২৯ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স
নজরুল ইসলামের ২৯ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স শুরু হয়েছিল ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ (২৫ মে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে। শেষ হয়েছিল ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৬ বঙ্গাব্দ (২৪শে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ) ।


২৫-৩১ মে ১৯২৮ (১১-১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫)
নজরুলের ২৯ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স শুরু হয়েছিল, কৃষ্ণনগরে। এই বছরের শুরু হয়েছিল তাঁর মাতৃবিয়োগের মধ্য দিয়ে। ১৫ই জ্যৈষ্ঠ (মঙ্গলবার ২৯শে মে) চুরুলিয়ায় তাঁর মা জাহেদা খাতুনের মৃত্যু হয়েছিল। নজরুল এই সংবাদ পাওয়ার পরও সম্ভবত অভিমান বশে চুরুলিয়ায় তাঁর মাকে শেষবারের মতো দেখতে যান নি। 

জুন ১৯২৮ (১৮ জ্যৈষ্ঠ-১৬ আষাঢ় ১৩৩৫)
জুন মাসের ২০ তারিখে (বুধবার ৬ আষাঢ় ১৩৩৫) কয়েকজন বন্ধুসহ নজরুল ঢাকায় আসেন। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত তাঁর '‌কল্লোল যুগ' গ্রন্থে এবারের উদ্দেশ্যবিহীন ঢাকা আগমনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে লিখেছেন-
‌'কোন এক গোরা টিমকে ছ-ছটা গোল দিলে মোহনবাগান। রবি বোস নামে নতুন এক খেলোয়াড় এসেছে ঢাকা থেকে এ তারই কারুকার্য। সেইবার কি! না, যেবার মনা দত্ত পর পর তিনটি কর্ণার শর্ট থেকে হেড করে পর পর তিনটে গোল দিলে ডি-সি-এল আইকে। মোট কথা, ঢাকার লোক যখন এমন একটা অসাধ্য সাধন করল তখন মাঠ থেকে সিধে ঢাকায় চলে যাওয়ার মানে হয় না। সুতরাং খেলার মাঠ থেকে সোজা শেয়ালদা এসে ঢাকার ট্রেন ধরল তিনজন। দীনেশরঞ্জন, নজরুল আর নৃপেন। সোজা বুদ্ধদেবের বাড়ি।‌
মোহনবাগানের জেতার পরে এঁরা যে ঢাকায় এসেছিলেন, তা পাওয়া যায় বুদ্ধদেব বসুর '‌কালের পুতুল‌' গ্রন্থেও। যাহোক নজরুল ঢাকায় এসে প্রথমে উঠেছিলেন বুদ্ধদেব বসুর বাড়িতে। পরে ঐদিনই কাজী মোতাহার হোসেনের বর্ধমান হাউসের বাসায় ওঠেন। এবারের তিনি বেশ কিছুদিন ঢাকাতে ছিলেন। এবারের ঢাকা ভ্রমণের প্রথম দিনেই ঢাকার প্রগতি গোষ্ঠীর নেতা বুদ্ধদেব বসুর সাথে নজরুলের পরিচয় ঘটেছিল।

২১ জুন (বৃহস্পতিবার ৭ আষাঢ় ১৩৩৫) নজরুল বনগ্রামে (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা) যান রাণু সোমের (প্রতিভা বসু) সাথে দেখা করতে যান। উল্লেখ্য, এর আগে দিলী্পকুমার রায় ঢাকা এসে রাণুকে বেশ কিছু নজরুলের গজল আঙ্গিকের গান শিখেয়েছিলেন। কলকাতায় ফিরে নজরুলের কাছে এই সুকণ্ঠী শিল্পীর প্রশংসা করেন। তাই এবারের ঢাকায় আসার পরের দিনই পরম আগ্রহ নিয়ে নজরুল রাণু সোমের (প্রতিভা বসু) সাথে পরিচিত হতে, তাঁদের বাসায় যান। নজরুলও তাঁর সঙ্গীত-প্রতিভার পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ হন। মুগ্ধ কবি রাণুকে একটি উৎসরগ্ করেন। নজরুল যতদিন ঢাকায় ছিলেন প্রায় ততদিনই  তিনি গান শেখানোর জন্য তিনি বনগ্রামে যেতেন। এ বিষয়ে চমৎকার বর্ণনা পাওয়া যায়, প্রতিভা বসুর রচিত 'জীবনের জলছবি‌' গ্রন্থে। এই গ্রন্থে পাওয়া যায় নজরুলের রচিত একটি নতুন গানের কথা জানা।
'...রাত জেগে নতুন গান লিখেছেন তিনি, না শিখিয়ে থাকতে পারছেন না। ‌'এসো এসো শিগ্গির এসো, হারমোনিয়াম নিয়ে বসো।' আমরা সবে চা খাচ্ছি, আমার চেহারায় তখনো ঘুম ঘুম ভাব। বসে গেলেন সঙ্গে। ...রাত্তিরে একটা গান লিখেছি সুরটা তুলে নাও তাড়াতাড়ি, আবার ভুল হয়ে যাবে।‌'
    সকালটা ঝক্ ঝক্ করতে লাগলো। আবার হারমোনিয়াম আবার পানের বাটা আবার ঘনঘন চা। গানটা হলো 'আমার কোনকূলে আজ ভিড়লো তরী, এ কোন সোনার গাঁয়/ভাঁটির টানে আবার কেন উজান যেতে চায়।' দেখা গেল তখনো তার বয়ান সঠিক নায়, সুরেরও হেরফের হচ্ছে। ঠিক করছেন গাইত গাইতে, শেখাতে শেখাতে।‌'
উল্লেখ্য, গানটি পরে চোখের চাতক-এ অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
এই মাসের অবশিষ্ট দিনগুলো নজরুল ঢাকাতেই কাটান। এই মাসে প্রকাশিত নতুন কবিতা ও গানগুলো ছিল- জুলাই ১৯২৮ (১৭ আষাঢ়- ১৫ শ্রাবণ ১৩৩৫)
ঢাকাতে নজরুলের প্রধান কাজই ছিল রাণুর গান শেখানো। এই সূত্রে নজরুল এক রাত্রিতে রাণুদের প্রতিবেশী এক পরিবারের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। এই দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল বেশ আগে, দিলীপকুমার রায়ের গান শেখানো নিয়ে। প্রতিভা বসু তাঁর 'জীবনের জলছবি‌' গ্রন্থের এই বিবাদের বিষয়ে লিখেছেন-
'যখন দিলীপদা এসেছিলেন তখন ওঁরা একদিন দিলীপদাকে নিজেদের মেয়েদের গান শোনাবার জন্য নিমন্ত্রণ করে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, দিলীপদা সেই নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তারপর থেকে ও বাড়ির সর্বময়ী কর্ত্রী বয়স্ক সুন্দরী আত্মীয়টি আর আমাদের সাথে কথা বলতেন না।  কর্তা ও কন্যাদেরও বলতে দিতেন না।...'
এই ঘটনার পর নজরুল যখন রাণুদের বাসায় আসা-যাওয়া শুরু করলেন এবং সেই সাথে রাণুকে গান শেখানো শুরু করলেন, তখন এদের সকল রাগ এসে পড়েছিল নজরুলের উপর। তাই ২৫শে জুলাই (বুধবার ৯ শ্রাবণ ১৩৩৫) রাত দশটার দিকে, রাণুদের বাসায় গান আর আবৃত্তির আসর শেষে নজরুল যখন বের হন, তখন প্রতিবেশীদের লেলিয়ে দেওয়া দশ-বারো জন যুবক লাটি নিয়ে নজরুলকে আক্রমণ করে। নজরুল এদের একাই প্রতিহত করে আহত হন। এই অবস্থায় রাণুর পিতা এগিয়ে গিয়ে আহত নজরুলকে নিজের বাসায় এনে সেবাশুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলেন।

প্রতিভাবসু জলছবি গ্রন্থে এই ঘটনার সময় প্রসঙ্গে  লিখেছেন- ‌' সেবার ঢাকা গিয়ে নজরুল ইসলাম যেদিন ঢাকা ছেড়ে ফিরে গেলেন, তার দুদিন আগে সন্ধ্যাবেলায় আমাদের বাড়িতে তাঁর গান আর আবৃত্তির একটি আসর বসেছিল।‌ এই বিচারে বলা যায়, এই ঘটনার দুই দিন পর অর্থাৎ ২৭ শে জুলাই (শুক্রবার ১১ শ্রাবণ) নজরুল ঢাকা থেকে কৃষ্ণনগরে ফিরে এসেছিলেন। পরে কলকাতায় সওগাত অফিস এসে ওঠেন।

এই মাসে প্রকাশিত নতুন রচনা
পূর্বে রচিত এই মাসে প্রকাশিত রচনা আগষ্ট ১৯২৮ (১৬ শ্রাবণ- ১৫ ভাদ্র ১৩৩৫)
এই মাসে সওগাত পত্রিকার কাজে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এছাড়া ছোটো-খাটো অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। এর ভিতরে উল্লেখযোগ্য ছিল ২৯শে আগষ্ট (বুধবার ১৩ই ভাদ্র), ফাতেহা-দোয়াজ-দহম উপলক্ষে নজরুল ইসলামিয়া কলেজ হোস্টেলে এবং ক্যাম্বেল স্কুল হোস্টেলে গিয়েছিলেন। মিলাদের শেষে তিনি গান পরিবেশন করেছিলেন। গান পরিবেশনের কারণেমুসলমান ছাত্রদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ সেকালে বাঙালি মুসলমান জনগোষ্ঠীর ভিতরে '‌গান গাওয়া পাপ'- এই ধারণা দৃঢ়ভাবে ছিল। এই দুই হোস্টেলে মিলাদ ও গান গাওয়ার বিষয়ে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছিল সওগাত পত্রিকার '১৫ই ভাদ্র ১৩৩৫, ৩১ আগষ্ট ১৯২৮' সংখ্যায়।

এই মাসে প্রকাশিত নজরুলের নতুন রচনা এই মাসে রেকর্ডে প্রকাশিত গান
নজরুলের গানের পঞ্চম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৯২৮) এইচএমভি থেকেরেকর্ড নম্বর- পি ১১৫০৯। শিল্পী ছিলেন উমাপদ। গান দুটি হলো- সেপ্টেম্বর ১৯২৮ (১৬ ভাদ্র-১৪ আশ্বিন ১৩৩৫)
সেপ্টেম্বর মাসে নজরুল বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সকল অনুষ্ঠানে তিনি অন্যের রচিত ও স্বরচিত গান পরিবেশন করেছেন। এর ভিতরে একটি গান 'জাগিলে পারুল কি গো' গানটি ছিল নতুন। এই মাসের অনুষ্ঠানগুলো ছিল-

এই মাসে প্রকাশিত নতুন কবিতা এই মাসে প্রকাশিত রেকর্ড
এই মাসে প্রকাশিত হয়েছিল নজরুলের গানের চতুর্থ রেকর্ড। আর প্রকাশিত হয়েছিল নজরুলের স্বকণ্ঠে নারী কবিতার আবৃত্তি‌র রেকর্ড। অক্টোবর ১৯২৮ (১৫ আশ্বিন-১৪ কার্তিক ১৩৩৫)
১ অক্টোবর (সোমবার ১৫ আশ্বিন ১৩৩৫), নজরুল দিলীপকুমার রায়কে তাঁর বুলবুল নামক সঙ্গীত সংকলনটি উৎসর্গ করেন। এর সাথে এর রচনার স্থান ও কাল উল্লেখ আছে 'কলিকাতা/১৫ আশ্বিন ১৩৩৫। উল্লেখ্য, এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের কার্তিক (নভেম্বর ১৯২৮) মাসে।
            [দ্রষ্টব্য: উৎসর্গ]

৯ অক্টোবর (মঙ্গলবার ২৩ আশ্বিন ১৩৩৫), কলকাতার ওয়েসলি স্কোয়ার মুসলিম ইন্সটিটিউট হলে সমগ্র বঙ্গদেশের পক্ষ থেকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিলেন খান বাহাদুর আসাদুজ্জামান। এই সভায়  অভ্যর্থনা ও সম্বর্ধনা কমিটির সার্বিক পরিচলানার জন্য একটি তত্ত্বাবধায়ক পরিষদ গঠন করা হয়। এই পরিষদে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা হলেন ১৩ই অক্টোবর (শনিবার ২৭ আশ্বিন ১৩৩৫), কলকাতার আলবর্ট হলে,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'নিখিল বঙ্গ মুসলিম যুবক সম্মেলন'। নজরুল এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।  এই সম্মেলন উপলক্ষে তাঁর সদ্য রচিত একটি গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি। গানটি হলো-

১৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার, ১ কার্তিক ১৩৩৫) অনুষ্ঠিত হয়েছিল সুরমা উপত্যাকায় মুসলমান ছাত্র সম্মেলনের অধিবেশন। এই অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য কলকাতা থেকে একে ফজলুল হক, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও নজরুল রেলপথে সিলেটে আসেন। সিলেটে স্টেশনে এই তিনজনকে বিপুলভাবে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। নজরুল সিলেটে উঠেছিলেন যুগবাণী পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ মকবুল হোসেনের বাসায়। এই সম্মেলন তিনব্যাপী সিলেটের রাজা স্কুলের (গিরিশচন্দ্র বিদ্যালয়) মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল বেলা ১টায়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়েছিল, তাঁর স্বকণ্ঠে গীত ‌'চল চল্‌ চল ঊর্ধে গগন বাজে মাদল' গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। পরে তিনি আরও দুটি গান পরিবেশন করেন। এ দুটো গান হলো- ‌'বাজলো কিরে ভোরের সানাই' এবং 'আমরা শক্তি আমরা বল'। সন্ধ্যাবেলার অধিবেশন শেষে নজরুলের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেছিলেন- 'বসিয়া বিজনে কেন একা মনে‌', 'কে বিদেশী মন উদাসী', বাগিচায় বুলবুলি তই', 'আয় বেহেশতে কে যাবি আয়, যৌবন জলতরঙ্গ' ও 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু'।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নজরুল বক্তৃতা দেন এবং কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। সে সময়ে পর্দানশীন মুসলমান রমণীরা এই ধরণের জন-জলাসায় গান শুনতে আসতেন না। মহিলা দর্শক-শ্রোতাদের সবই ছিল হিন্সু-পরিবারের। নজরুলের গান ও বক্তৃতা শোনার জন্য স্থানীয় বেশকিছু মুসলমান মহিলা শ্রোতার আসরে যোগ দেন। এঁদের ভিতরে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আব্দুর রশিদের স্ত্রী সিরাজুন্নেসা চৌধুরী এবং অধ্যাপক আব্দুল মুমিনের স্ত্রী বেগম মুনিম। পরের দিন সিলেটের খানাদনি রীতি ভঙ্গের প্রতিবাদে, কৌড়িপুরের মাওলানা সাহেবের সভপতিত্বে এক সভা আহ্বান করা হব। কিন্তু দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ও অন্যান্য স্থানীয় যুবকদের বাধার মুখে এই প্রতিবাদ সভা সম্পন্ন হতে পারে নি।

এই সম্মেলন শেষ হয়েছিল ২০ অক্টোবরে (শনিবার, ৩ কার্তিক ১৩৩৫)। এরপর নজরুল সিলেটে কয়েকদিন কাটান। সেখানে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করে গান ও আবৃত্তি শোনান। এই সময় তাঁর একান্ত সহচর হিসেবে ছিলেন- ফণীন্দ্রচন্দ্র দাস। এখানে তাঁর সাথে বিশেষ সখ্য গড়ে উঠেছিল সিলেটের কবি আব্দুর রাজ্জাক এবং সনেট-রচয়িতা আব্দুল গাফফারের সাথে। উভয়কে কাব্য রচনায় বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন।

সিলেটের সুরেন্দ্র সিংহ মজুমদারের ভ্রাতুষ্পুত্রী লীলবতী সিংহ মজুমদারের কণ্ঠে গান শুনে তিনি মুগ্ধ হন। তিনি ২৪ অক্টোবর (বুধবার ৭ কার্তিক ১৩৩৫) লীলাবতীর উদ্দৈশ্যে একটি ক্ষুদ্র কবিতা রচনা করে উপহার দেন। কবিতাটি হলো-

শ্রীহটে তিনি বিভিন্ন অভিজাত পরিবারে নিমন্ত্রণ রক্ষা করেন। উল্লেখযোগ্য নিমন্ত্রণকারী পরিবারের কর্তা ছিলেন- এমসি কলেজের উপাধ্যক্ষ খান বাহাদুর আব্দুল্লাহ আবু সাইদ, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী আব্দুল মজিদ, খান বাহাদুর মুহাম্মদ বখত মজুমদার, ইলু মিয়া পালোয়ান প্রমুখ। এই সময় আলী আশরাফের বাড়িতে নজরুলকে বিশেষভাবে সংবরধনা দেওয়া হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে ড, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এই মাসে প্রকাশিত গ্রন্থাদি।

বুলবুল : বুলবুল' প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ (নভেম্বর ১৯২৮) মাসে। গ্রন্থটিতে মোট ৪২টি গান সংকলিত হয়েছিল। প্রকাশক গোপালদাস মজুমদার, ডি,এম লাইব্রেরি, ৬১ কর্নওয়ালিশ স্ট্রিট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা ৪+৭০। মূল্য এক টাকা। রাজসংস্করণ পাঁচ সিকা। গ্রন্থটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল মোট ৪২টি গান। এর ভিতরে ৩৬টি গান পূর্বেই পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছিল। বাকি ৬টি ছিল নতুন গান। নিচে কালানুক্রমিক সুচী অনুসারে গানগুলো উল্লেখ করা হলো।

  1. বাগিচায় বুলবুলি তুই [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৮২ সংখ্যক গান। কল্লোল পত্রিকার 'মাঘ ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ (মার্চ ১৯২৭) সংখ্যায় গানটি প্রকাশিত হয়েছিল। উক্ত পত্রিকায় রচনার স্থান ও রচনাকাল উল্লেখ ছিল- 'কৃষ্ণনগর, ৮ই অগ্রহায়ণ ১৩৩৩'  (২৪ নভেম্বর ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ)।
  2. আসে বসন্ত ফুলবনে  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৮৩ সংখ্যক গান। সওগাত পত্রিকার 'পৌষ ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। রচনার স্থান ও তারিখ উল্লেখ আছে- 'কৃষ্ণনগর, ২৮ অগ্রহায়ণ ৩৩' [মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ১৯২৬]। গানটির পাদটীকায় উল্লেখ ছিল-  'বিখ্যাত উর্দু গজল ' 'কিস্‌কে খেরামে নাজ্‌নে কবর্‌মে দিল্ হিলা দিয়া'।
  3. দুরন্ত বায়ু পূববইয়াঁ  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৮৪ সংখ্যক গান। কল্লোল পত্রিকার 'মাঘ ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় (জানুয়ারি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ) গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এ সময় অসুস্থ অবস্থায় তিনি কৃষ্ণনগরে ছিলেন। উল্লেখ্য, ২৬শে ডিসেম্বর (রবিবার, ১১ পৌষ ১৩৩৩) নজরুল কৃষ্ণনগর থেকে মুরলীধর বসুকে লেখা থেকে জানা যায়, নজরুল অসুস্থ অবস্থায় উর্দু গজলের সুরে কয়েকটি বাংলা গজল রচনা করেছিলেন। এ সকল গজলের ভিতরে এই গানটি ছিল।
  4. মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে   [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৮৫ সংখ্যক গান। কল্লোল পত্রিকার 'মাঘ ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় (জানুয়ারি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ) গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এ সময় অসুস্থ অবস্থায় তিনি কৃষ্ণনগরে ছিলেন। উল্লেখ্য, ২৬শে ডিসেম্বর (রবিবার, ১১ পৌষ ১৩৩৩) নজরুল কৃষ্ণনগর থেকে মুরলীধর বসুকে লেখা থেকে জানা যায়, নজরুল অসুস্থ অবস্থায় উর্দু গজলের সুরে কয়েকটি বাংলা গজল রচনা করেছিলেন। এ সকল গজলের ভিতরে এই গানটি ছিল।
  5. বসিয়া বিজনে কেন একা মনে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৮৫ সংখ্যক গান। কল্লোল পত্রিকার 'ফাল্গুন ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ  (ফেব্রুয়ারি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
  6. আমারে চোখ ইশারায়  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৮৭ সংখ্যক গান। কল্লোল পত্রিকার 'চৈত্র ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ  (ফেব্রুয়ারি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। 
  7. করুণ কেন অরুণ আখিঁ  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯১ সংখ্যক গান। বঙ্গবাণী। জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪। নওরোজ আষাঢ় ১৩৩৪
  8. এত জল ও-কাজল চোখ  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯২ সংখ্যক গান। বঙ্গবাণী। জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪। নওরোজ আশ্বিন ১৩৩৪
  9. এ আঁখি জল মোছ প্রিয়া  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯৪ সংখ্যক গান।  কল্লোল পত্রিকার 'জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (মে ১৯২৭)  সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। 
  10. ভুলি কেমনে আজো যে মনে  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯৫ সংখ্যক গান। কল্লোল পত্রিকায় জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ' (মে ১৯২৭) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
  11. ঝরে ঝর ঝর কোন্‌ গভীর গোপন  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯৬ সংখ্যক গান। নওরোজ আষাঢ় ১৩৩৪। ঝিলিমিলি নাটকে ব্যবহৃত হয়েছিল।
  12. হৃদয় যত নিষেধ হানে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯৭ সংখ্যক গান। নওরোজ আষাঢ় ১৩৩৪। ঝিলিমিলি নাটকে ব্যবহৃত হয়েছিল।
  13. শুকালো মিলন-মালা  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯৮ সংখ্যক গান। নওরোজ আষাঢ় ১৩৩৪। ঝিলিমিলি নাটকে ব্যবহৃত হয়েছিল।
  14. স্মরণ পারের ওগো প্রিয় [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯৯ সংখ্যক গান। নওরোজ আষাঢ় ১৩৩৪। ঝিলিমিলি নাটকে ব্যবহৃত হয়েছিল।
  15. গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০০ সংখ্যক গান। নওরোজ শ্রাবণ ১৩৩৪। সারাব্রিজ (সেতুবন্ধ) নাটকের অংশ সারা ব্রিজ।
  16. অধীর অম্বরে গুরু গরজন [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০১ সংখ্যক গান।  নওরোজ শ্রাবণ ১৩৩৪। সারাব্রিজ (সেতুবন্ধ) নাটকের অংশ সারা ব্রিজ।
  17. হাজার তারার হার হয়ে গো  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০২ সংখ্যক গান।  নওরোজ শ্রাবণ ১৩৩৪। সারাব্রিজ (সেতুবন্ধ) নাটকের অংশ সারা ব্রিজ।
  18. নমো হে নমো যন্ত্রপাতি [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০৩ সংখ্যক গান।  নওরোজ শ্রাবণ ১৩৩৪। সারাব্রিজ (সেতুবন্ধ) নাটকের অংশ সারা ব্রিজ।
  19. চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০৪ সংখ্যক গান।  নওরোজ শ্রাবণ ১৩৩৪। সারাব্রিজ (সেতুবন্ধ) নাটকের অংশ সারা ব্রিজ।
  20. কেন কাঁদে পরান কি বেদনায় কারে কহি  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০৫ সংখ্যক গান। নওরোজ পত্রিকার শ্রাবণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
  21. আসিলে এ ভাঙা ঘরে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০৬ সংখ্যক গান। নওরোজ পত্রিকার শ্রাবণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
  22. কেন দিলে এ কাঁটা যদি গো কুসুম দিলে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০৭ সংখ্যক গান। নওরোজ পত্রিকার 'ভাদ্র ১৩৩৪' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। এইচএমভি থেকে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৯২৮) গানটির রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। রেকর্ড নম্বর- পি ১১৫০৯। শিল্পী ছিলেন উমাপদ।
  23. কোন্ শরতে পূর্ণিমা চাঁদ আসিলে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১০৯ সংখ্যক গান। ১৩৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে ভাদ্র  (১৬ সেপ্টেম্বর ১৯২৮), কলিকাতা ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উৎসবে শ্রীমতী সাহানা দেবী কর্তৃক গীত হয়েছিল। এছাড়া কল্লোল পত্রিকার আশ্বিন ১৩৩৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
  24. চেয়ো না সুনয়না আর চেয়ো না [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১১ সংখ্যক গান। সওগাত পত্রিকার 'অগ্রহায়ণ ১৩৩৪' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
  25. পূরবের তরুণ অরুণ পূরবে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১২ সংখ্যক গান। গানটি নাচঘর  পত্রিকার ‌৭ই পৌষ ১৩৩৪‌ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গানটির পাদটীকায় উল্লেখ আছে- ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে দিলীপকুমার রায়ের সম্বর্ধনা উপলক্ষে রচিত ও উমাপদ ভট্টাচার্য কর্তৃক গীত।
  26. কে বিদেশী বন-উদাসী [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৩ সংখ্যক গান। গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল সওগাত পত্রিকার 'পৌষ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায়। ভারতবর্ষ পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫ সংখ্যায় স্বরলিপিসহ প্রকাশিত হয়েছিল। স্বরলিপকার ছিলেন সাহানা দেবী। পৃষ্ঠা: ৮৩১-৮৩২।
  27. বসিয়া নদীকূলে, এলোচুলে কে উদাসিনী [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৪ সংখ্যক গান। প্রগতি পত্রিকার 'মাঘ ১৩৩৪' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
  28. সখি ব'লো বধুঁয়ারে নিরজনে (ব'লো বঁধুয়া রে)  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৬ সংখ্যক গান। সওগাত পত্রিকার ‌চৈত্র ১৩৩৪‌ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  29. নিশি ভোর হল জাগিয়া [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৭ সংখ্যক গান। প্রগতি পত্রিকার চৈত্র ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  30. পরদেশী বঁধুয়া, এলে কি এতদিনে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৮ সংখ্যক গান। কালিকলম পত্রিকার চৈত্র ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  31. আজি দোল-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৯ সংখ্যক গান। কল্লোল পত্রিকার চৈত্র ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  32. এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো ছলিতে  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২০ সংখ্যক গান। প্রগতি পত্রিকার 'বৈশাখ ১৩৩৫' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
  33. নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখি-জল  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২২ সংখ্যক গান। কালিকলম পত্রিকার 'জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।  রচনার স্থান ও রচনাকাল উল্লেখ নেই ।
  34. আজি এ কুসুম-হার [গান-১৮৪৯] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২৪ সংখ্যক গান। কল্লোল পত্রিকার 'আষাঢ় ১৩৩৫' সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত প্রকাশিত হয়েছিল।
  35. গহীন রাতে ঘুম কে এলে ভাঙাতে [গান-২২৩] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২৪ সংখ্যক গান। সওগাত পত্রিকার ‌'ভাদ্র, ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ‌' সংখ্যা। শিরোনাম - গহীন রাত। ধূপছায়া পত্রিকার ‌'ভাদ্র, ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ‌' সংখ্যা।
  36. জাগিলে পারুল কি গো [গান-১৬৯৮]  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২৬ সংখ্যক গান। ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে (কার্তিক ১৩৩৫) উচ্চ শিক্ষার্থে ফজিলুতন্নেসা ইংল্যান্ডে যান। তাঁর বিদায় সম্বর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল সওগাত পত্রিকার অফিসে। নজরুল ফজিলুতন্নেসার বিদায় উপলক্ষে এই গানটি রচনা করেন এবং এই অনুষ্ঠানে এই গানটি নিজেই পরিবেশন করেন।
বুলবুল প্রথম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত নতুন ৬টি গান
  1. কেন উচাটন মন পরান এমন করে [গান-১২২৮] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২৮ সংখ্যক গান।
  2. পরান-প্রিয়! কেন এলে অবেলায় [গান-৪৫০] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২৯ সংখ্যক গান।
  3. সখি জাগো রজনী পোহায় (ওগো) [গান-৯২৫]  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৩০ সংখ্যক গান।
  4. কি হবে জানিয়া বল [গান-১৮৪৩] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৩১ সংখ্যক গান।
  5. রুম্‌ ঝুম্‌ রুম্‌ ঝুম্‌ কে এলে নূপুর পায়[গান-৬৪৭] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৩২ সংখ্যক গান।
  6. কে শিব সুন্দর [গান-১৮৬৫] [তথ্য]
     
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৩৩ সংখ্যক গান।
  • সঞ্চিতা। নজরুলের কবিতা ও গানের সংকলন। গ্রন্থটি অক্টোবর মাসে দুটি প্রকাশনা থেকে দুইবার প্রকাশিত হয়েছিল।
    • প্রথম সংকলন: প্রকাশকাল ২রা অক্টোবর। প্রকাশক: ব্রজবিহারী বর্মণ রায়, বর্মণ পাবলিশিং হাউস, ১৯৩ কর্ণওয়ালিশ স্ট্রিট, কলকাতা। মুদ্রক শশিভূষণ পাল, মেটকাফ প্রেস, ১৫ নয়ানচাঁদ দত্ত স্ট্রিট, কলকাতা। পৃষ্ঠা ২+১৩০। মূল্য দেড় টাকা। এতে ছিল অগ্নিবীণা, ঝিঙেফুল, সর্বহারা, ফণি-মনসা, ছায়ানট, দোলন চাঁপা, সিন্ধু-হিন্দোল ও চিত্তনামা থেকে গৃহীত কবিতাসমূহ।
       
    • দ্বিতীয় সংকলন: ব্রজবিহারী বর্মণ রায়, বর্মণ পাবলিশিং হাউস থেকে প্রকাশিত 'সঞ্চিতা' মান সম্মত না হওয়ায়, পুনরায় প্রকাশিত হলো  ডিএম, লাইব্রেরি থেকে। পরবর্তী সময়ে ডিএম, লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত 'সঞ্চিতা'-ই আদর্শ হয়ে উঠেছিল।

      প্রকাশক: ১৪ অক্টোবর। প্রকাশক: গোপালদাস মজুমদার, ডিএম, লাইব্রেরি, ৬১ কর্নওয়ালিশ স্ট্রিট, কলকাতা।  মুদ্রক: সজনীকান্ত দাস. প্রবাসী প্রেস, ৯১ আপার সারকুলার রোড, কলকাতা।  পৃষ্ঠা ৪+২২৪। মূল্য আড়াই টাকা। এতে ছিল অগ্নিবীণা,  দোলন চাঁপা, ছায়ানট,  সর্বহারা, ফণি-মনসা,সিন্ধু-হিন্দোল, চিত্তনামা, ঝিঙেফুল, বুলবুল ও জিঞ্জীর থেকে গৃহীত কবিতা ও গানসমূহ। উল্লেখ্য, সঞ্চিতা প্রকাশের সময় 'জিঞ্জীর' কাব্যগ্রন্থটি যন্ত্রস্থ ছিল।  এই গ্রন্থটি  ডিএম, লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, এই বছরের নভেম্বর মাসে। সঞ্চিতা প্রকাশের সময়, যন্ত্রস্থ জিঞ্জীরা থেকে নির্বাচিত কবিতা ও গান গ্রহণ করা হয়েছিল।

এই মাসে প্রকাশিত অন্যান্য নতুন রচনা

  • আমি গাই তারই গানছাত্র পত্রিকার 'আশ্বিন-কর্তিক ১৩৩৫‌' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
  • যৌবন জলতরঙ্গ । সওগাত পত্রিকার 'কার্তিক ১৩৩৫' সংখ্‌যায় প্রকাশিত হয়েছিল। সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নভেম্বর ১৯২৮ (১৫ কার্তিক- ১৫ অগ্রহায়ণ ১৩৩৫)
নভেম্বর মাসের প্রথম থেকেই নজরুল কলকাতাতেই ছিলেন।
২৬ নভেম্বর (সোমবার ১১ নভেম্বর ১৩৩৫)  রংপুর জেলার হরগাছা তরুণ সংঘের বার্ষিক অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করার জন্য রংপুর আসেন। এই সময় রংপুর রেলস্টেশনে তাঁকে বিপুলভাবে সংব্র্ধনা দেওয়া হয়। রংপুর থেকে হরগাছা পৌঁছালে সেখানে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর হরগাছা তরুণ সংঘের সম্মেলনে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হয়। নজরুলকে অভিনন্দন জানান সংঘের সভাপতি মোবারক আলী। এই অনুষ্ঠানে নজরুল কবিতা আবৃত্তি করেন কয়েকটি গজল পরিবেশন করেন। এরপর নজরুল দুই দিন হরগাছায় আনন্দমুখর পরিবেশে সময় কাটান। এই সময় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে পরিচিত হন। ২৮ শে নভেম্বর (বৃহস্পতিবার ১৩ অগ্রহায়ণ ১৩৩৫), হরগাছায় ভোরের পাখী কবিতাটি রচনা করেন।

এই মাসে প্রকাশিত গ্রন্থ

ডিসেম্বর ১৯২৮ (১৬ অগ্রহায়ণ-১৬ পৌষ ১৩৩৫)
৪ ডিসেম্বর ১৯২৮ (মঙ্গলবার, ১৯ অগ্রহয়ণ ১৩৩৫), কোনো এক অজ্ঞাত কারণে নজরুল মুর্শিদাবাদের নিমতিতায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি একটি গান রচনা করেন। গানটি হলো-

রাজশাহী ভ্রমণ ১৯ ডিসেম্বর (বুধবার ৪ পৌষ ১৩৩৫) নজরুল কলকাতার উদ্দেশ্যে সড়কপথে রওনা হয়ে নাটোর আসেন।  সেখান রেলযোগে ২০ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার ৫ পৌষ ১৩৩৫) কলকাতায় পৌঁছান।

২১-২২ ডিসেম্বর (শুক্র-শনি ৬-৭ পৌষ ১৩৩৫) ভারতের প্রায় সব কয়টি প্রদেশের কৃষক-শ্রমিক সংগঠন সম্মিলিত হয়ে কলকাতায় দুই দিন ব্যাপী একটি সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে নজরুল উপস্থিত হয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার ১০ পৌষ ১৩৩৫) এই দিন কুষ্টিয়ায়। এটি ছিল নজরুলের কুষ্টিয়ায় দ্বিতীয় সফর। এবারে তিনি এসেছিলেন বঙ্গীয় কৃষক-শ্রমিক দলের আঞ্চলিক সম্মেলন। এই সম্মেলনটি মুজফ্ফর আহমেদ-এর সভাপতিত্বে যতীন্দ্রমোহন হলের পরিমল রঙ্গমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। নজরুল যোগদান করেন এবং পূর্ব রচিত 'কৃষাণের গান' এবং 'অন্তর ন্যাশনাল সঙ্গীত' পরিবেশন করেন।

২৮ ডিসেম্বর (শুক্রবার ১৩ পৌষ ১৩৩৫) এই দিন রামমোহন লাইব্রেরিতে আয়োজিত নিখিল ভারত সোশালিস্ট যুব কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। নজরুল এই অনুষ্ঠানে নজরুল উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

২৯-৩১ ডিসেম্বর (শনি-সোম ১৪-১৬ পৌষ) এই তিন দিন পার্ক সার্কাস ময়দানে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনের শেষের দিন (৩১ ডিসেম্বর), নজরুল পূর্বে রচিত 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু' গানটি পরিবেশন করেন।

ডিসেম্বর মাসের এই কর্মব্যস্তার ভিতরে নজরুল কৃষ্ণনগরের বাস ছেড়ে কলকাতার নলিনীকান্ত সরকারের জেলিয়াটোলায় বাসায় সপরিবারে চলে আসেন। এখানে নানা রকম অসুবিধার কারণে তিনি সওগাত পত্রিকার ১১ ওয়েলসলি স্ট্রিটে অফিসের নিচ তলায় উঠে আসেন। পরে তিনি এই বাসা ছেড়ে ৮/১ পানবাগান লেনে উঠে আসেন।

এই মাসে প্রকাশিত নতুন কবিতা

এই মাসে প্রকাশিত পূর্বে রচিত কবিতা

জানুয়ারি ১৯২৯ (১৭ পৌষ-১৮ মাঘ ১৩৩৫)
গত মাসে নজরুল ৮/১ পানবাগান লেনে নতুন বাসা নিয়েছিলেন। ২ জানুয়ারি (বুধবার ১৮ পৌষ ১৩৩৫) আব্দুল কাদিরকে একটি চিঠি লেখেন। [আব্দুল কাদের-কে লেখা পত্র]

৬ তারিখে (রবিবার ২২ পৌষ ১৩৩৫) নজরুল চট্টগ্রামে যান। নজরুলের এটি ছিল চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বারের ভ্রমণ। এখানে তিনি হবীবুল্লাহ বাহার ও শামসুন নাহার-এর তামাকুমণ্ডির বাসায় আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন।

৭ জানুয়ারি (সোমবার ২৩ পৌষ ১৩৩৫), নজরুল চট্টগ্রাম ভিক্টোরিয়া ইসলামি হোস্টেলে মুসলমান শিক্ষা সমিতির (মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি), ত্রিশতম প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উৎসবের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং উক্ত সভার সভাপতিত্ব করেন। সভাপতির ভাষণে তিনি হিন্দু-মুসলামনের ঐক্যের কথা বলেন। বুলবুল পত্রিকার '‌ফাল্গুন ১৩৪৩‌' সংখ্যায় এই বক্তৃতা  প্রকাশিত হয়েছিল ‌'মুসলিম সংস্কৃতি চর্চা' শিরোনামে।

এবারে নজরুলের চট্টগ্রামের আশপাশের অঞ্চল জুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি ঘোড়া চড়ে পাহাড়ি পথে ঘুরে বন-সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। সীতাকুণ্ডু পাহাড়ে গিয়েছেন। স্থানীয় তরুণদের সাথে আড্ডা দিয়েছেন। এবারের চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম ভ্রমণের সময় চট্টগ্রামের বুলবুল সোসাইটি থেকে তাঁকে তিনি সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কোনো কোনো দিন ঘরের বাইরে না বেরিয়ে, ঘরোয়া পরিবেশে আড্ডা ও গানের জলসা বসিয়েছেন। এই আসরে আসতেন স্থানীয় বিশিষ্ট্য সাহিত্য ও সঙ্গীত পিপাসুরা। এরই মাঝে খান বাহাদুর আব্দুল আজিজের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং কবি নবীনচন্দ্র সেনের স্মৃতিবার্ষিকীতে যোগদান করেছেন। নবীনচন্দ্র সেনের স্মরণে তিনি রচনা করেন একটি কবিতা। এটি হলো-'

১১ জানুয়ারি (শুক্রবার, ২৭ পৌষ ১৩৩৫), চট্টগ্রামের কাট্টলী ইউনিয়ন ক্লাবের উদ্যোগে নজরুলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই সভায় স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ের দুজন ছাত্রী সঙ্গীতের মাধ্যমে নজরুলকে বরণ করেন এবং তাঁকে মাল্যদান করেন। সভার সভাপতিত্ব করেন দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রাক্তন সুপারেন্টেন্ডেন্ট ও চট্টগ্রামের প্রথম মুসলিম প্রতিষ্ঠিত ছাপাখানা এসলামাবাদ প্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আজিজুর রহমান। এই সভায় নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়া তিনি ইন্দু-মুসলমানের সম্রীতি নিয়ে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা বক্তৃতা দেন। এই সভায় নজরুলের বিরুদ্ধে অমূলক কুৎসার নিন্দা করা হয়। একই সাথে কলকাতায় নজরুলের সংবর্ধনার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে প্রস্তাব গৃহীত হয়।

২৫ জানুয়ারি (শুক্রবার, ১২ মাঘ ১৩৩৫), চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদে সাহিত্যানুরাগী আলম ভাইদের (মাহবুব-উল আলম, দিদারুল আলম, ওহীদুল আলম প্রমুখ) বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করেন। ২৬ জানুয়ারি (শনিবার, ১৩ মাঘ ১৩৩৫), এই পরিবারের পক্ষ থেকে নজরুলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই দিনই নজরুল চট্টগ্রাম থেকে সন্দীপ সফরে যান।

চট্টগ্রামে থাকাকালে নজরুল চক্রবাক ও অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের বেশ কিছু কবিতা ও গান রচনা  করেছিলেন।

এই মাসে প্রকাশিত পূর্বে প্রকাশিত রচনা

২৬ জানুয়ারি (শনিবার, ১৩ মাঘ ১৩৩৫), নজরুল চট্টগ্রাম থেকে তাঁর বন্ধু মুজফ্ফর আহমদের জন্মস্থান সন্দীপ সফরে যান। এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন মুজফ্‌ফর আহমদ ভাইপো এবং চ্ট্টগ্রামের কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র  আব্দুল মুকতাদির এবং সলিমুল্লাহ চৌধুরী নামক জনৈক যুবক। চট্টগ্রাম থেকে এঁরা একটি জাহাজে সন্দীপের কাছাকাছি  পৌঁছান। পরে জাহাজ থেকে একটি ছোট নৌকায় করে সন্দীপে পৌঁছান। তাঁকে সন্দীপ ডাক বাংলোতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

২৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার, ১৬ মাঘ ১৩৩৫), সন্দীপের কার্গিল মাধ্যমিক স্কুলের মাঠে নজরুলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রী প্রসন্নকুমার মোক্তার। সন্দীপবাসীর পক্ষ থেকে নজরুলকে মানপত্র দেওয়া হয়। মানপত্রটি পাঠ করেছিলেন মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ। এই সভয় নজরুল সন্দীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় মানুষের সাহসিকতা, আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। বক্তৃতা শেষে তিনি তাঁর স্বরচিত, চল্ চল্ চল্, দুর্গম গিরি কান্তার মরু, চাষি ধর কষে লাঙল, ও ভাই জেলে ওঠ রে এবার ঠেলে প্রভৃতি গান পরিবেশন করে শোনান। এই সফরে তিনি মুজফ্‌ফর আহমদের গ্রামের বাড়ি মুসাগ্রামে যান।

৩০শে জানুয়ারি (বুধবার, ১৭ মাঘ ১৩৩৫), নজরুল কলকাতায় ফিরে আসেন।
৩১শে জানুয়ারি (বৃ্হস্পতিবার, ১৮ মাঘ ১৩৩৫), নজরুল কলকাতা থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুলের বার্ষিক মিলাদ মাহফিলে যোগদানের জন্য ঠাকুরগাঁয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

ফেব্রুয়ারি ১৯২৯ (১৯ মাঘ-১৬ ফাল্গুন ১৩৩৫)
ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে (শুক্রবার ১৯ মাঘ ১৩৩৫), নজরুল  রেলযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান। স্টেশনে পৌঁছানোর পর মিলাদ মাহফিলের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কলকাতা কর্পোরেশনের সদস্য জালাল উদ্দিন হাশেমী নজরুলের সঙ্গে আসেন। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে নজরুল প্রধান অশতিথির ভাষণ দেন। এরপর তিনি 'বিদ্রোহী' কবিতা আবৃত্তি করেন। রাতে একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। নজরুল ঐ নাটক উপভোগ করেন।

২ ফেব্রুয়ারি (শনিবার ২০ মাঘ ১৩৩৫), ঠাকুর টাউন হলে নজরুলের সম্মানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে নজরুল বক্তৃতা দেন এবং গান পরিবেশন করেন। এই অনুষ্ঠানের আথিয়েতার দায়িত্বে ছিলেন রায়সাহেব গিরিশচন্দ্র ঘোষ ও কেরামত আলী মোক্তার।

৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার ২১ মাঘ ১৩৩৫), নজরুল কলকাতায় ফিরে আসেন।
৪ ফেব্রুয়ারি (সোমবার ২২ মাঘ ১৩৩৫), কলকাতা থেকে নজরুল শামসুন নাহারকে চিঠি লেখেন।
        [শামসুন নাহার-কে লেখা পত্র]

৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার ২৬ মাঘ ১৯৩৫) ১১ ওয়েলেসলি স্ট্রিটের সওগাত কার্যালয় থেকে  থেকে নজরুল হবীবুল্লাহ বাহার-কে চিঠি লেখেন।    [হবীবুল্লাহ বাহার-কে লেখা পত্র]

২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ১৬ ফাল্গুন ১৩৩৫), নজরুল ও মুজফ্ফর আহমদ একটি কৃষক সম্মেলনে যোগ দিতে কুষ্টিয়ায় যান। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা হেমন্তকুমার সরকার সপরিবারের কুষ্টিয়াতে থাকতেন। হেমন্তকুমারের বিশেষ আমন্ত্রণে স্ত্রী প্রমীলা, শাশুড়ি গিরিবালা দেবী ও পুত্র বুলবুলও কুষ্টিয়া যান। এই অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে আব্দুল হালিম, গ্রেট ব্রিটেনের কমুনিষ্ট পার্টির সদস্য ফিলিপ স্প্র্যাট ও ত্রিপুরা থেকে ওয়াসিম উদ্দিন যোগদান করেছিলেন। সম্মেলনে কমিউনিষ্ট ইন্টারন্যাশালের পরামর্শক্রমে করষক গণসংঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্মেলনে নজরুল কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। সম্মেলন শেষে নজরুল মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে পরিবারের সকলকে পাঠিয়ে দেন। এরপর নজরুল কয়েকদিনের জন্য কুষ্টিয়ায় থেকে যান।

এই মাসে প্রকাশিত নতুন গান

এই মাসে প্রকাশিত পূর্বে রচিত গান

মার্চ ১৯২৯ (১৭ ফাল্গুন-১৭ চৈত্র ১৩৩৫)
এই মাসের প্রথম সপ্তাহে কুষ্টিয়া মিউনিসিপ্যালিটি চেয়ারম্যান তারাপদ মজুমদারের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় যতীন্দ্রমোহন হলে নজরুলকে সংবর্ধনা দেন। এরপর তিনি কয়েকদিন কার্পাসডাঙা এবং নিশ্চিন্তপুরে কাটানোর পর কবিভক্তদের আমন্ত্রণে কুমারখালিতে যান। সেখানে কবিকে যোগেন্দ্রনাথ এন ই স্কুল মাঠে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কবি সেখানে জাতের নামে বজ্জাতি সব  [তথ্য] গানটি পরিবেশন করেন। এছাড়া বিদ্রোহী কবিতাটিও আবৃত্তি করেন। সংবর্ধনা শেষে তিনি কুমারখালিতে কাঙাল হরিনাথের বাড়িতে যান এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি হেমন্ত সরকার ও নিশিকান্ত তলাপাত্রের সঙ্গে গড়াই নদীর অন্য পারে হাটাশ হরিপুর গ্রামে কংগ্রেস ও 'খেলাফত নেতা রেজোয়ান আলীর চৌধুরীর বাড়িতে যান। সেখানে তিনি নদীর চরে হরিয়াল ও ঘুঘু শিকারে যান।

১৬ই মার্চ (শনিবার, ২ চৈত্র ১৩৩৫), কুষ্টিয়া থেকে বগুড়ার আক্কেলপুরস্থ ইয়ংমেনস মুসলিম এ্যাসোসিয়েশনের প্রথম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য নজরুল আক্কালপুর রেলস্টেশনে পৌঁছান। স্টেশন থেকে নজরুলকে শোভাযাত্রা-সহ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই দিনই তাঁকে নদীতীরবরতী হাটের দক্ষিণের মাঠে বেলা ১টার সময় সভা শুরু হয়। সভায় তিনি গান পরিবেশন করেন এবং মুসলমান সমাজের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বক্তৃতা দেন। সন্ধ্যায় সেক্রেটারি আকবর আলীর বাড়িতে গজল গানের জলসায় গান পরিবেশন করেন।

'বুলবুল'-এর দ্বিতীয় সংস্করণ
১৩৩৫ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে (মার্চ ১৯২৯) এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এই সংস্করণে নূতন ৭টি গান সংযোজিত হয়েছিল। এই সংস্করণের প্রকাশক ছিলেন গোপালদাস মজুমদার, ডি,এম লাইব্রেরি, ৬১ কর্নওয়ালিশ স্ট্রিট, কলিকাতা। পৃষ্ঠা ৮+১৬+৮০। মূল্য এক টাকা চার আনা। রাজসংস্করণ দেড় টাকা। এই সংস্করণে  'নতুন গান' বিভাগে নতুন ৭টি গান সংযোজিত হয়েছিল। এর ভিতরে ৩টি গান পূর্বের রচিত।
বুলবুল দ্বিতীয় সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ৪টি নতুন গান
  1. এ নহে বিলাস বন্ধু [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৩৯ সংখ্যক গান।
  2. কেন আসিলে যদি যাবে চলি [তথ্য]‌
    কা লানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৪০ সংখ্যক গান।
  3. মুসাফির, মোছ্ ‌রে আঁখি -জল [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৪১ সংখ্যক গান।
  4. সাজিয়াছ যোগী বল কার লাগ [গান-১৮৬৪] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৪২ সংখ্যক গান।
পূর্বে রচিত ৩টি গান
  1. কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ৯৩ সংখ্যক গান। সওগাত পত্রিকার 'জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  2. কেন আন ফুলডোর আজি বিদায় বেলা [গান-৭০৮] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের সংখ্যক গান। ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের ১৯শে অগ্রহায়ণ, মুর্শিদাবাদের নিমতিতা'য় গানটি রচিত হয়েছিল।
  3. কেমনে রাখি আঁখি-বারি চাপিয়া [গান-২২০] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১৩৮ সংখ্যক গান। সওগাত পত্রিকার 'ফাল্গুন ১৩৩৫' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।

এই মাসে প্রকাশিত পূর্বের রচিত কবিতা

এপ্রিল ১৯২৯ (১৮ চৈত্র ১৩৩৫- ১৭ বৈশাখ ১৩৩৬)
এই মাসে নজরুল একরকম কলকাতাতেই কাটান। এই মাসে নজরুলের কোনো নতুন রচনার সন্ধান পাওয়া যায় না। কোনো নতুন লেখাও পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নি।

১-২৪ মে ১৯২৯ (১৮ বৈশাখ-১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৬) ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল-মে মাসে আর কোনো নতুন রচনা প্রকাশের কথা জানা যায় না। ২৯ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের শেষ কয়েকদিন কলকাতাতেই সপরিবারে ছিলেন।
  সূত্র
  • কল্লোল যুগ। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত। এম.সি সরকার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড। আশ্বিন ১৩৫৭
  • কাজী নজরুল। প্রাণতোষ ভট্টাচার্য। ন্যাশনাল বুক এজেন্সী প্রাইভেট লিমিটেড। কলকাতা-১২। ১৩৭৩ বঙ্গাব্দ
  • কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা। মুজফ্‌ফর আহমদ। ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড। ১২ বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রীট, কলিকাতা-১২। প্রথম সংস্করণ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫।
  • জীবনের জলছবি। প্রতিভা বসু। আনন্দ পাবলিশার্স। পৌষ ১৪১৫।
  • নজরুল-জীবনী। রফিকুল ইসলাম। নজরুল ইন্সটিটউট, ঢাকা। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ।
  • নজরুল তারিখ অভিধান। মাহবুবুল হক। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জুন ২০১‌০ খ্রিষ্টাব্দ।
  • নজরুল যখন বেতারে। আসাদুল হক। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। মার্চ ১৯৯৯।
  • নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। প্রথম-দ্বাদশ খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ঢাকা]
  • নজরুল সঙ্গীত নির্দেশিকা। ব্রহ্মমোহন ঠাকুর [কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। আষাঢ় ১৪২৫/জুন ২০১৮]
  • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, ফেব্রুয়ারি ২০১২)।
  • বিদ্রোহী-রণক্লান্ত, নজরুল জীবনী। গোলাম মুরশিদ। প্রথমা, ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ।