|
|
|
দিনেনন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তাঁর র স্ত্রীর কমলা দেবী |
|
|
|
১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে রামগড়ে তোলা ছবি। বাম থেকে- রবীন্দ্রনাথ, অতুলপ্রসাদ সেন ও দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। |
|
|
|
দাঁড়িয়ে:
রমাদেবী (সুধীন্দ্রনাথের জৈষ্ঠ্যা কন্যা),
দিনেন্দ্রনাথ,
কমলা দেবী, |
১. আমার পরাণ যাহা চায়শেষ পর্যন্ত 'মেঘের পরে মেঘ জমেছে' এবং 'আলোকের এই ঝর্নধারায়' গানটি গ্রামোফোন কোম্পানি প্রকাশ করেন নি। পরবর্তী সময়ে এই দুটি গানের স্বরলিপি নিয়ে নানা ধরনের তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। পরবর্তীকালে বিশ্বভারতী মিউজিক বোর্ড দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সকল গান প্রকাশের অনুমতি দিলেও এই দুটি গান প্রকাশের অনুমতি দেয় নি।
২. আমার মিলন লাগি তুমি
৩. আমার মাথা নত করে দাও
৪. মেঘের পরে মেঘ জমেছে
৫. আজি মর্মর ধ্বনি কেন
৬. আলোকের এই ঝর্নধারায়
১. গীতলেখা, প্রথম খণ্ড (১৩২৪ বঙ্গাব্দ), দ্বিতীয় খণ্ড (১৩২৫ বঙ্গাব্দ), তৃতীয় খণ্ড (১৩২৭ বঙ্গাব্দ)তারপরেও তাঁর করা স্বরলিপি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ সন্দিহান ছিলেন। ১৩২১ বঙ্গাব্দের ২০ জ্যৈষ্ঠ তারিখে রবীন্দ্রনাথ রামগড় থেকে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরকে লিখা একটি চিঠি থেকে তেমন আভাষই পাওয়া যায়। তিনি লিখেছিলেন-
২. গীতপঞ্চাশিকা (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ)
৩. বৈতালিক (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ)
৪. গীতপত্র (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ। এই গ্রন্থের ৮টি স্বরলিপি রবীন্দ্রনাথের সাথে করা।
৫. কেতকী (১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ)
৬. শেফালি (১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ)
৭. গীতবীথিকা (১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ)
৮. কাব্যগীতি (১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ)
৯. নবগীতিকা, দুই খণ্ড (১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ)
১০. বসন্ত (১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ)
১১. গীতমালিকা, দুই খণ্ড (১৯২৬, ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ
১২. বাল্মীকি প্রতিভা (১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ)
১৩. তপতী (১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ)
গান অনেক তৈরি হয়েচে। এখনো থামচেনা— প্রায় রোজই একটা না একটা চলছে। আমার মুস্কিল এই যে সুর দিয়ে আমি সুর ভুলে যাই। দিনু কাছে থাকলে তাকে শিখিয়ে দিয়ে বেশ নিশ্চিন্ত মনে ভুলতে পারি। নিজে যদি স্বরলিপি করতে পারতুম কথাই ছিল না। দিনু মাঝে মাঝে করে কিন্তু আমার বিশ্বাস সেগুলো বিশুদ্ধ হয় না। সুরেন বাঁড়ুজ্জের সঙ্গে আমার দেখাই হয়না- কাজেই আমার খাতা এবং দিনুর পেটেই সমস্ত জমা হচ্ছে। এবার বিবি সেটা কতক লিখে নিয়েছে। কলকাতায় গিয়ে এসব গান গাইতে গিয়ে দেখি কেমন ম্লান হয়ে যায়।- তাই ভাবি, এগুলো হয়তো বিশেষ কারো কাজে লাগবেনা।' [সূত্র : রবিজীবনী সপ্তম খণ্ড। প্রশান্তকুমার পাল (আষাঢ় ১৪১৪)]মায়ারখেলার স্বরলিপি নিয়ে ইন্দিরাদেবী চৌধুরাণী'র সাথে দিনেন্দ্রনাথের বেশে খিটিমিটির সৃষ্টি হয়েছিল। ১৩২৬ বঙ্গাব্দের রবীন্দ্রনাথের সাথে ইন্দিরাদেবী র পত্র বিনিময়ের মধ্যে তা স্পষ্ট ধরা পরে। ১৩২৬ বঙ্গাব্দের ১০ই অগ্রহায়ণ এবং ২১শে অগ্রহায়ণের দুটো চিঠি থেকে বুঝা যায়. দিনেন্দ্রনাথের প্রতি ইন্দিরাদেবী ;কি পরিমাণ ক্ষুব্ধ ছিল।
১০ই অগ্রহায়ণ, ১৩২৬ বঙ্গাব্দে ইন্দিরাদেবী কে লেখা রবীন্দ্রনাথের চিঠি−রবীন্দ্রনাথের 'বেকসুর খালাস' ইন্দিরাদেবী পছন্দ করেন নি। তিন এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এর উত্তরে রবীন্দ্রনাথ ২১শে অগ্রহায়ণ ইন্দিরাদেবী কে আরও একটি চিঠি লেখেন।'মায়ার খেলা'র স্বরলিপি বদল করে হাল নিয়মানুগত করে লেখার জন্য দিনুর হাতে দিয়েছি। কিন্তু ওর হাত খুব সচল নয়। ওর কাছ থেকে কাজ আদায় করার মজুরি পোষাবে কিনা জানিনে। ও নিজে যে স্বরলিপি লিখে তাতে হাত চালিয়ে কাজ করে কিন্তু এ ক্ষেত্রে ওর বিশেষ উৎসাহের লক্ষণ এখনো দেখ্চিনে।
দিনু এখানকার ছেলেদের 'বিশ্ববীণারবে' যে ধাঁচায় গাইতে শিখিয়েচে সেই ধাঁচা অনুসারে স্বরলিপি লিখেচে। ঠিক মূলের অনুবর্তন করা দরকার মনে করেনি। মৈথিলি বিদ্যাপতি বাংলায় এসে যেমন স্বাতন্ত্র্য অবলম্বন করেচে এবং সেই স্বাতন্ত্র্যকে আমরা স্বীকার করেও নিয়েচি এই সমস্ত বিদেশী সুরেরও সেই রকম কিছু পরিবর্তন হবেই- হলে দোষই বা কি? এই সব যুক্ত মনে এনে ওকে আমি বেকসুর খালাস দিতে ইচ্ছে করি। আমি জানি এ সম্বন্ধে তোর আইন অত্যন্ত কড়া কিন্তু আমার মনে হয় পরদ্রব্য আত্মসাৎ করা সম্বন্ধে ঢিলেমি সাহিত্যে ললিতকলায় সকল অবস্থায় ফৌজদারী অথবা দেওয়ানী আদালতের বিচার এলাকায় আসে না।
>'বিশ্ববীণারবে'র বিকৃতি সম্বন্ধে তোর আপত্তি সমর্থন করে তুই যে একটি অমোঘ যুক্তি সব শেষে নিক্ষেপ করেছিস সে একেবারে শক্তিশেলের মত এসে আমার মন্তব্যটাকে এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় করেচে।...দিনু যখন ভুল করে 'বিশ্ববীণারবে' শেখালে আমি বল্লুম বেশ হচ্চে, এই রকম হওয়াই উচিত। বুঝেছিস কেন? যদি বলি অন্যরকম হওয়া উচিত তাহলে হাঙ্গামা বাড়ে। তউ হয় ত রেগেমেগ শাপ দিয়ে বসবি, তোমার গান তাহলে সকলে যা ইচ্ছে তাই করে গাক।... মানুষকে ক্ষমা করতে গেলে মানুষকে বুঝতে হয়- সেইজন্যে এতক্ষণ ধরে তোকে বোঝাবার চেষ্টা করা গেল কিন্তু ক্ষমা করবি কিনা আমার সন্দেহ রয়ে গেল।১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে শৈলজারঞ্জন মজুমদার 'বিশ্বভারতী'র সঙ্গীতভবনের অধ্যক্ষ পদে ইস্তফা দেন এবং কলিকাতায় বসবাস আরম্ভ করেন। এরপর থেকে স্বরলিপি নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্ক শুরু হয়। সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কিরণশশী দে এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি করেছেন এবং এ বিতর্ক এখনো আছে।