১৫ মে মিশরীয় ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়ান বাহিনী নিরিম এবং কফর দারোম বসতিতে আক্রমণ চালায়। এরা নিরিম
আক্রমণে কামানবাহী সাঁজোয়া গাড়ি, আর্টিলারি এবং ব্রেন ক্যারিয়ার ব্যবহার করেছিল।
এই যুদ্ধে ইসরায়েলি ৭ জন ও মিশরীয় ৩০-৩৫ জন্ নিহত হয়। অন্যদিকে কফর দারোমে তারা আর্টিলারি, ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালায়।
এখানে মিশরীয়দের ৭০ জন নিহত এবং আনুমানিক ৫০ জন আহত হয়। প্রতিরোধের মুখে মিশরীয়দের এই আক্রমণ ব্যর্থ হয়।
৩০ মে ইরাকের সৈন্য সরাসরি যুদ্ধে অংশ নয়।
১৬-১৭ মে আরব অনিয়মিত বাহিনী আক্রমণ করে,
Old City-এর
Jewish Quarter-এর এক-তৃতীয়াংশ দখল করে।
ইস্রায়েলি বাহিনী একাটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
১৮ মে মিশরীয় বিমানবাহিনী তেল আবিবের
Old Central Bus Station-এ বোমা হামলা করে: ৪২ জন নিহত,
শতাধিক মানুষ আহত হয়। এই দিন জর্ডানের আরব লিজিয়ন জেরুজালেমে যোগ দেয়,
Old City-এর লড়াই তীব্র হয়।
১৯ মে মিশরীয় সেনা নেগেভ অঞ্চল ঘিরে ফেলে, দক্ষিণ ফ্রন্টে অগ্রসর হয়।
এছাড়া তারা ইয়াদ মোরদেচাই আক্রমণ করে; সেখানে মাত্র ১০০ জন ইসরায়েলি যোদ্ধা—যাদের
কাছে ছিল রাইফেল, একটি মাঝারি মেশিনগান এবং একটি পিআইএটি ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী
অস্ত্র ছিল। প্রায় ২,৫০০ জন সুসজ্জিত মিশরীয় সৈন্যের একটি কলামকে দীর্ঘ পাঁচ
দিন আটকে রাখে। মিশরীয়দের এই কলামটি সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি ও বিমানবাহিনী
দ্বারা সমর্থিত ছিল। প্রতিরোধ মিশরীয় বাহিনীর তেল আবিব অভিমুখে
অগ্রযাত্রাকে মন্থর করে দিয়েছিল।
এই দিন ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের প্রধান রাস্তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।
এই দিন মিশরীয় বিমান হাইফার কাছে এয়ারবেসে হামলা করে। ভুল করে সে সময়ে সেখানে
অবস্থানরত ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ করেছিল।
২৮ মে-র উল্লেখযোগ্য ঘটনা
২৯ মে এই যুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিন ছিল। এই দিনে ইসরায়েলের নবগঠিত বিমানবাহিনী -এর প্রথম যুদ্ধ মিশন সম্পন্ন হয় এবং (অপারেশন প্লেশেত) শুরু হয়। এটি মিশরীয় সেনার উত্তরমুখী অগ্রগতি (তেল আভিভের দিকে) রুখে দেওয়ার জন্য চালানো হয়।
ইসারেয়েলের প্রথম বিমান যুদ্ধ
৩০ মে, ইরাক সক্রিয়ভাবে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ
করে। এই যুদ্ধে তারা মধ্য ফ্রন্টে (পশ্চিম তীর অঞ্চল) অবস্থান নেয়। ৪-১০ জুন কোনো একক বড় যুদ্ধ
হয় নি, বরং সব ফ্রন্টে সমান্তরাল সংঘর্ষ
যুদ্ধ চলমান ছিল। উভয় পক্ষের যুদ্ধে জয় পরাজয় অনিশ্চিত ছিল। এই দিন উভয় পক্ষই পূর্ণ আক্রমণের বদলে অবস্থান শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেয়।
তবে জেরুজালেম-এ তীব্র লড়াই অব্যাহত ছিল।
শহরটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। এই নগরীর পশ্চিম অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে
পূর্ব অংশ সম্মিলিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১০ই জুলাই
ইসরায়েল প্রতিরক্ষার বদলে আক্রমণাত্মক প্রবল করে।
১১ই জুলাই
ইসরায়েল প্রতিরক্ষার বদলে আক্রমণাত্মক প্রবল করে।
১২ই জুলাই
ইসরায়েল লদ রামলা দখল করে এবং আরব বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করে। ১৩ই জুলাই
ইসরায়েল বাহিনী নাজারেথ শহর দখল করে। ১৪ই জুলাই উভয় পক্ষই বড় ধরনের সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয়।
১৫ই জুলাই উভয় পক্ষই বড় ধরনের সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয়।
১৬ই জুলাই উভয় পক্ষই বড় ধরনের সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয়।
১৭ই জুলাই উভয় পক্ষই বড় ধরনের সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয়। উভয় পক্ষই শেষবারের মতো অবস্থান শক্ত করতে চেষ্টা করে
১৮ই জুলাই জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় দ্বিতীয়বার যুদ্ধ বিরতি মেনে নেয়।
দু'একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ছাড়া, কোথায় বড় ধরনের সংঘর্ষ হয় নি। এই দ্বিতীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চলছিল
তবে ছোটখাটো সংঘর্ষ চলতেই থাকে। এই সময় উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করার দিকে
মনোযোগ দেয়। নভেম্বর ১৯৪৮ ১-২১ ডিসেম্বর ১৯৪৮ ২২ ডিসেম্বর ২২-২৩ ডিসেম্বর ২৪-২৫ ডিসেম্বর ২৬-২৭ ডিসেম্বর ২৮-২৯ ডিসেম্বর যুদ্ধের এই অবস্থায় জাতিসংঘ আবার যুদ্ধ বিরতির চেষ্টা শুরু করে। ১৯৪৮
খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরের তীব্র যুদ্ধ চলার পর তাৎক্ষণিক কোনো একদিনে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি হয়নি—বরং ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। চূড়ান্তভাবে যুদ্ধ থামে ১৯৪৯
খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন আরব দেশের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে আলাদা আলাদা সময়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে।
এই চুক্তিগুলোকে একত্রে বলা হয়
১৯৪৯ আরব–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি। আরব ইরায়েল-মিশর দ্বিতীয় যুদ্ধ
৩১ মে ইরাকি সেনা এবং আরব অনিয়মিত বাহিনী জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে লড়াই করে। এটি ইরাকের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রথম বড় উদাহরণ।
১ জুন নাগাদ মিশর, জর্ডান, সিরিয়া) কিছু অঞ্চল দখল করে, কিন্তু ইসরায়েল মূল শহরগুলো (তেল আবিব, হাইফা) রক্ষা করে।
এ ছাড়া এই দিন যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবের প্রস্তুতি শুরু হয়। এর ভিতরে উভয় পক্ষই
নিজেদের শক্ত সঞ্চয়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়। ইসরায়েল চেকোস্লোভাকিয়া থেকে অস্ত্র আমদানি চালিয়ে
যায়।
২ জুন, মিশরীয় সেনার একটি ব্যাটালিয়ন (প্রায় ৫০০-১,০০০ সৈন্য, নেগবা
অঞ্চলে আক্রমণ চালায়। এটি মিশরীয়দের অঞ্চল দিয়ে অগ্রসর হওয়ার অংশ ছিল। মিশরের একটি ব্যাটালিয়ন নেগবা আক্রমণ করে এবং কিবুতজের ১৪০ জন রক্ষীর হাতে পরাজিত হয়ে পিছু হটে। এই সংঘর্ষে ইসরায়েলিদের ৮ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়; অন্যদিকে মিশরীয়দের আনুমানিক ১০০ জন হতাহত হয়।
৩ জুন দুটি মিশরীয় DC-3 (C-47) বোমারু বিমান তেল আবিব ও অন্যান্য অঞ্চলে বোমা
বর্ষণের পর ফিরে যাওয়ার পথে ভূপাতিত করা হয়। এই দিন ইসরায়েল বিমান বাহিনীর জন্য
চেকোশ্লাভাকিয়া থেকে Avia S-199 যুদ্ধ বিমান ক্রয় করে। এছাড়া ইসরায়েল বাহিনী মিশরীয় অবস্থানে (ইশদুদ / Ashdod এলাকায়) প্রতিরক্ষা ও ছোট পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়। ফলে মিশরীয় উত্তরমুখী অগ্রগতি (তেল আভিভের দিকে) থামানো হয়, এবং তারা প্রতিরক্ষায় চলে যায়। কোনো নতুন বড় গ্রাউন্ড আক্রমণ এই দিনে নেই।
জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রথম যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতি শুরু হয়।
যুদ্ধের প্রথম পর্যায় (১৫ মে থেকে ১১ জুন) আরব সেনা কিছু অগ্রগতি করলেও ইসরায়েল মূল শহরগুলো (তেল আভিভ, হাইফা) রক্ষা করে এবং কিছু অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
বিরতির ফলে ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র ও সেনা সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
জাতিসংঘের প্রস্তাবে যুদ্ধ বিরতি প্রসগতাব
এই যুদ্ধ থামানোর জন্য জাতিসংঘ যুদ্ধ বিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ১১জুন এই
প্রস্তাব গৃহীত ও কার্যকরী হয়। এই যুদ্ধ বিরতি ১১ জুন থেকে ৮ জুলাই (২৮ দিন)
পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল।
যুদ্ধবিরতি ১১ জুন থেকে শুরু হয়, যা ইসরায়েলকে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ
করে দিয়েছিল। এই সময়ে ইস্রায়েল চেকোস্লোভাকিয়া থেকে
Avia S-199 যুদ্ধবিমান, রাইফেল, মেশিনগান ইত্যাদি
ক্রয় করে। এরা সেনাবহিনীকে সুসংহত করে এবং নতুন ইহুদি অভিবাসী ও স্বেচ্ছাসেবক যোগ দেয়। ফলে এদের সেনা সংখ্যা বৃদ্ধ পায়।
এই সময় আরব সেনাবাহিনী তাদের সামারিক শক্তি বৃদ্ধি করতে ব্যর্থ হয়।
এ্র ভিতরে
২০ জুন অল্টালেনা ঘটনা
ইস্রায়েল সেনাবাহিনীকে নতুনভাবে সংগটিত হয় এবং
ইস্রায়েল সেনাবাহিনী আরও শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয়।
প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়
৯ জুন আরব লীগের চাপে এবং ইসরায়েলের অস্ত্র সংগ্রহের খবর পেয়ে আরব পক্ষ যুদ্ধ পুনরায় শুরু করে।
ইসরায়েলও আক্রমণাত্মক অভিযান চালায়।
৯ই জুলাই উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এই পর্যায়ের যুদ্ধে ইসরায়েল প্রতিরক্ষার বদলে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেয়।
তৃতীয় পর্যায়ের যুদ্ধ
জুন ও জুলাই মাসে দুটি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধ শেষ হয়েছে জাতি
সংঘের স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি যুক্তিতে। আগের দুটি পর্যায়ের যুদ্ধে মিশরীয়
বাহিনী নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলকে নিজেদের অধিকারে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
ইসরায়েলিদের লক্ষ্য ছিল এই অবরোধ ভেঙে দক্ষিণ দিকে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
করা এবং নেগেভে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে ইসরায়েল
১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ অক্টোবর ইসরায়েল Operation Yoav শুরু করে। এবং এর
মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম আরব-ইসারয়েল যুদ্ধের তৃতীয় পর্যায়।
১৫-৩১ অক্টোবর, ১৯৪৮
চুক্তি ও চুক্তির সময়
১৯৫৬
খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল নিয়ে সংকট দ্বিতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ
হয়। এর অপর নাম অন্য নাম- সিনাই যুদ্ধ। যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৫৬ অক্টোবর
খ্রিষ্টাব্দের ২৯ নভেম্বর।
এই যুদ্ধের প্রধান পক্ষ ছিল- ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স। অপর পক্ষ ছিল মিশর।
মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে। ইসরায়েল সিনাই দখল করে ফেদায়িন আক্রমণ বন্ধ করতে চায়।
ইসরায়েল সিনাইতে আক্রমণ করে দ্রুত অগ্রসর হয়। যুক্তরাজ্যম ও ফ্রান্স বোমা হামলা করে।
সামরিকভাবে ইসরায়েল-পশ্চিমা জোটের বিজয়ী হয় আন্তর্জাতিক চাপে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার। ইউএন শান্তিরক্ষী বাহিনী সিনাইতে মোতায়েন হয়।