রেকর্ডে প্রকাশিত নজরুল সঙ্গীতের কালানুক্রমিক তালিকা

১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার বেলেঘাটায় ভারতে গ্রামোফোন কোম্পানি প্রথম ডিস্ক রেকর্ড তৈরির কারখানা স্থাপন করে। ভারতে রেকর্ডে-ব্যবসার অপার সম্ভাবনা দেখে, দেশী-বিদেশী অনেক কোম্পানি এই ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করেছিল। এই সূত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিল ডোয়ার্কিন এন্ড সন রেকর্ড, বীণাপাণি রেকর্ড, রয়াল রেকর্ড, শাহানশাহ্ রেকর্ড, মেগাফোন রেকর্ড, পাইওনিয়ার রেকর্ড, সেনোলা রেকর্ড, হিন্দুস্থান রেকর্ড। আর বিদেশী কোম্পানির ভিতরে ছিল গ্রামোফোন রেকর্ড (পরবর্তী সময়ে এইচএমভি রেকর্ড), কলাম্বিয়া রেকর্ড, নিকোল, বেকা রেকর্ড, ওডিয়ন ইত্যাদি রেকর্ড কোম্পানি।

নজরুলের জীবদ্দশায় তাঁর তত্ত্বাবধানে বা তাঁর অনুমোদনে রেকর্ডে যাঁরা নজরুলের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তাঁরা হলেন-

নজরুল তাঁর ২৬ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের ভিতরে [১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩২ বঙ্গাব্দ (২৪ মে ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩শে মে (১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৩)] বাংলা কাব্য ও সঙ্গীতে একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। এই সময়ের ভিতরে তাঁর রচিত লেটোগান ছাড়া, কলকাতা-কেন্দ্রিক সমসাময়িক বাংলা গানের ধারায় ধীরে ধীরে একটি বিশেষ অধ্যায়ের সূচনা করেছেন মাত্র। এই সময়ে গানের রেকর্ড জনপ্রিয় ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র স্থান করে নিচ্ছিল। এরই ভিতরে রেকর্ডের জগতে তিনি পা রেখেছিলেন একটি গান নিয়ে। গানটি হলো-

'জাতের নামে বজ্জাতি' [তথ্য]
গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল বিজলী পত্রিকার '৪ শ্রাবণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ' (২০ আগষ্ট ১৯২৩) সংখ্যায়। গানটির পাদটীকায় লিখা ছিল 'মাদারীপুর শান্তি-সেনা চারণ দল'-এর জন্য লিখিত অপ্রকাশিত নাটক থেকে'। ব্রহ্মমোহন ঠাকুর তাঁর 'নজরুল সঙ্গীত নির্দেশিকা গ্রন্থে' গানটির 'রচনার স্থান ও কাল' হিসেবে উল্লেখ করেছেন-'বহরমপুর জেলে ১৯২৩ সালের ১৮ই জুন থেকে ২০ জুলাই-এর মধ্যে লেখা'।
এই গানটির রেকর্ড প্রকাশ করেছিল এইচএমভি [রেকর্ড] [সেপ্টেম্বর ১৯২৫ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৩২ বঙ্গাব্দ)। পি ৬৯৪৫। শিল্পী হরেন্দ্রনাথ দত্ত।  ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের  মে মাসে এই গানটির দ্বিতীয় রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল।

রেকর্ডে প্রকাশিত নজরুল সঙ্গীতের কালানুক্রমিক পূর্ণ তালিকা

১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দ

১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ

১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ
এই বছরে নজরুলের কোনো গান রেকর্ডে প্রকাশিত হয় নি।

১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ
১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের দিকে নজরুলের সাথে এইচএমভির একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে তিনি এ‌ইচএমভির সঙ্গীত রচয়িতা এবং প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। চুক্তির অন্যতম বিষয় ছিল, ওই সময় নজরুলের গানে অন্য কেউ সুর করতে পারবেন না। এই চুক্তি অনুসারে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে নজরুলের ৬টি গান এবং তাঁর স্বকণ্ঠে 'নারী' কবিতার আবৃত্তি প্রকাশিত হয়েছিল।

শুরুর দিকে ৪টি গান ও ১টি কবিতা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে। কিন্তু প্রকাশিত হয়েছিল জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে। প্রথম প্রকাশিত চারটি গান প্রকাশিত হয়েছিল ২টি রেকরডে। এই বিষয়ে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তাঁর নজরুল জীবনী গ্রন্থে লিখেছেন-

‌'...নজরুলের প্রশিক্ষণে প্রথম প্রকাশিত নজরুল-সঙ্গীত-এর রেকর্ডে আঙুরবালার গাওয়া দুটি গান ছিল, ‌'ভুলি কেমনে‌' ও 'এত জল ও কাজল‌', আরো ছিল নজরুলের স্বরচিত স্বকণ্ঠে আবৃত্তি 'নারী' কবিতা এবং কে. মল্লিকের গাওয়া 'বাগিচায় বুলবুলি তুই' এবং 'আমারে চোখ ইশরায় ডাক দিল হায়।' ঐ সব গান ও আবৃত্তির রেকর্ড হয়েছিল ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসের দিকে আর প্রকাশিত হয়েছিল শেষ দিকে। এই বিচারে দ্বিতীয় রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল সেপ্টেম্বর মাসে। রেকর্ডের কালানুক্রমিক প্রকাশের বিচারে ছিল- তৃতীয় ও চরতুর্থ।

প্রকাশের বিচারে এই গানগুলোর কালানুক্রম হলো-

আগষ্ট মাসে নজরুলের সাথে এইচএমভির চুক্তির সূত্রে একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এই রেকরডের উভয় পিঠে উমাপদ ভট্টাচর্যের কণ্ঠে দুটি গান ছিল। রেকর্ডের কালানুক্রমিক প্রকাশের বিচারে ছিল- পঞ্চম।

১৯২৯
জুন মাসে জুন মাসে ইন্দুবালার কণ্ঠে এই গানটি এইচএমভি প্রকাশ করেছিল ষষ্ঠ রেকর্ড।

১৯৩০

১৯৩১

পুতুলের বিয়ে
১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে (মাঘ-ফাল্গুন ১৩৩৯) এইচএমভি রেকর্ড করেছিল। রেকর্ডের সংখ্যা ছিল ৬টি। রেকর্ড নম্বর ছিল জিটি ২৪ থেকে ২৯। নাটকটির শিল্পীরা ছিল শিশুমঙ্গল সমিতি'র। এই রেকর্ডগুলো হলো-

  1. প্রথম রেকর্ড। জিটি ২৪।
    ১. খেলি আয় পুতুল খেলা [গান-৪৩৪] [তথ্য]
  2. দ্বিতীয় রেকর্ড। জিটি ২৫।
  3. তৃতীয় রেকর্ড। জিটি ২৬।
    ১. মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু- মুসলমান [গান-৪৭৪] [তথ্য]
  4. চতুর্থ রেকর্ড। জিটি ২৭।
    ১. হেড মাস্টারের ছড়ি,সেকেন্ড মাস্টারের দড়ি [গান-৪৮৬] [তথ্য]
  5. পঞ্চম রেকর্ড। জিটি ২৮।
    ১. মিলন-গোধূলি রাঙা হয়ে এলো ঐ [গান-৯০৫] [তথ্য]
  6. ষষ্ঠ রেকর্ড। জিটি ২৯।
    ১. লাল টুক্‌টুক্‌ মুখে হাসি [গান-৯০৬] [তথ্য]
    ২. শাদী মোবারকবাদী শাদী মোবারক [গান-৪৭৮] [তথ্য]
    ৩. সাবিত্রী সমান হও [গান-৯০৭] [তথ্য]

১৯৩৭

  • এইচএমভি
    • রেকর্ড নাটক মাতৃস্ত্রোত্র। [ডিসেম্বর ১৯৩৭ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৪)। জিটি ৩৭। শিল্পী: শিশু মঙ্গল সমিতি। মা কবিতার শেষাংশ।]

১৯৪১

  • হিম্দুস্তান
    • বঁধু ফিরে এসো, আজো প্রাণের [গান-৩০৭৯] [তথ্য]
      সেপ্টেম্বর ১৯৪১  (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৮)। এইচ ৯৪৭। শিল্পী: গৌরী বসু। সুর: নজরুল।

১৯৫০

  • কলাম্বিয়া রেকর্ড সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৫৭)। রেকর্ড নম্বর জিই ৭৭৭১। শিল্পী: উত্তরা দেবী। সুর: নিতাই ঘটক]
    • প্রাণের ঠাকুর লীলা করে (মোর লীলাময় লীলা করে) [গান-৮৯৩] [তথ্য]
    • দেখেছি রূপ সায়রে [অতুল প্রসাদের গান]

 

  1. কত ফুল তুমি পথে ফেলে দাও [গান-২] [তথ্য]
    এইচএমভি [ডিসেম্বর ১৯৪০। এন ২৭০৫৭। শিল্পী: সন্তোষ সেনগুপ্ত। সুরকার: কমল দাশগুপ্ত]
  2. কারার ঐ লৌহকপাট [৭২৬] [তথ্য]
    ১. কলাম্বিয়া [জুন ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দ। শিল্পী: গিরীন চক্রবর্তী।রেকর্ড নম্বর- জি.ই. ৭৫০৬।]
    ২. এইচএমভি [জানুয়ারি ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ নম্বর- এন. ৩১১৫২। শিল্পী গিরীন চক্রবর্তী]
  3. তোরা সব জয়ধ্বনি কর [গান-৯৯] ‌ [তথ্য]
    কলাম্বিয়া [আগষ্ট ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৫৬)। রেকর্ড নং- জি ৭৫৪৮।শিল্পী: বাংলার সন্তানদল।