হাগানাহ
ইহুদীবাদী সশস্ত্র বাহিনী
হিব্রু ভাষায়
'Haganah' (הגנה) শব্দটির অর্থ হলো 'প্রতিরক্ষা'। 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুর্কি অটোম্যান সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদি সম্প্রদায় আরব আক্রমণ থেকে ইহুদি বসতি রক্ষা রক্ষার জন্য হাগানাহ নামে এই আধা-সামরিক সংগঠন গঠন করে এবং ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে এই বাহিনীকে জঙ্গি বাহিনীতে পরিণত করা হয়। পরবর্তীকালে এটি আরও সংগঠিত হয় এবং ১৯৩৬-১৯৩৯ ক্রিষ্টাব্দে আরব বিদ্রোহ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ বাহিনী ইহুদীবাদীদের রাষ্ট্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ফিলিস্তিনী মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদীবাদীদের যুদ্ধের জন্য তৈরী করা হাগানহ হলেও পরবর্তীকালে তারা আধা-সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয় এবং স্বাধীনতার পরে এই বাহিনী ইসরায়েলের মূল সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।

১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৩৫ হাজারে। এরপর ইহুদিরা নিজেদের নতন বাস্থস্থানের স্বপ্ন নিয়ে ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থেকে। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে ফিলিস্তিনে ইহুদির সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছে। আর ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই অঞ্চলে ইহুদির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় আড়াই লাখ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যকে রক্ষা করার সময়, হাগানাহ ব্রিটিশ বাহিনীর সাথে সহযোগিতা করেছিল। তবে যুদ্ধের পর, যখন ব্রিটিশরা ইহুদি অভিবাসনে বাধা দিতে শুরু করে, তখন হাগানাহও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এই সময় তারা বিভিন্ন  রেললাইন বা ব্রিজ উড়িয়ে দেয়।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ ম্যান্ডেট প্যালেস্টাইনে এরা সক্রিয় একটি প্যারামিলিটারি গ্রুপ হিসেবে সক্রিয় ছিল। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই মে
ইস্রায়েল রাষ্ট্র ঘোষিত হওয়ার পর, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন সমস্ত আধাসামরিক বাহিনীকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এই সময় হাগানাহ, ইর্গুন এবং লেহি-সহ সবগুলো দলকে একীভূত করে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) গঠন করা হয়।