দিনাজপুর জেলা
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি জেলা।
স্থানাঙ্ক: ২৫১০
'' এবং  ২৬০৪'' উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৮০৫'' ও ৮৫২৮'' দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত

অবস্থান:
উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে বিস্তৃত দিনাজপুর জেলার উত্তরে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা, দক্ষিণে গাইবান্ধা জয়পুরহাট জেলা, পূর্বে নীলফামারী ও রংপুর জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ

এর আয়তন ৩,৪৪৪.৩০ ব:কিঃমিঃ (১৩২৯.৮৫ বঃ মাঃ)। এই জেলার উপজেলা ১৩টি। উপজেলাগুলো হলো
বোচাগঞ্জ, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ,
দিনাজপুর সদর, খানসামা, চিরিরন্দর ও ফুলবাড়ী। পৌরসভা ৮টি। ইউনিয়ন ১০২টি। গ্রাম ২,১৩১টি। মৌজা ১,৯২৬টি।

২০১১ সালের আদমশুমারী রিপোর্ট অনুযায়ী ৩১,০৯,৬২৮ জন।

ইতিহাস
আধুনিক প্লেট-টেকনিক মতানুসারে হিমালয় পর্বতমালার উত্থান ঘটেছিল ইন্দো-অস্ট্রেলীয় প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের সূত্রে। এই সংঘর্ষের সূত্রে সৃষ্টি হয়েছিল মায়ানমারের আরাকান উচ্চভূমি, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপূঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগর। প্রায় ৭ কোটি বৎসর আগে ক্রেটাসিয়াস অধিযুগ  ইন্দো-অস্ট্রেলীয় প্লেট প্রতি বৎসর ১৫ সেন্টিমিটার বেগে ইউরেশীয় প্লেটের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। ৫কোটি বৎসর আগে এই প্লেট দ্রুত টেথিস সাগরে অতি নিকটে চলে আসে। ফলে সাগরতল সঙ্কুচিত হয়ে নানারকম উঁচু-নিচু অবস্থায় পৌঁছায়। সেই সাথে অসংখ্য অগ্ন্যুৎপাৎ ঘটে। এরই সূত্রে হিমালয় পর্বতমালার উত্থান ঘটতে থাকে। আর হিমালয় পর্বতমালার উত্থানের সূত্রে দিনাজপুর অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছিল।

চৈনিক ও ইউরোপীয় ভ্রমণকারীদের বিবরণীতে বৃহৎ ও সুনাব্য নদীরূপে বর্ণিত করতোয়া নদীর তীরে কোন এক অজ্ঞাত সময় থেকে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। করতোয়ার তীরে গড়ে উঠে বলে একে করতোয়া সভ্যতা হিসেবে অভিহিত করা যায়। অনুমিত হয়, মধ্যযুগে মহাস্থান, বানগড় এবং মোগল যুগে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটই ছিল এই সভ্যতার প্রধান নাগরিক কেন্দ্র। ইতিহাস খ্যাত পঞ্চনগরী দিনাজপুরেই অবস্থিত ছিল।


মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত ব্রাহ্মীলিপি থেকে অনুমান করা যায়, উত্তরবঙ্গ তথা পুণ্ড্রবর্ধন খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩-৩২৪ অব্দের দিকে চন্দ্রগুপ্তের অধিকারে এসেছিল। সেই সূত্রে ধীরে ধীরে মৌর্যবংশের শাসনাধীন চলে যায়। এই বংশের উল্লেখযোগ্য রাজারা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত , বিন্দুসার এবং অশোকঅশোক-এর রাজ্যের পূর্বদিকের একটি অংশ ছিল বঙ্গদেশ। মৌর্য সম্রাজ্যের পতনের পর বঙ্গদেশ মোটামুটিভাবে বেশ স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। এই সময়ে সমগ্র বঙ্গদেশের ভিতর পুণ্ড্রবর্ধন একটি সমৃদ্ধশালী নগরীতে পরিণত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ১৮৫ অব্দে মৌর্যবংশের শেষ রাজা বৃহদ্রথকে হত্যাকরে পুষ্যমিত্র রাজা হন। এই সূত্রে মৌর্য সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় শুঙ্গ-রাজবংশের শাসন। শুঙ্গ রাজবংশের রাজত্বকাল ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ১৮৫ অব্দ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৭৩ অব্দ। এই রাজবংশের শেষ রাজা দেবভূতি খ্রিষ্টপূর্ব ৮২ অব্দে রাজত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী গুপ্তবংশের শাসনামলে এই অঞ্চল তাঁদের অধিকারে ছিল। গৌড় রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাজা শশাঙ্ক গৌড়ের অধিপতি হন। ঐতিহাসিকদের মতে ৬০৬ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তিনি নিজেকে রাজা হিসেবে ঘোষণা দেন। গঞ্জামের তাম্রলিপি থেকে জানা যায়, শশাঙ্কের ৬১৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর রাজধানীর নাম ছিল মুর্শিদাবাদ জেলার কর্ণসুবর্ণ। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বঙ্গদেশে চরম অরাজকতা নেমে আসে এবং তা প্রায় ১০০ বৎসর ধরে চলে। বাংলার ইতিহাসে একে মাৎস্যনায়ের বলা হয়। ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে হিউয়েন সাং বাংলা পরিভ্রমণকালে বঙ্গদেশে চারটি স্বাধীন রাজ্যের নাম উল্লেখ করেছেন। এই রাজ্যগুলো হলো পুণ্ড্রবর্ধন (উত্তরবঙ্গ), কর্ণসুবর্ণ (পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল), সমতট (দক্ষিণ ও পূর্ববঙ্গ)  ও তাম্রলিপ্ত।

শশাঙ্ক-এর মৃত্যর পর
পালবংশীয় রাজারা এই অঞ্চল শাসন করতেন। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে পাল বংশের ভ্রাম্যমাণ রাজধানীর বহু ধ্বংসাবশেষ দিনাজপুরের মাটিতে মিশে আছে। পাল রাজত্বকালে পার্বত্য কম্পোজ জাতির আক্রমণ এবং কৈবর্ত বিদ্রোহের ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে দিনাজপুর। সেন রাজত্বকালে নির্মিত অসংখ্য দেব-দেবীর প্রস্তরমূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে দিনাজপুরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায়।

১২০২ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দীন বখতিয়ার খিলজি নদীয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে। নদীয়ার রাজা লক্ষ্মণসেন পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। এরপর তিনি বাংলার রাজধানী গৌড় দখল করেন। বখতিয়ার খিলজির সৈন্যরা এই সকল অঞ্চলে ব্যাপক হত্যা ও লুণ্ঠন করে। ফলে বহুলোক পুর্ববঙ্গ ও কামরূপে পালিয়ে যায়। ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে তিনি ধীরে পশ্চিম ও উত্তরবঙ্গ দখল করে নেন।  ১২২০ সালে গৌঁড়ে স্থানান্তরিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দেবকোর্টই ছিল বাংলার রাজধানী।

চেহেলগাজীগণ দিনাজপুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজা গোপালের সময় ইসলামের বার্তা নিয়ে চেহেলগাজীদের আবির্ভাব হয়। ন্যায়ের স্বার্থে রাজা গোপালের সেনাদলের সাথে ভয়ানক যুদ্ধে মুজাহিদগণ শহীদ হয়েও ভক্তদের মনে মহান গাজীত্বের সম্মান লাভ করেন। গাজীগণ সংখ্যায় ৪০ জন হওয়ায় তাঁদের ৫৪ ফুট দীর্ঘ সমাধিস্থলটি চেহেলগাজীর মাজার নামে পরিচিত যা দিনাজপুর শহরের উত্তর উপকণ্ঠে অবস্থিত। এছাড়া দিনাজপুরের গড়মল্লিকপুর এবং খানসামার দুহসুহ গ্রামে যথাক্রমে ৮৪ ফুট এবং ৪৮ ফুট দীর্ঘ দুটি মাজার আছে যা যথাক্রমে গঞ্জে শহীদ এবং চেহেলগাজী নামে পরিচিত।

দিল্লী শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সুরক্ষায় ইলিয়াস শাহ্ কর্তৃক নির্মিত ঐতিহাসিক একডালা দুর্গের অবস্থানও ছিলো দিনাজপুরের মধ্যেই। হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে গৌড়ীয় সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহকে অপসারণ করে গৌড়ের মসনদে আরোহণকারী রাজা গণেশ দিনাজপুরের অধিবাসী ছিলেন। পরবর্তীতে গণেশ পুত্র যদু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জালালুদ্দীন নাম ধারণ করে গৌড়ের সিংহাসনে আরোহণ করেন।

গৌড়ীয় সুলতান বরবক শাহের সেনাপতি ইসমাইল গাজীর নেতৃত্বে আত্রাই নদীর তীরবর্তী মাহিসন্তোষ নামক স্থানে কামতারাজের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয় এবং পরে কামতাপুর দুর্গ (দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে) বিজীত হয়। ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর পশ্চিমতীরে ইসমাইল গাজী এক মুসলিম নগরীর গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী কালে ইহা বিখ্যাত ঘোড়াঘাট সরকার নামে পরিচিত হয়। জিন্দাপীর নামে অভিহিত ইসমাইল গাজী ও বহু আউলিয়ার মাজার ঘোড়াঘাটে বিদ্যমান।

১৪৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান বরবক শাহ সম্পাদিত এবং চেহেলগাজীর মাজারে প্রাপ্ত একটি ফার্সী শিলালিপি থেকে জানা যায় দিনাজপুর শহরসহ উত্তরাংশের শাসনতান্ত্রিক এলাকার শাসনকর্তা নসরত উলুখ নসরত খাঁন চেহেলগাজী মাজারের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন মসজিদ বলে চিহ্নিত। হোসেন শাহী আমলের বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলাম প্রচারকের মাজার দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, দেবকোটসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এছাড়া দিনাজপুরের বুকে শেরশাহী আমলের মসজিদ, সড়ক ও সেতু শূরবংশীয় অধিকারের প্রমাণ বহন করে।

মোগল আমলে বাংলা বিজয়ের পর সমগ্র বাংলাদেশকে ২৪টি সরকারে ভাগ করা হয়। এতে দিনাজপুরে ঘোড়াঘাট, বরকাবাদ, তাজপুর এবং পিঞ্জরা নামের ৪টি সরকার অন্তর্ভুক্ত হয়। সবদিক বিবেচনায় বাংলার ঘোড়াঘাট শ্রেষ্ঠ সরকার ছিল। ঘোড়াঘাটের শেষ ফৌজদার ছিলেন ঐতিহাসিক গ্রন্থ ’মোজাফফরনামা’ রচয়িতা করম আলী খান। সে সময় মসজিদ ও মুসলিম নগরীতে পরিণত হয় মোগল আমলের ঘোড়াঘাট। বিখ্যাত সূরা মসজিদ ও আউলিয়াদের মাজারে ধন্য হয় ঘোড়াঘাট।


১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধের সময় এই অঞ্চল মুসলিম শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ সেনাপতি মিঃ কোট্রিল ঘোড়াঘাটের শেষ মুসলিম ফৌজদার করম আলী খানকে পরাজিত করে এই অঞ্চল কোম্পানির অধিকারে আনে। এই সাথে রাজধানী ঘোড়াঘাটের অবনতি ঘটে। ইংরেজরা

দিনাজপুরে নতুন প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে। এই সূত্রে দিনাজপুর শহরে যাত্রা শুরু হয়। এই সময় এই অঞ্চলের রাজস্ব আদায় শুরু হয় রংপুর-এর সাথে। ১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে জেলা শাসনের জন্য দিনাজপুরে স্বতন্ত্র স্থায়ী কালেক্টরেট স্থাপিত হয়। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ইংরেজরা ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুরকে নতুন জেলা হিসেবে ঘোষণা দেয়। দিনাজপুরের কালেক্টর মিঃ এইচ জে হ্যাচ ১৭৮৬-১৭৯৩ পর্যন্ত কালেক্টর ছিলেন। এই কালেক্টরের তত্ত্বাবধানে দিনাজপুরে প্রথম নিজস্ব কালেক্টরেট ভবন নির্মিত হয় বর্তমান বাহাদুর বাজারস্থ গোলকুঠি বাড়ীতে। ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুরে জেলার দপ্তর স্থাপন করে। সে সময়ের জেলা শহরটির গড়ন শুরু হয় রাজাদের দেয়া কয়েকটি মৌজার উপর। রাজবাড়ী থেকে সমস্ত নথিপত্র প্রত্যাহার করে গোলকুঠি ভবনে আনা হয়।

১৮০০ থেকে ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুরের বড় বড় এষ্টেট পূর্ণিয়া, রংপুর এবং রাজশাহী জেলার সংগে যুক্ত করা হয়।
১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে আর একটি সুবিস্তৃত অংশ বগুড়া ও মালদহ জেলার সাথে যুক্ত করা হয়।
১৮৬৪-১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে খট্রা নামক একটি সুবিশাল মোগল পরগণাকে এ জেলা থেকে ছেঁটে বগুড়া জেলার সাথে যুক্ত করা হয়।
১৮৬৮-১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এ জেলার অপর একটি বৃহৎ অংশ বগুড়া ও মালদহ জেলায় যুক্ত হয়।
১৮৯৭-১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে এ জেলার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত মহাদেবপুর থানা রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হয়।

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাক-ভারত বিভাজনের সময় এই জেলাটি বিভাজিত হয়। রাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুসারে এ জেলার দশটি থানা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভূক্ত হয় এবং পশ্চিম দিনাজপুর জেলা গঠন করে। অপরদিকে পশ্চিম বাংলার জলপাইগুড়ি জেলা হতে তেতুলিয়া, পঞ্চগড়, বোদা, দেবীগঞ্জ ও পাটগ্রাম থানা দিনাজপুরের সাথে যুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকার শাসনকার্যের সুবিধার্থে পাটগ্রাম থানাটি রংপুরের সাথে এবং দিনাজপুরের দক্ষিণ অংশের ধামইর, পোরশা ও পত্নিতলা থানা তিনটি তৎকালীন রাজশাহীর নওগাঁ মহকুমার সাথে যুক্ত করে। সর্বশেষ ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুরের দুটি মহকুমা ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় আলাদা জেলায় পরিণত করা হয়।

দর্শনীয় স্থান:
কান্তজীর মন্দির
ফুলবাড়ির দুর্গ
গোপালগঞ্জ পঞ্চরত্ন মন্দির
সোনাভানের ধাপ
রাজবাড়ি
চেহালগাজী মসজিদ ও দরগা
ঘোড়াঘাট দুর্গ
সীতাকোট পাহাড়
সুরা মসজিদ
নয়াবাদ মসজিদ
হরিনাথপুর দুর্গমসজিদ


সূত্র :
http://www.dinajpur.gov.bd/node/714745