তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে
দেবে কি গো বাসা আমায় একটি ধারে?।
আমি শুনব ধ্বনি কানে,
আমি ভরব ধ্বনি প্রাণে,
সেই ধ্বনিতে চিত্তবীণায় তার বাঁধিব বারে বারে॥
আমার নীরব বেলা সেই তোমারি সুরে সুরে
ফুলের ভিতর মধুর মতো উঠবে পুরে ।
আমার দিন ফুরাবে যবে,
যখন রাত্রি আঁধার হবে,
হৃদয়ে মোর গানের তারা উঠবে ফুটে সারে সারে॥
― অনেক নতুন গান শুন্তে পাবে। কিছু নতুন গান এইবার তোমার সঞ্চয় করা উচিত হবে। ...।' [চিঠিপত্র ১২ খণ্ড, বিশ্বভারতী, ২৫ বৈশাখ, ১৩৯৩ পৃষ্ঠা: ২৩৬] এই চিঠি অনুসারে ধারণা করা যায়, ২৯শে ফাল্গুনে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন ছিলেন এবং সেখানেই এই গানটি রচনা করেছিলেন।প্রসঙ্গত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠপুত্র কেদারনাথের সাথে নীলরতন সরকারের কন্যা অরুন্ধতীর বিবাহ সম্পন্ন হয় ১৩২৮ বঙ্গাব্দের ১৬ই ফাল্গুন তারিখে। এই বিবাহে যোগদানের জন্য তাঁর কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল। রবীন্দ্রনাথ এই বিবাহে উপস্থিত হতে না পেরে, ২৬শে ফাল্গুন তিনি অরুন্ধতীকে লেখা চিঠিতে জানান যে-
'...আজকাল রেলপথের বিঘ্ন ঘটাতে তোমাদের বিবাহে উপস্থিত থাকতে পারি নি। ... এখানে সোমবারে ফাল্গুন পূর্ণিমায় সন্ধ্যার সময় গান বাজনা হবে, যদি তোমরা কোনো সুযোগে আস্তে পার তাহলে খুব খুসি হব
[ দেখুন: ৬০ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিকা ]