্থে এ গানটিকে বাউলের ঠাটে বাধা বলে
উল্লেখ করে লিখেছেন,–একটি গানে (৫ই বৈশাখ ১৩২১, গীতিমাল্য) জড় থেকে
জীবের বিবর্তনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা ইতিহাস চতুরঙ্গ গানের মোড়কে
পরিবেশিত হয়েছে বাউলের ঠাটে।' টেগোর রিসার্চ ইনষ্টিটিউট। পৃষ্ঠা
৪১।
- বাউল। [রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর
নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬ । পৃষ্ঠা:
৫৪]
- কীর্তন। [রাগ-রাগিণীর এলাকায়
রবীন্দ্রসংগীত। প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত
আকাদেমি, জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা:
৯৫]
- তাল:
একতাল।
- স্বরবিতান-৪১-এ
গৃহীত স্বরলিপিতে রাগ-তালের উল্লেখ নেই। উক্ত স্বরলিপিতে
ছন্দোবিভাজন দেখানো হয়েছে,
৩।৩।৩।৩ মাত্রা ছন্দে
'একতাল'-এ নিবদ্ধ।
- রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬
। পৃষ্ঠা:
৫৪।
- রাগ-রাগিণীর এলাকায়
রবীন্দ্রসংগীত। প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত
আকাদেমি, জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা:
৯৫।
[একতাল
তালে নিবদ্ধ গানের তালিকা]
- গ্রহস্বর:
র্সা।
- লয়: মধ্য।