জেরুজালেম
Jerusalem
মধ্যপ্রাচ্যের লেভান্ট অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি
ইসরায়েল
ও পশ্চিম তীর-এর মধ্যবর্তী পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি শহর।
পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র শহর।
আব্রাহামীয় তিনটি প্রধান একেশ্বরবাদী ধর্ম—
ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম
ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এটি দক্ষিণ লেভান্ট অঞ্চলের জুদেয়ান পর্বতমালার একটি মালভূমিতে
ভূমধ্যসাগর ও মৃত
সাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত। বর্তমানে
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—
উভয়ই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে। ইসরায়েল
সেখানে তার প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করে, আর ফিলিস্তিন ভবিষ্যতে এটিকে তাদের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায়। তবে এই দাবিগুলোর কোনোটিই আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতি পায়নি।
ভৌগোলিক অবস্থান: এটি
ভূমধ্যসাগরের উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পূর্বে মৃত সাগরের-এর পশ্চিমে জুডিয়ান পারবত্য অঞ্চলে অবস্থিত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা প্রায় ৭৫০ মিটার।
স্থানাঙ্ক: প্রায়: ৩১.৭° উত্তর অক্ষাংশ, ৩৫.২° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
ইতিহাস:
আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের দিকে যাযাবর গোষ্ঠী গিহোন ঝরনার কাছে প্রথম বসতি
স্থাপন করেছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ১৭শ শতাব্দীর মধ্যে জেরুজালেম কানানীয় শাসনের অধীনে একটি সুরক্ষিত নগরীতে পরিণত হয়। যেখানে বিশাল প্রাচীর শহরের জলব্যবস্থাকে
উন্নত করে।
আমার্না চিঠিপত্র থেকে ধারণা করা যায় ব্রোঞ্চ যুগে
জেরুজালেম প্রাচীন মিশরের অধীনস্থ নগরী ছিল।
জেরুজালেমের যে অংশটি “City of David” নামে পরিচিত, সেখানে বসতির প্রথম চিহ্ন পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দে ।
এখানে যাযাবর পশুপালকদের অস্থায়ী শিবিরের আকারে
ছিল। এরা সম্ভবত কানানীয় জাতিগোষ্ঠীর ছিল। এরা জেবুসি নামে পরিচিত ছিল।
তাদের প্রধান নগরীর নাম ছিল জেবুস। এই জেবুস থেকেই এই নগরীর জেরুজালেম নামের উৎপত্তি। সম্ভবত
এরা সেমিটিক ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী
ছিল এবং তাদের নিজস্ব দেবতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল।
হিব্রু বাইবেলের মতে রাজা দাউদ জেবুসীয়দের কাছ থেকে জেরুশালেম জয় করেন এবং জেরুজালেমে রাজধানী স্থাপন করেন
করেন। ধারণা করা হয়
প্রায় ১০০০- ৫৮৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের
ভিতরে ঘটনাটি ঘটেছিল। তিনি আর্ক অফ দ্য কোভেন্যান্ট-কে
সেখানে আনেন। উল্লেখ্য, বাইবেলীয় বর্ণনা অনুযায়ী এতে সংরক্ষিত ছিল- হজরত মুসা
আঃ -এর দশ আজ্ঞা সম্বলিত পাথরের
ফলক। হারনের দণ্ড এবং স্বর্গীয় খাদ্য মান্নার পাত্র। আকাসিয়া কাঠে নির্মিত এই
বাক্সটি বিশুদ্ধ সোনায় আবৃত ছিল। এর উপরে দুটি ফেরেস্তার মূর্ত ছিল। এই আর্ককে
ইহুদিরা মনে করতো- ঈশ্বরের উপস্থিতির আসন, ইসরায়েলীয়দের সাথে ঈশ্বরের চুক্তির প্রতীক
যুদ্ধ ও যাত্রায় আধ্যাত্মিক শক্তির উৎস।
দাউদ আঃ-এর
তাঁর পুত্র সোলোমন এখানে একটি মন্দির নির্মাণ করেন। এই মন্দিরটি সোলোমনের মন্দির নামে পরিচিত। নির্মাণ
শেষ হয় প্রায় ৯৫৭ বা ৯৬০
খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে। এই মন্দির নির্মাণে ফিনিশিয়ান কারিগরদের সাহায্য নেয়া হয়।
খ্রিষ্ট পূর্ব
১০ম শতাব্দীতে- জেরুজালেমে উল্লেখযোগ্য নির্মাণকাজ হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
খ্রিষ্ট পূর্ব ৯ম শতাব্দীর মধ্যে শহরটি যিহূদা রাজ্যের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
খ্রিষ্টপূর্ব ১৪শ শতাব্দীতে প্রাচীন মিশরীয় ফলকে জেরুজালেমের নাম ছিল 'উরুসালিম'। সম্ভবত কানানীয় দেবতা শালেম -এর নামানুসারে “শালেমের নগরী”
নামে অভিহিত হতো।
১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান সুলেইমানের রাজত্বকালে শাসনামলে জেরুজালেমের শহর প্রাচীর শেষবারের মতো পুনর্নির্মাণ করা হয়। আজ এই প্রাচীরগুলোই “ওল্ড সিটি”র
প্রাচীর হিসেবে ধরা হয়।