গ্যালাক্সি
বানান বিশ্লেষণ: গ্+য্+আ+ল্+আ+ক্+স্+ই।
উচ্চারণ: gæ.lak.si (গ্যা.লাক্.সি)
শব্দ-উৎস: গ্রিক galaxias (kuklos=দুগ্ধবৃত্ত)>ফরাসি Galaxy>ইংরেজি galaxy >বাংলা গ্যালাক্সি।
পদ :

ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা { সংকলন  | দল | বিমূর্তন | বিমূর্ত-সত্তা  | সত্তা |}
ইংরেজি:
galaxy, extragalactic nebula।

মহাকাশের একটি উপকরণ বিশেষ। দূরবীক্ষণ যন্ত্রের ভিতর দিয়ে তাকালে
, মহাকাশের কোথাও কোথাও বস্তুপুঞ্জের সমন্বয়ে বড় বড় দল গঠিত হয়েছে বলে মনে হয়। মহাকাশের এই জাতীয় বিশেষ বৃহৎ উপকরণ সমষ্টিকে গ্যালাক্সি বলা হয়।  গ্যালাক্সিগুলো আয়তনে কয়েক হাজার থেকে লক্ষ আলোকবর্ষ হতে পারে। এই বিশাল পরিসরে থাকে কোটি কোটি তারা এবং বিপুল ভরের ভাসমান বস্তুপুঞ্জ। আমাদের
সৌরজগৎও এমনি একটি গ্যালাক্সির সদস্য। অন্ধকার রাতের আকাশে এই গ্যালাক্সিকে মনে হয়, একটি সাদারঙের পথ আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে গেছে। ১৬১০ সালের দিকে গ্যালিলিও গ্যালিলাই টেলিস্কোপের সাহায্যে রাতের আকাশের এই পথকে প্রথম পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং তিনিই প্রথম জানিয়েছিলেন যে, সাদারঙের এই পথটি তৈরি হয়েছে অসংখ্য উজ্জ্বল ও নিষ্প্রভ নক্ষত্র দিয়ে। তারপর থেকে অসংখ্যবার এবং অসংখ্য পদ্ধতিতে আকাশ পর্যবেক্ষণ করে, বিজ্ঞানীরা অসংখ্য অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

প্রায় ১৩৮০ কোটি বৎসর আগে সৃষ্ট  বিগব্যাং -এর সূত্রে গ্যালাক্সিগুলো তৈরি হয়েছিল। এই বিগব্যাং -এর ৩ মিনিট থেকে ১০০,০০০ বৎসরের মধ্যে তৈরি হয়েছিল— দুটি অন্যতম মৌলিক পরমাণু। এই পরমাণু দুটি হলো হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। এছাড়া  ছিল বিপুল পরিমাণ ইলেক্ট্রন, প্রোটন
, নিউট্রন এবং ইলেক্ট্রন প্লাজমা। সব মিলিয়ে যে বিপুল বস্তুকণার সমাবেশ ঘটেছিল, সেগুলো প্রচণ্ড গতিতে বিগব্যাং -এর কেন্দ্র থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। বলাই বাহুল্য, এই সময় এই সকল কণিকাও ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। ক্রমে ক্রমে এগুলো শীতল হতে থাকলো এবং এদের ভিতরের আন্তঃআকর্ষণের কারণে- বস্তুপুঞ্জ কাছাকাছি চলে এসেছিল। স্থান বিশেষে দলবদ্ধ বস্তুপুঞ্জের ঘনত্বের বৃদ্ধির ফলে কোন কোন অংশে সৃষ্টি হয়েছিল অতিরিক্ত মহাকর্ষীয় আকর্ষণ। এই আকর্ষণের ফলে একটি ঘূর্ণনগতির সৃষ্টি হয়েছিল। অঞ্চল বিশেষে বস্তুপুঞ্জের আকর্ষণ ক্ষমতার তারতম্যে নিজস্ব এলাকার ব্যাপ্তি কম-বেশি ছিল। যে সকল অঞ্চলে অল্প জায়গার মধ্যে বিপুল বস্তুর সমাবেশ ঘটেছিল, সে সকল অঞ্চল বেশি দ্রুত গতিতে ঘুরতো। এই ঘূর্ণন গতির কারণে মহাকাশের মেঘগুলো একটি ঘূর্ণায়মান চাকতিতে পরিণত হয়েছিল। অন্য দিকে যে সকল অঞ্চলে পর্যাপ্ত  ঘূর্ণনগতি লাভ করতে পারে নি, সে সব অঞ্চলে বস্তুপুঞ্জ ডিম্বাকৃতির পিণ্ডে পরিণত হয়েছিল। এই জাতীয় বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বস্তুপুঞ্জসমূহ বিভিন্ন আকৃতির একক দল গঠনে সক্ষম হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ার ফসলই হলো মহাকাশের গ্যালাক্সি। আমাদের সৌরজগৎ এমনি একটি গ্যালাক্সি হলো- ছায়াপথ (Milky way)। ধারণা করা হয় প্রায় ১ হাজার কোটি বৎসরের দিকে আদি গ্যালাক্সিগুলো সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের ছায়াপথ সৃষ্টি হয়েছিল ১৩৬০ কোটি বৎসরের দিকে।

গ্যালাক্সির গঠন :
প্রতিটি গ্যালাক্সির সাধারণ উপকরণ হলো- অসংখ্য নক্ষত্র এবং এই সকল  গ্যালাক্সি-অধীনস্থ বস্তুপুঞ্জ
(interstellar matter)।  অনিয়ন্ত্রিত গ্যালাক্সি ছাড়া, সকল ধরনের গ্যালক্সির অন্তর্গত সকল উপকরণ একটি কেন্দ্রীয় বলের অধীনে থাকে এবং এগুলো উক্ত কেন্দ্রীয় বলকে অবলম্বন করে আবর্তিত হয়। ক্ষেত্রবিশেষ এই কেন্দ্রটি উজ্জ্বল কিম্বা নিস্প্রভ হতে পারে। গ্যালাক্সি ভেদে গ্যালাক্সি-অধীনস্থ বস্তুপুঞ্জ পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। এছাড়া একটি গ্যালাক্সির অধীনে একাধিক গ্যালক্সিও থাকেতে পারে। এই বিচারে গ্যালক্সির অধীনস্থ উপকরণগুলোকে যে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়, তা হলো—

১. অধীনস্থ গ্যালাক্সি :  গ্যালাক্সিগুলো তৈরি হওয়ার সময়, কিছু গ্যালাক্সি একটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় এককভাবে বিন্যস্ত হয়েছিল। এই সকল গ্যালাক্সির কাছাকাছি অন্য কোন গ্যালাক্সি না থাকায়, এরা একাকী নিজেদের রাজত্ব রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছিল। কিন্তু এই জাতীয় গ্যালাক্সি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন কিনা তা মহাকাশের সার্বিক চিত্র মানুষের কাছে যতদিন প্রকাশ না পায়, ততদিন সুনিশ্চিতভাবে বলা মুসকিল। কারণ, এর আগে কোন কোন গ্যালাক্সিকে স্বাধীন মনে করা হলেও, পরে দেখা গেছে এরা অন্য কোন গ্যালাক্সির উপ-গ্যালাক্সি মাত্র।

অন্যদিকে মহাকাশের অল্প দূরত্বের মধ্যে যখন একাধিক গ্যালাক্সি তৈরি হয়েছিল
, তখন তারা পরস্পরের সাথে মহাকর্ষীয় আকর্ষণে বাধা পড়ে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে একটি গ্যালাক্সির ভিতরে অপরটি ঢুকে না পরে- একটি অপরটির অধীনস্ত হয়ে পড়েছিল। স্বাভাবিকভাবে যে গ্যালাক্সিটির ভর এবং মহাকর্ষীয় শক্তি অধিকতর প্রবল ছিল, তাকে কেন্দ্র করে অল্প ভরবিশিষ্ট ও অল্প মহাকর্ষীয় শক্তির গ্যালাক্সি আবর্তিত হতে শুরু করেছিল। এক্ষেত্রে আমরা সূর্য এবং এর গ্রহগুলোর ভিতরে যে আবর্তনের সম্পর্ক লক্ষ্য করি, গ্যালাক্সি কেন্দ্রিক গ্যালক্সির আবর্তনের সম্পর্কও সে রকমই লক্ষ্য করবো।

এইভাবে বিভিন্ন সংখ্যক গ্যালাক্সি মহাকাশে মহাকর্ষীয় শক্তির দ্বারা ছোট-বড় দল গঠন করতে পারে
। এই দলগঠনের সবচেয়ে ছোট দলকে বলা হয় স্থানীয় দল (Local Group)। সাধারণত ৩০-৫০টি গ্যালাক্সি মিলিত হয়ে একটি লোকাল গ্রুপ তৈরি হয়। আমাদের গ্যালাক্সি (ছায়াপথ), এ্যান্ড্রোমিডা, এম১১০ ইত্যাদি এরূপ একটি স্থানীয় দল অন্তর্গত।

স্থানীয় দলের তালিকা : 
এম৮১ ।

আবার বেশকিছু লোকাল গ্রুপে মিলে অনেক বড় এককের সৃষ্টি করে। একে বলা হয় গ্যালাক্সিগুচ্ছ (cluster)। একটি গ্যালাক্সিগুচ্ছে গ্যালাক্সি সংখ্যা থাকে প্রায় সহস্রাধিক। এরূপ দশহাজার গ্যালাক্সি নিয়ে যে গ্যালাক্সিগুচ্ছ তৈরি হয়, তাকে বলা হয়- অতি-গ্যালাক্সিগুচ্ছ (Supercluster)। এরূপ একটি অতি-গ্যালাক্সিগুচ্ছ হলো কন্যা অতি-গ্যালাক্সিগুচ্ছ (Virgo Supercluster)

২
. নক্ষত্র ও নক্ষত্রগুচ্ছ (star cluster) : গ্যালাক্সিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রকৃতির অসংখ্য নক্ষত্র (star)। একটি ছোটমাপের গ্যালাক্সিতে প্রায় ১০,০০০ নক্ষত্র থাকে। পক্ষান্তরে একটি বড় ধরনের গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩,০০০,০০০,০০০,০০০। আমাদের সৌরজগতের মতো অসংখ্য সৌরজগত প্রতিটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে। গ্যালাক্সির ভিতরে নক্ষত্রগুলো এককভাবে বা গুচ্ছবদ্ধভাবে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা গুচ্ছবদ্ধ নক্ষত্রসমূহকে নক্ষত্রগুচ্ছ (star cluster) হিসাবে বিবেচনা করেছেন। দূর থেকে দেখলে, এদেরকে গুচ্ছবদ্ধ বলে মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নক্ষত্রগুচ্ছের নক্ষত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বহু অলোকবর্ষের ব্যবধান। 

৩. গ্যালাক্সি-অধীনস্থ বস্তুপুঞ্জ (interstellar matter
) : গ্যালক্সির ভিতরে বিভিন্ন প্রকৃতির অসংখ্য নক্ষত্র ছাড়াও রয়েছে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস ও ভারি বস্তুকণা। এই জাতীয় বস্তুগুলো গ্যালাক্সির ভিতরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। গ্যালাক্সির ভিতরের এই জাতীয় বস্তুগুলোকেই বলা হয়-গ্যালাক্সি-অধীনস্থ বস্তুপুঞ্জ। মূলত গ্যালাক্সি-অধীনস্থ বস্তুপুঞ্জের ৯৯% ভাগই গ্যাসীয় উপকরণ। অবশিষ্ট ১% থাকে মহাকাশীয় ধূলিকণা বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মহাকাশীয় কঠিন বস্তু। অনিয়ন্ত্রিত গ্যালাক্সি ছাড়া অন্য সকল ধরনের গ্যালাক্সিতে এই বস্তুপুঞ্জে নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।


গ্যালাক্সির আকার : মহাকাশে বিভিন্ন আকৃতি বা বৈশিষ্ট্যের গ্যালাক্সি দেখতে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানী হাবল, কুণ্ডলিত গ্যালাক্সিগুলোর প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে শ্রেণী বিন্যাস করেছিলেন। এই বিন্যাস হাবল স্কিম (Hubble scheme) নামে পরিচিত। এখন পর্যন্ত সামান্য কিছু পরিবর্তন ছাড়া এই শ্রেণী বিভাজনকেই অনুসরণ করা হয়ে থাকে।

প্রথম দিকে হাবল গ্যালাক্সিগুলোকে প্রধান দুটি ভাগে ভাগ করেছিলেন
। এই ভাগ দুটো হলো- উপবৃত্তাকার এবং কুণ্ডলিত। পরে এর সাথে অনিয়মিত নামে অপর এক শ্রেণীর গ্যালাক্সি যুক্ত করেন। এছাড়া হাবল উপবৃত্তাকার ও কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির মধ্যবর্তী আরও একটি শ্রেণীর গ্যালাক্সির কথা বলেছিলেন। এই শ্রেণীর গ্যালাক্সিকে বর্তমানে বলা হয় লেন্সধর্মী গ্যালাক্সি (lenticular galaxy) সব মিলিয়ে আমরা গ্যালাক্সির যে প্রাথমিক শ্রেণীবিভাজন পাই, তা হলো- উপবৃত্তাকার (Elliptical), কুণ্ডলিত (Spira), লেন্সধর্মী গ্যালাক্সি (lenticular galaxy) ও অনিয়মিত (Irregular) ।
 

  ১. উপবৃত্তাকার (Elliptical) : এই জাতীয় গ্যালাক্সি দেখতে অনেকটা ডিমের মত। ধারণা করা হয়, এই জাতীয় গ্যালাক্সির ভিতরে প্রচুর পরিমাণে আন্তঃগ্যালাক্সি বস্তুপুঞ্জ (interstellar matter) থাকে না। দূর থেকে এদেরকে হলুদাভ-লাল বর্ণের মনে হয়। উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সির রয়েছে উপবৃত্তাকার উজ্জ্বল কেন্দ্রীয় অংশ। হাবল একে মোট ৭টি ভাগে ভাগ করেছেন। এই ভাগগুলো হলো- E0  (বৃত্তাকার) থেকে E7  (সিগারেটের মতো)। এই উপবৃত্তাকারের প্রকৃতিকে যে গাণিতিক বিধি দ্বারা নির্দেশিত করা হয়েছে, তা হলো- 10(a-b)/a ।  এখানে a হলো প্রধান অক্ষ ও b হলো গৌণ অক্ষ। তবে হাবলের এই শ্রেণী বিভাজন থেকে উপবৃত্তাকার এই গ্যালাক্সিগুলোর প্রকৃত আকার জানা যায় না। উদাহরণ হিসাবে পাশের চিত্রে Virgo cluster-এর অন্তর্গত গ্যালাক্সি M87 (E0 শ্রেণীর) দেখানো হলো।  
   
 

২. কুণ্ডলিত (Spiral)) : এই জাতীয় গ্যালাক্সির একটি কেন্দ্র থাকে। এই কেন্দ্র থেকে এক বা একাধিক বাহু নির্গত হয়ে কেন্দ্রকে আবর্তন করে কুণ্ডালাকারে ছড়িয়ে পড়ে। পারস্যের একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-সুফি (al-Sufi) প্রথম কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি সম্পর্কে বর্ণনা করেন। আধুনিককালে হাবলের শ্রেণীবিভাজনের সাথে আরও কিছু অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।

এম৮১  কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি


কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশ :
কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াসটি গোলাকার
, তবে বলের মতো নয়। কারণ, এর দুটি পার্শ্ব প্রায় সমতল। তাই এর আকারকে ডিস্কের সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে। এই ডিস্কের কেন্দ্র থেকে পরিধির ভিতরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ মহাকাশীয় গ্যাস, ধূলিকণা এবং গ্যালাক্সির অধিকাংশ নক্ষত্র। এই সকল উপকরণ নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট দিকে এবং প্রায় কয়েক শত কিলোমিটার/সেকেন্ড গতিতে আবর্তিত হয়। ডিস্কের বাইরের দিকটা অন্ধকার মনে হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, ডিস্কের বাইরে রয়েছে কিছু কৃষ্ণবস্তু (dark matter)। এদের মহাকর্ষীয় শক্তি স্বাভাবিক, কিন্তু এই সকল বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয় না। এই গ্যালাক্সিতে
উন্মুক্ত নক্ষত্রগুচ্ছ (open cluster) দেখা যায়।

কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির শ্রেণী বিন্যাস : কুণ্ডলিত গ্যালাক্সিকে
de Vaucouleurs  নামক একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী কয়েকটি উপভাগে ভাগ করেছেন। গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশে কোনো দণ্ডের মতো অংশ দেখা যায় কি দেখা যায় না, তার উপর ভিত্তি করে কুণ্ডলিত গ্যালাক্সিকে ভাগ করা হয়েছে। এই ভাগগুলো হলো—

 

    দণ্ডভিত্তিক বিভাজন
SA
কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশ দণ্ডের মতো দেখায় না।
SB কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশ দণ্ডের মতো দেখায়।
SAB কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশ দুর্বল দণ্ডের মতো দেখায়।

বলয়ভিত্তিক বিভাজন
r কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় কুণ্ডলিত গ্যালাক্সিতে বলয় থাকে।
rs কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় কুণ্ডলিত গ্যালাক্সিতে বলয় থাকে না।
 

কুণ্ডলিত বাহুভিত্তিক বিভাজন
Sc কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির বাহুগুলি দৃঢ়ভাবে কেন্দ্রীয় অংশের সাথে যুক্ত থাকে। যেমন- NGC 2770।
Sd (SBd) কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির বাহুগুলি বিক্ষিপ্তাকারে থাকে এবং কেন্দ্রীয় অংশের সাথে দুর্বল সংযোগ আছে এমন দেখায়।
Sm (SBm) কুণ্ডলিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির বাহুগুলি বিক্ষিপ্তাকারে অনিয়মিত দশায় থাকে এবং কেন্দ্রীয় উজ্জ্বল অংশ প্রায় দেখাই যায় না।

 

     
 

৩. লেন্সধর্মী গ্যালাক্সি (lenticular galaxy) : কিছু কিছু গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশ ঠিক ডিস্কের মতো  না হয়ে অনেকটা উভোত্তল লেন্সের মতো হয় এবং এদের কোন কুণ্ডলিত বাহু থাকে না। এই সকল গ্যালাক্সিকে লেন্সধর্মী গ্যালাক্সি (lenticular galaxy) বলা হয়। এর শ্রেণী প্রতীক হলো- S0। যেমন M84, M85, NGC 5866 ইত্যাদি। ধারণা করা হয়, এই গ্যালাক্সিতে মুক্ত গ্যাস বা ধূলীকণা প্রায় নেই বললেই চলে। এই গ্যালাক্সির অধিকাংশ নক্ষত্র প্রাচীন। অধিকাংশ নক্ষত্রের বয়স ১০১০ বৎসর। দূর থেকে এদেরকে লাল রঙের দেখায়। পাশের চিত্রে NGC 5866এর ছবি  দেখানো হলো।

শ্রেণিবিভাজন :
SA0 লেন্সধর্মী গ্যালাক্সি
: এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশ দণ্ডের মতো দেখায় না।
SB0 লেন্সধর্মী গ্যালাক্সি: এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশ দণ্ডের মতো দেখায়।


৪
. অনিয়মিত (Irregular
)  : এদের কেন্দ্রীয় অংশ বৃত্তাকার, ডিস্কধর্মী বা উজ্জ্বল নয়। কোন কোন অনিয়মিত গ্যালাক্সিতে স্পাইরাল গ্যালাক্সির বাহুর মতো বাহু দেখা যায়, তবে তা কেন্দ্র দ্বারা ততটা সুনিয়ন্ত্রিত নয়। এই গ্যালাক্সিগুলোর প্রায় ১০-৫০% গ্যালাক্সি-অধীনস্থ বস্তু (গ্যাস, ধূলিকণা ইত্যাদি) দ্বারা পূর্ণ। ধারণা করা হয়, এই গ্যালাক্সিগুলোতে পুরানো নক্ষত্রের চেয়ে নূতন নক্ষত্রের সংখ্যা বেশি। দূর থেকে এদের নীল বর্ণের মনে হয়। এই গ্যালাক্সিতে উন্মুক্ত নক্ষত্রগুচ্ছ (open cluster) দেখা যায়।

 

বিজ্ঞানীরা এই জাতীয় গ্যালাক্সিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। এই ভাগ দুটি হলো- Irr I এবং Irr II ।

Im
অনিয়মিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় অনিয়মিত গ্যালাক্সি সম্পূর্ণ রূপে অনিয়মিত।

    ক। Irr I  অনিয়মিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় অনিয়মিত গ্যালাক্সিগুলোকে দূর থেকে দণ্ডের মতো মনে হয়। এই গ্যালাক্সিগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ গ্যালাক্সি-অধীনস্থ বস্তু। এতে কখনো কখনো অতিরিক্ত বাহু দেখা যায়, তবে তা কুণ্ডলিত গ্যালাক্সির বাহুগুলোর মতো কেন্দ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত গতিপ্রাপ্ত হয় না। দূর থেকে এই গ্যালাক্সিগুলোকে নীল বর্ণের মনে হয়। পাশের চিত্রে এই গ্যালাক্সির নমুনা হিসাবে LMC-Irr I দেখানো হলো।

খ।
Irr II  অনিয়মিত গ্যালাক্সি : এই জাতীয় গ্যালাক্সিগুলো অধিকতর ছড়ানো মনে হয়। গ্যালাক্সির মাঝে কৃষ্ণবস্তুর আস্তরণ দেখা যায়। দূর থেকে এদের রঙ নীলাভ-সাদা দেখায়।


গ্যালাক্সি তালিকা‌
এম৮১  
এম৮১ স্থানীয় দল

এম৮২
এম৮৬

এম৮৭
এম১০১  
এম ১০২

এনজিসি ২৭৭০
এ্যান্ড্রোমিডা
ছায়াপথ