অক্ষজ
বানান বিশ্লেষণ: অ-ক্+ষ্+অ+জ্+অ
উচ্চারণ: ok.kʰoɟ [ওক্.খোজ]
শব্দ-উৎস: সংস্কৃত অক্ষজ> বাংলা অক্ষজ
রূপতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
পদ: বিশেষণ
অর্থ: অক্ষ (ইন্দ্রিয়) থেকে জাত
সমার্থক শব্দাবলি: অক্ষজ, ইন্দ্রিয়জাত
বিপরীতার্থক শব্দ: অক্ষজা [স্ত্রীলিঙ্গার্থে]

পদ: বিশেষ্য
অর্থ: সনাতন হিন্দু ধর্মানুসারে দধীচি মুনির অক্ষ অস্থি থেকে জাত এই অর্থে বজ্র।

পদ: বিশেষ্য
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা {| হিন্দু দেবতা | হিন্দু দৈবসত্তা | দৈবসত্তা | অতিপ্রাকৃতিক সত্তা | অতিপ্রাকৃতিক বিশ্বাস | বিশ্বাস | প্রজ্ঞা | জ্ঞান | অভিজ্ঞা | মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা | বিমূর্তন | বিমূর্ত সত্তা | সত্তা | }

অর্থৱ: যিনি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা উপলব্ধ নন, যাঁর প্রকৃত স্বরূপ ইন্দ্রিয়াতীত—তাঁকে অক্ষজ বলা হয়। অর্থাৎ তিনি সাধারণ জ্ঞানেন্দ্রিয়ের দ্বারা উৎপন্ন বা সীমাবদ্ধ নন। মূলত 'অক্ষজ' শব্দের সরল অর্থ 'অক্ষ (ইন্দ্রিয় বা চক্ষু) থেকে জন্মগ্রহণকারী' হলেও বিষ্ণুর ক্ষেত্রে এটি আক্ষরিক জন্ম বোঝায় না। এটি তাঁর অতীন্দ্রিয় ও অনাদি স্বভাব বোঝাতে ব্যবহৃত একটি বিশেষণ।

সমনাম: , অক্ষজ, অক্ষধর, অক্ষয়, অঘানাশক, অঘানাশন, অচ্যুত, অজ, অজগ, অজিত, অতীন্দ্রিয়, অদিতিজ, অদিতিতনয়, অদিতিনন্দন, অদিতিপুত্র, অদিতিসূত, অধৃত, অধোক্ষজ, অনন্ত, অনন্তদেব, অনন্তশয়ান, অনীশ, অব্দিশয়ন, অব্যক্ত, অব্যয়, অমৃতপ, অমৃতপা, অম্বরীষ, অযোনি, অযোনিজ, অরবিন্দনাভ, অরিষ্টমথন, অরিষ্টসূদন, অর্ক, অর্ধলক্ষ্মী, অর্ধলক্ষ্মীহরি, অসুরসূদন, অসুরারি, ঈপতি, কঞ্জনাভ, কমলাকান্ত, কমলাপতি, কুন্দর, কিরীটী, ক্রম, খগাসন, খিল, গদাধর, গদাপাণি, গরুড়ধ্বজ, গরুড়বাহন, গোলকনাথ, গোলকপতি, গোলকবিহারী, চক্রধর, চক্রধারী, চক্রপাণি, চক্রায়ধ, চক্রী, চতুর্ভুজ, চতুর্বাহু, চতুষ্কর, জগন্নাথ, জনার্দন, জয়পাল, জহ্নু, জিষ্ণু, তুষ্ট, দর্পহা, দর্পহারী, দানবারি, দামোদর, দীননাথ, দীনবন্ধু, দীনেশ, দৈত্যারি, দ্বিজবাহন, ধরণীধর, ধরণীশ্বর, ধর্মনাভ, নরকান্তক, নারায়ণ, পদ্মনাভ, পদ্মপলাশ লোচন, পদ্মপাণি, পদ্মেশয়,পদ্মেশয়, পরব্যোম, পরমেষ্ঠী, পারায়ণ, পুরুষোত্তম, পুষ্করাক্ষ, বলিন্দম, বলিসূদন, বারিশ, বিশ্বম্ভর, বৈকুণ্ঠ, ব্রহ্মদেব, ব্রহ্মনাভ, মনোজব, লোকনাথ, শশবিন্দু, শার্ঙ্গদেব, শার্ঙ্গপাণি, শিপিবিষ্ট, শ্রীকান্ত, শ্রীধর, শ্রীনিবাস, শ্রীপতি, শ্রীবৎসলাঞ্ছন, রমাকান্ত, রমানাথ, রমাপতি, রমেশ, লক্ষ্মীপতি, লক্ষ্মীকান্ত, লক্ষ্মীজনার্দন, লক্ষ্মীনারায়ণ, লক্ষ্মীশ্বর, শ্রীশ, সত্যনারায়ণ, সনাতন, সহস্রাস্য, সাত্বত, সুদর্শনধারী, হ, হরি, হৃষিকেশ।         [বিস্তারিত দেখুন: বিষ্ণু, হিন্দু পৌরাণিক দেবতা]
সূত্র:
  • বঙ্গীয় শব্দকোষ (প্রথম খণ্ড)। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাহিত্য অকাদেমী। ২০০১।
  • বাঙ্গালা ভাষার অভিধান (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস। সাহিত্য সংসদ। নভেম্বর ২০০০।
  • সংসদ বাংলা অভিধান। সাহিত্য সংসদ। শৈলেন্দ্র বিশ্বাস। মার্চ ২০০২।