২৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স

নজরুল ইসলামের ২৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স শুরু হয়েছিল ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (২৫ মে ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে। শেষ হয়েছিল ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫ (বৃহস্পতিবার ২৪ মে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ)


এই বছরের শুরু থেকেই নজরুল কৃষ্ণনগরে ছিলেন। তবে মার্চ মাসে তিনি কৃষ্ণ থেকে বসবাসের জন্য কলকাতায় চলে এসেছিলেন। নজরুলে তাঁর  ২৭ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের শেষের দিকে গজল রচনায় বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়ে উঠেছিলেন। ২৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের শুরু থেকে সে উৎসাহে ভাটা পড়ে নি। এই বছরে প্রকাশিত হয়েছিল নজরুলের একাধিক গ্রন্থ। সব মিলিয়ে নজরুলের ২৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স হয়ে উঠেছিল বৈচিত্র্যময়।

২৫-৩১ মে ১৯২৭ (১১-১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪)
 ২৮ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের শুরুর দিকে, কবি বেনজির আহমদ 'নওরোজ' নামক একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এই পত্রিকার মুদ্রাকর ও প্রকাশক ছিলেন আফজাক-উল হক। পত্রিকাটির অফিস ছিল ৪৫-বি মেছুয়া বাজার স্ট্রিট।

এই পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগে নজরুল উৎসাহিত হয়ে পত্রিকার সম্পাদক-কে একটি স্বাগত কথন পাঠিয়েছিলেন ২৭ মে (শুক্রবার ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৪)। এই কথনটি  গণবাণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
        [নওরোজ সম্পাদক-কে লেখা পত্র]

উল্লেখ্য, এই পত্রিকাটি প্রকাশের আগেই, নজরুল মাসিক ১২৫ টাকা সম্মানীতে নওরোজ পত্রিকায় যোগদান করেন। সে সময় পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সাথে নজরুলের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুসারে, চুক্তি পর্বর্তী নজরুলের সকল রচনার উপর নওরোজের দাবি থাকবে বলে স্বীকৃত হয়।

এই পত্রিকায় নজরুলের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ' নওরোজ' শিরোনামে। এটি মূলত নওরোজ পত্রিকা নিয়ে রচিত। জুন ১৯২৭ (১৮ জ্যৈষ্ঠ-১৫ আষাঢ় ১৩৩৪)
চুক্তি অনুসারে এই সময়ের নজরুলের সকল রচনা নওরোজ পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। এই সূত্রে নজরুলের কুহেলিকা উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদ প্রকাশিত হয়েছিল পত্রিকাটির আষাঢ় ১৩৩৪ সংখ্যায়। তবে এই মাসে দুটি রচনা কল্লোল পত্রিকার আষাঢ় ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই মাসে যে সকল রচনা পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো হলো-এই মাসে প্রকাশিত পূর্বে রচিত গান। সম্ভবত জুন মাসের শেষের দিকে খাদেমুল ইসলাম নামক একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে নজরুল নোয়াখালি ভ্রমণ করেন।  নজরুল রেলপথে কৃষ্ণনগর থেকে নোয়াখালির সোনাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর, সংগঠনের সদস্যরা একটি আট ঘোড়ার গাড়িতে করে, তিন মাইল পথ শোভাযাত্রা-সহ খাদেমুল ইসলামের অফিসে আনা হয়। কবির আগমন উপলক্ষে যাত্রাপথে প্রায় ডজন তোরণ তৈরি করা হয়েছিল। তোরণে লেখা ছিল- 'স্বাগতঃ  ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রদূত', স্বাগত আমাদের প্রাণের কবি' ইত্যাদি।

নজরুলের পৌঁছানোর পরের দিন একটি আড়ম্ভরপূর্ণ অনুষ্ঠানে নোয়াখালী বাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্বর্ধনা দেন খাদেমুল ইসলাম। এই অনুষ্ঠানে কবির উদ্দেশ্যের রচিত মানপত্র প্রদান করা হয়। ওই মানপত্রটি সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে পাঠ করেছিলেন- সংগঠনের সম্পাদক মজিবুর রহমান মোক্তার। এই মানপত্রে কবিকে 'বিপ্লবের মন্ত্রদাতা দীক্ষাগুরু' নামে সম্ভাষিত করা হয়েছিল। এরপর নজরুল তাঁর স্বরচিত 'ওঠ রে চাষী জগৎবাসী-সহ তিনটি গান পরিবেশন করেন। শ্রোতাদের অনুরোধে তিনি এই গানটি দ্বিতীয়বার পরিবেশন করেছিলেন।

এর পরে আর একদিন নোয়াখালী বাসীর পক্ষ থেকে নোয়াখালি টাউন হলে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।  এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন রায় বাহাদুর শুভময় দত্ত। এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলা-খ্যাত বিপ্লবী লোকনাথ বল। অনুষ্ঠানে নজরুলের উদ্দৈশ্যে মানপত্র পাঠ করেছিলেন নোয়াখালী বারের খ্যাতনামা উকিল মনোমোহন কাঞ্জিলাল। এই অনুষ্ঠানে কবিকে একটি সোনার দোয়াত-কলম উপহার দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে মনোমোহন কাঞ্জিলালের স্ত্রীর অনুরোধে তাঁদের বাসায় একটি গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের জন্য তিন ফুট উঁচু একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় হাজার চারেক দর্শক জমায়েত হয়েছিল। অনুষ্ঠান রাত ১১টা পর্যন্ত চলেছিল।

এই সময় লক্ষ্মীপুরের জেলেরা একটি অনুষ্ঠানে নজরুলকে সংবর্ধনা করে। এরপর নোয়াখালীর মুসলিম যুব সমিতির উদ্যোগে একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই নাটকের জন্য তিনি আবার নোয়াখালীতে ফিরে এসেছিলেন। এই সময় হবীবুল্লা বাহারের টেলিগ্রাম পেয়ে নজরুল নোয়াখালী থেকে আবার লক্ষ্মীপুর যান। সেখানে সন্ধ্যা বেলায় লক্ষ্মীপুর মডেল স্কুলের মাঠে নজরুলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সভায় কবিকে একটি রুপোর মালা ও বাটি উপহার দেওয়া হয়। এই সভামঞ্চে নজরুল বক্তৃতা দেন। বক্তৃতা শেষে তিনি কৃষাণের গান, 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার', 'শিকল পরার গান' ইত্যাদি পরিবেশন করেন। এরপর নজরুল কৃষ্ণনগরে ফিরে আসেন।

জুলাই ১৯২৭ (১৬ আষাঢ়- ১৫ শ্রাবণ ১৩৩৪)
কৃষ্ণনগর থেকে নজরুল কলকাতা এসে  ৪০ বি মেছুয়া বাজার স্ট্রিট নওরোজ অফিসে আসেন। জুলাই মাসের ৭ তারিখে (বৃহস্পতিবার, ২২ আষাঢ় ১৩৩৪), সে সময়ের প্রখ্যাত নাট্যকার মন্মথ রায়কে একটি চিঠি লেখেন। এই চিঠি থেকে জানা যায়- মন্মথ রায়ের রচিত নাটক পাঠ করে অত্যন্ত মুগ্ধ হন। বিশেষ করে মন্মথ রায়ের রচিত 'সেমিরিমিস', 'ইলা', 'স্মৃতিছায়া' ইত্যাদি পাঠ করে তাঁর এই মুগ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।  এই চিঠিতে তিনি মন্মথ রায়কে নওরোজে লেখা পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।
                    [মন্মথ রায়-কে লেখা পত্র]

তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই সূত্রে জুলাই মাসে নজরুলের একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন পত্রিকায় বা গ্রন্থাকারে। এগুলো ছিল- শেষের পাঁচটি কবিতার রচনাকাল বা প্রকাশকাল সম্পর্কে জানা যায় না। মূলত এই কবিতাগুলো সিন্ধু-হিন্দোল কাব্যগ্রন্থে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। নওরোজ পত্রিকার সাথে চুক্তি অনুসারে প্রকাশিত ধারাবাহিক উপন্যাস কুহেলিকা আগষ্ট ১৯২৭ (১৬ শ্রাবণ- ১৪ ভাদ্র ১৩৩৪)
এই মাসের শুরু থেকেই নজরুলের সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থাদি বাজেয়াপ্ত করার পাঁয়তারা শুরু হয়। এই মাসের ৫ তারিখে (শুক্রবার ২০ শ্রাবণ ১৩৩৪), পাবলিক প্রসিকিউটর তারকানাথ সাধু,  রুদ্র-মঙ্গল বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব রাখেন। তবে তৎক্ষণাৎ সরকার কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

৯ আগষ্ট (মঙ্গলবার, ২৪ শ্রাবণ ১৩৩৪) নলিনীকান্ত সরকারকে বাঁধনহারা পত্রোপন্যাস উৎসর্গ করেন।

১২ আগষ্ট (শুক্রবার, ২৭ শ্রাবণ ১৩৩৪) পাবলিক প্রসিকিউটর ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার ফণী মনসা কাব্যগ্রন্থ্ বাজেয়াপ্ত করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেন।  কিন্তু আইনি পরমার্শক শাখার অনুমোদন না পাওয়ায় গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত হয় নি।১৭ আগষ্ট (বুধবার, ৩২  শ্রাবণ ১৩৩৪),  কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ফেয়ারওয়েদার, পাবলিক প্রসিকিউটর তারকানাথ সাধুর সুপারিশ অনুসারে নজরুলের রুদ্রমঙ্গল কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করার জন্য চিফ সেক্রেটারিকে পরামর্শ দেন। সে সময়ের স্বরাষ্ট্র বিভাগের নির্দেশে স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার এমএইচ এইচ মিলস তদন্ত প্রতিবেদনে জানান যে, নজরুল উক্ত গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ ছাপিয়েছেন ১০০ কপি। এই গ্রন্থ প্রকাশের পর সরকারে মনোভাব বুঝবার জন্য নজরুল এত অল্প সংখ্যক গ্রন্থ ছাপিয়েছেন। তবে তিনি আরও ২০০ কপি ছাপাবেন।

এই দিন নজরুল একটি কবিতা রচনা করেন। এটি হলো- এই মাসে প্রকাশিত নতুন গান নওরোজ পত্রিকার সাথে চুক্তি অনুসারে প্রকাশিত ধারাবাহিক উপন্যাস কুহেলিকা সেপ্টেম্বর ১৯২৭ (১৫ ভাদ্র -১৩ আশ্বিন ১৩৩৪)
২ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার ১৬ ভাদ্র ১৩৩৪) নজরুল একটি কবিতা রচনা করেন। কবিতাটি হলো- ৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার ২১ ভাদ্র ১৩৩৪), বর্ধমানে 'অলবেঙ্গল ইয়ংমেন্দ মুসলিম কনফারেন্স' অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে নজরুল আমন্ত্রিত হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেন নি।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬) ৫২তম জন্মদিন পালিত হয়েছিল কৃষ্ণনগরে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে নজরুল রচনা করেছিলেন একটি কবিতা। এ ছাড়া তনি তাঁর সদ্য রচিত একটি গান পরিবেশন করেন।  গত মাসের ১৭ তারিখে (বুধবার, ৩২  শ্রাবণ ১৩৩৪),  কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ফেয়ারওয়েদার, পাবলিক প্রসিকিউটর তারকানাথ সাধুর সুপারিশ অনুসারে নজরুলের রুদ্রমঙ্গল কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করার জন্য চিফ সেক্রেটারিকে পরামর্শ দেন। কিন্তু মাত্র গ্রন্থটি ১০০ কপি ছাপা হওয়ায় গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত করা হয় নি। ২৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার, ৭ আশ্বিন ১৩৩৪) সরকার পক্ষ থেকে এই গ্রন্থ আর প্রকাশ না করার জন্য, নিষেধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞায় নজরুলকে জানানো হয় যে, পুনরায় গ্রন্থটি প্রকাশিত হলে, তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। নজরুল এই গ্রন্থটি প্রকাশের চেষ্টা থেকে বিরত থাকেন। ফলে গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত হয় নি।

এ মাসে প্রকাশিত অন্যান্য নতুন রচনা
এই মাসে রচিত পূর্বে রচিত বা প্রকাশিত গান অক্টোবর ১৯২৭ (১৪ আশ্বিন-১৪ কার্তিক ১৩৩৪)
নওরোজ পত্রিকার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশের পর পুলিশের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নজরুলের সাথে নওরোজ পত্রিকার সকল চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। এই সুযোগে সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন নজরুলকে তাঁর পত্রিকায় যোগদানের আহ্বান করেন। নজরুল সম্মত হলে সওগাত পত্রিকার কার্তিক ১৩৩৪ সংখ্যা থেকে চুক্তি কার্যকর হয়। এই চুক্তির মূল বিষয় ছিল- এই চুক্তির মাধ্যমে নজরুল যেন দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে যান। মূলত আর্থিক সঙ্কট মোচনের কারণেই নজরুল এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই চুক্তির বাইরে মোহাম্মদী পত্রিকার কার্তিক ১৩৩৪ সংখ্যায় নজরুলের একটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। সম্ভবত এই চুক্তির আগেই কবিতাটি মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশের জন্য দিয়েছিলেন। এই কবিতাটি হলো- নভেম্বর ১৯২৭  (১৫ কার্তিক-১৪ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪)
১২ নভেম্বর (শনিবার ২৬ কার্তিক ১৩৩৪) কৃষ্ণনগর থেকে টাঙ্গাইলের করোটিয়া কলেজ মুসলিম হোস্টেলের ঠিকানায়, কুড়িগ্রামের মাহফুজ রহমানের কাছে একটি চিঠি লেখেন। এই সময়  মাহফুজ রহমানের করোটিয়া কলেজের  মুসলিম হোস্টেল থাকতেন।

এই চিঠি থেকে জানা যায় নওরোজ পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়। নজরুল খুব হৃষ্টচিত্তে নওরোজ লিখতেন না। এই চিঠি থেকে জানা যায় যে, সওগাত পত্রিকায় তিনি অগ্রহায়ণ সংখ্যা থেকে লেখা শুরু করবেন।  [মাহফুজুর রহমান-কে লেখা পত্র]

এই মাসে প্রকাশিত রচনা ডিসেম্বর ১৯২৭ (১৫ অগ্রহায়ণ- ১‌৫ পৌষ ১৩৩৪)
১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত 'বঙ্গীয় কৃষক শ্রমিক দল'-এর সম্মেলনে, নজরুল কৃষ্ণনগর থেকে  সপরিবারে কুষ্টিয়া আসেন। এখানে তিনি কয়েকদিন হেমন্তকুমার সরকারের ভাড়া বাড়ি 'ডিউ কটেজ'-এ কয়েকদিন কাটান।

১৫ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার ২৯ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪), দিলীপকুমার রায় ইউরোপ ভ্রমণ শেষ কলকাতায় ফিরে আসেন। এই সময় কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে তিনি 'সুরের দুলাল‌' কবিতাটি আবৃত্তি করেন। এই অনুষ্ঠানে উমাপদ ভট্টাচার্য নজরুলের রচিত একটি গান পরিবেশন করেন। গানটি হলো-
  • পূরবের তরুণ অরুণ পূরবে [গান-১৫৪৫] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১২ সংখ্যক গান। গানটি নাচঘর  পত্রিকার ‌৭ই পৌষ ১৩৩৪‌ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গানটির পাদটীকায় উল্লেখ আছে- ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে দিলীপকুমার রায়ের সম্বর্ধনা উপলক্ষে রচিত ও উমাপদ ভট্টাচার্য কর্তৃক গীত।

    সওগাত পত্রিকার 'পৌষ ১৩৩৪' (ডিসেম্বর ১৯২৭) সংখ্যায়, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খানকে লেখা নজরুলের একটি পত্র প্রকাশিত হয়েছিল। উল্লেখ্য, নওরোজ পত্রিকার 'ভাদ্র ১৩৩৪' সংখ্যায় নজরুলের উদ্দেশ্যে প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খানের একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল। এরই প্রত্যুত্তরে নজরুল এই চিঠিটি লিখেছিলেন।
            [দ্রষ্টব্য: প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খানকে লেখা নজরুলের পত্র [পত্র]
     
  • গান: কে বিদেশী বন-উদাসী [গান-৪০] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৩ সংখ্যক গান। রচনার স্থান ও রচনাকাল উল্লেখ নেই। গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল সওগাত পত্রিকার 'পৌষ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায়। ভারতবর্ষ পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫ সংখ্যায় স্বরলিপিসহ প্রকাশিত হয়েছিল। স্বরলিপকার ছিলেন সাহানা দেবী। পৃষ্ঠা: ৮৩১-৮৩২।
১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে কিছু কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল, এ সকল কবিতা প্রকাশের যথার্থ সময় নির্ধরাণ করা সম্ভব হয় নি। জানুয়ারি ১৯২৮ (১‌৬ পৌষ-১৭ মাঘ ১৩৩৪)
১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে নজরুল কৃষ্ণনগরেই অতিবাহিত করেন। বছরের শুরুতেই ইসলামী দর্শন পত্রিকার মাঘ ১৩৩৪ সংখ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয় 'নজরুলের কেরদানী।

এই মাসে প্রকাশিত নজরুলের নতুন রচনা
  • গান:
    • বসিয়া নদীকূলে, এলোচুলে কে উদাসিনী [গান-৮৪] [তথ্য]
      কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৪ সংখ্যক গান।
      প্রগতি পত্রিকার 'মাঘ ১৩৩৪' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। পরে বুলবুল-এর প্রথম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
  • কবিতা:
    • আমানুল্লাহ [সওগাত পত্রিকার মাঘ ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল]       
    • ওমর ফারুকজিঞ্জীর কাব্যে অন্তর্ভুক্ত কবিতাটির সাথে রচনার স্থান ও কাল উল্লেখ আছে- 'কলিকাতা ১৬ই পৌষ ১৩৩৪'। সওগাত পত্রিকার ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের দ্বিতীয় বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
    • শিশু সওগাত। 'শিশু সওগাত পত্রিকার প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা। মাঘ ১৩৪৪।
    • সুরের দুলাল। [কল্লোল মাঘ ১৩৩৪। পাদটীকায় লেখা ছিল- 'দিলীপকুমার রায়ের ইউরোপ হইতে স্বদেশ প্রত্যাগমন-উপলক্ষে রচিত। সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই মাসে প্রকাশিত পূর্বে রচিত কবিতা
  • আয় বেহেশ‍‍তে কে যাবি আয়। রচনার স্থান ও কাল: কলিকাতা ১ পৌষ, ১৩৩৩, ১৬ ডিসেম্বর। সওগাত পত্রিকার 'মাঘ ১৩৩৪' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
  • খোশ্ আমদেদ। রচনার স্থান ও কাল: পদ্মা ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯২৭ (১৫ ফাল্গুন ১৩৩৩)। প্রগতি পত্রিকার 'মাঘ ১৩৩৪' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারি ১৯২৮  (১৮ মাঘ- ১৭ ফাল্গুন ১৩৩৪)
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে (ফাল্গুন ১৩৩৪) ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে নজরুল ঢাকায় আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলের তৎকালীন হাউস টিউটর অধ্যাপক সৈয়দ আবুল হোসেনের বাসায় ওঠেন। এই বাসাতে নজরুল একটি গান রচনা করেন। গানটি হলো-
  • চল্‌ চল্‌ চল্‌ চল্‌ চল্‌ চল্‌ (ঊর্ধ্বগগনে) [গান-৯৬৬] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৫ সংখ্যক গান। গানটি সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থের  প্রথম সংস্করণে গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গানটি পরে- 'জাগো সুন্দর চির কিশোর' নাটিকায় [বেতার নাটিকা ২৪ মে ১৯৪০ (শুক্রবার,১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭)] ব্যবহৃত হয়েছিল।
সম্মেলন শেষে নজরুল কাজী মোতাহার হোসেনের বর্ধমান হাউসের বাসায়। ঢাকায় তিনি প্রায় তিন সপ্তাহ ছিলেন। এই সময় এই বাসায় আড্ডার সূত্রে ঢাকার বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, রাজনৈতিক ব্যক্তবর্গের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। এঁদের মধ্যে ছিলেন- বুদ্ধদেব বসু, অজিত বসু, আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী আব্দুল ওদুদ, ফজিলুতুন নেসা প্রমুখ।

২১শে ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার, ৯ ফাল্গুন ১৩৩৪) 'শান্তি সাহিত্য সম্মেলনী' নজরুলকে সম্বর্ধনা দেয়। এই অনুষ্ঠানে তিনি কয়েকটি গান পরিবেশন করেন এবং অভিনন্দনের জবাবে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন।

২৪শে ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার, ১২ ফাল্গুন ১৩৩৪) নজরুল ঢাকা ত্যাগ করেন। ঢাকা থেকে ফেরার পথে স্টিমারে তিনি কাজী মোতাহার হোসেনকে একটি দীর্ঘ চিঠি লেখেন।
            [মোতাহার হোসেন-কে লেখা পত্র]
       
২৫ শে ফেব্রুয়ারি (শনিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৩৩৪) ঢাকা থেকে তিনি কৃষ্ণনগরে ফিরে আসেন। বিষয়টি জানা যায় এই দিনে  কাজী মোতাহার হোসেনকে লেখা চিঠি থেকে।
            [ মোতাহার হোসেন-কে লেখা পত্র]

মার্চ ১৯২৮ (১৭ ফাল্গুন- ১৮ চৈত্র ১৩৩৪)
১ মার্চ ১৯২৮ (বৃহস্পতিবার, ‌১৮ ফাল্গুন ১৩৩৪) থেকে নজরুল কণ্ঠের ক্ষতজনীত রোগে কাহিল হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই অবস্থায় এই দিন তিনি কৃষ্ণনগর থেকে মোতাহার হোসেন-কে একটি চিঠি লেখেন।
                [মোতাহার হোসেন-কে লেখা পত্র]

২ মার্চ ১৯২৮ (শুক্রবার, ‌৯ ফাল্গুন ১৩৩৪) নজরুলের কণ্ঠের ক্ষত রোগ তীব্রতর হয়ে ওঠোয় শেষ পর্যন্ত নজরুলের কলকাতায় যাওয়া স্থগিত হয়ে যায়। ৬ মার্চ ১৯২৮ (মঙ্গলবার, ২৩ ফাল্গুন ১৩৩৪), নজরুল সপরিবারে কলকাতায় চলে আসেন। এই সময় তিনি বন্ধু নলিনীকান্ত সরকারের ১৫ জোলিয়াটোলা স্ট্রিটের বাড়িতে এসে ওঠেন এবং কণ্ঠের ক্ষতের চিকিৎসা শুরু করেন।

৮ মার্চ ১৯২৮ (বৃহস্পতিবার ২৫ ফাল্গুন ১৩৩৪) নজরুল ১৫ জোলিয়াটোলা স্ট্রিট থেকে মোতাহার হোসেন-কে একটি চিঠি লেখেন।
                [মোতাহার হোসেন-কে লেখা পত্র]
১০ই মার্চ ১৯২৮ (শনিবার ২৭ ফাল্গুন ১৩৩৪) নজরুল ১৫ জোলিয়াটোলা স্ট্রিট থেকে মোতাহার হোসেন-কে একটি চিঠি লেখেন। তবে চিঠিটা তিনি ডাকবাক্সে ফেলছিলেন ১৮ তারিখে।  [মোতাহার হোসেন-কে লেখা পত্র]

তবে এই চিঠির উত্তর মোতাহার হোসেন দেন নি। এই তথ্যটি পাওয়া যায় ফজিলুতুন্নেসা-কে লিখিত পত্র থেকে। মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে তিনি শেষ চিঠি পেয়েছিলেন ১০ই মার্চ। ফজিলুতুন্নেসা‌র কাছে পত্র থেকে জানা যায়, ১৪ দিন আগে মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে তিনি শেষ চিঠি পেয়েছিলেন। এই বিচারে বলা যায়, নজরুল ২৪শে মার্চ (শনিবার, ১১ চৈত্র ১৩৩৪) ফজিলুতুন্নেসা‌-কে  তিনি চিঠি লিখেছিলেন। ঠিকানা ছিল ১১ ওয়েসলি স্ট্রিট থেকে।  উল্লেখ্য, নজরুল সপরিবারে ১১ ওয়েলসলি স্ট্রিটের সওগাত পত্রিকার অফিসে এসে উঠেছিলেন। এই অফিস থেকেই নজরুল ফজিলুতুন্নেসা‌-কে  তিনি চিঠি লিখেছিলেন। এই চিঠিতে তাঁর '‌সঞ্চিতা‌‌‌‌‌‌‌' কাব্য-সংকলন ফজিলুতুন্নেসা‌-কে  উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন।
            [২৪ তারিখে লিখিত ফজিলুতুন্নেসা‌র-কে লিখিত পত্র]

এরপর নজরুল সওগাত অফিস থেকে ৩১শে মার্চ (শনিবার, ১৮ চৈত্র ১৩৩৪) একটি চিঠি লেখেন। এই চিঠির উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল নজরুলের বেতারে অনুষ্ঠানের কথা। নজরুল ঠিক কবে থেকে বেতারে সাথে যুক্ত হয়েছিলেন, তার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ পাওয়া যায় না।  ৩১শে মার্চে লিখিত এই চিঠি থেকে জানা যায়, নজরুল কয়েক দিনের জন্য কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন এবং বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) কলকতায় ফিরে যাবেন। কারণ তাঁকে কলকাতা বেতারে তাঁকে গান পরিবেশন করতে হবে।
             [মোতাহার হোসেন-কে লেখা পত্র]

এই চিঠির সূত্রে অনুমান করা যায়, নজরুলের সাথে বেতারে অনুষ্ঠান করার জন্য যোগযোগ ঘটেছিল ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে। এবং যা চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছিল মার্চ মাসে। চুক্তির বিষয় নজরুল এই চিঠিতে লিখেছিলেন-

'...আমি আবার বিষ্যুতবার কলকাতা ফিরে আসব। সেদিন সন্ধ্যায় Broadcasting-এ আমার গান গাইতে হবে। তোমাদের ঢাকায় wireless সেট নেই কারুর? তাহলে শুনতে পেতে হয়তো। কী গ্র্যান্ড হত বলো তো তাহলে! আমি এখান থেকে গান করতেম – আর তোমরা ঢাকা থেকে শুনতে। এখন থেকে হপ্তায় অন্তত দু-তিন দিন করে গাইতে হবে আমায় Broad casting-এ। আমি বিষ্যুতবারে দুটো গান আর আমার নতুন কবিতা ‘রহস্যময়ী’ আবৃত্তি করব। ‘রহস্যময়ী’ চৈত্রের ‘সওগাতে’ বেরুবে। ওর ‘তুমি মোরে ভুলিয়াছ’ নামটা বদলে ‘রহস্যময়ী’ করেছি। দেখো এক কাজ করা যায়।...‌‌'
নজরুলকে বেতারে সপ্তাহে দুই-তিন দিন গান পরিবেশন করতে হবে- এমনটাই বেতারের সাথে চুক্তি হয়েছিলো। এই চুক্তি অনুসারে নজরুল পরিবেশনের জন্য কোন দুটি গান নির্বাচন করেছিলেন, তা জানা যায় না। তবে একটি কবিতার নাম পাওয়া যায়, তা হলো-
  • তুমি মোরে ভুলিয়াছচক্রবাক কাব্যগ্রন্থে কবিতার সাথে রচনার স্থান ও তারিখ উল্লেখ আছে- কলিকাতা '২০-৩-২৮‌' (মঙ্গলবার, ৭ চৈত্র ১৩৩৪)। কবিতাটি বেতারে পরিবেশনের জন্য নামকরণ করেছিলেন ‌‌রহস্যময়ী‌। সওগাত পত্রিকার 'বৈশাখ ১৩৩৫‌' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। নজরুল গবেষকদের মতে- কবিতাটি তাঁর প্রথম স্ত্রী নার্গিসের উদ্দেশ্যে রচনা করেছিলেন।
এই ধারায় নার্গিসের উদ্দেশে তিনি আরও একটি কবিতা রচনা করেছিলেন এই মাসে। কবিতাটি হলো-
  • হিংসাতুর। রচনার স্থান ও তারিখ: ২৯ মার্চ ১৯২৮ (বৃহস্পতিবার, ১৬ চৈত্র ১৩৩৪)।  চক্রবাক কাব্যগ্রন্থে কবিতাটি স্থান পেয়েছে। সওগাত পত্রিকার ‌জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫‌' সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
এছাড়া মার্চ মাসে নজরুল হিজ মাস্টার ভয়েস কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এই চুক্তির বিশেষ দিকটি ছিল- নজরুল অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য গান রচনা করতে পারতেন না। এর ফলে বেতারে নজরুলের গান প্রচারের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।

এই মাসে প্রকাশিত নতুন গান
  • সখি ব'লো বধুঁয়ারে নিরজনে (ব'লো বঁধুয়া রে)  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৬ সংখ্যক গান। সওগাত পত্রিকার ‌চৈত্র ১৩৩৪‌ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  • নিশি ভোর হল জাগিয়া [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৭ সংখ্যক গান। প্রগতি পত্রিকার চৈত্র ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  • পরদেশী বঁধুয়া, এলে কি এতদিনে [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৮ সংখ্যক গান। কালিকলম পত্রিকার চৈত্র ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  • আজি দোল-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৯ সংখ্যক গান। কালিকলম পত্রিকার 'চৈত্র ১৩৩৪' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
এই মাসে প্রকাশিত পূর্বে রচিত বা প্রকাশিত গান
  • কে বিদেশী বন-উদাসী [গান-৪০] [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১৩ সংখ্যক গান। রচনার স্থান ও রচনাকাল উল্লেখ নেই । গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল সওগাত পত্রিকার 'পৌষ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায়। স্বরলিপি-সহ প্রকাশিত হয়েছিল সওগাত পত্রিকার 'চৈত্র ১৩৩৪ ' সংখ্যায়।
৩১শে মার্চে মোতাহার হোসেনকে লেখা নজরুলের চিঠি থেকে জানা যায়, কৃষ্ণনগরে যাওয়ার জন্য উতলা হয়ে উঠেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন- 'এখ্‌খনি হুগলি যাব, একজন সাহিত্যিক বন্ধুর বাড়িতে সন্ধ্যায় গান। সেখানে দু-দিন থেকে বোধ হয় কৃষ্ণনগরেই যাব। কলকাতায় কুড়ি-একুশ দিন কাটল, আর ভালো লাগে না এক জায়গা।...‌'

এই পত্রে একটি ছোটো কবিতার উল্লেখ পাওয়া যায়-  ‌'জাগরণ‌‌' পত্রিকার জন্য। চিঠির বাক্য অনুসারে জানা যায়- এই পত্রিকার জন্য মোতাহার হোসেন নজরুলের কাছে এই পত্রিকার জন্য একটি লেখা চেয়েছিলেন। নজরুল তখনও এই পত্রিকার নাম জানতেন না। মোতাহার হোসেনের অনুরোধে কবিতাটি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে নজরুল এ বিষয়ে লিখেছিলেন-
'‌জাগরণ‌-এর জন্য লেখা চাওয়ার অর্থ বুঝলাম না। '‌‌‌জাগরণ' বলে কাগজ বেরুচ্ছে নাকি, না বেরুবে? কার কাগজ? চিঠি লিখবার আগের একটা ছোট্ট কবিতা লিখছিলাম- সেইটেই দিচ্ছি এই সাথে।‌'
পত্রোলল্লেখিত ওই কবিতাটি ছিল-
  • স্রোতের ফুল।  ‌'জাগরণ‌‌'। প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা'। কবিতাটি নজরুলের জীবদ্দশায় কোনো কাব্যগ্রন্থে স্থান পায় নি। উল্লেখ্য, পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন আহমদ আলী সম্পাদিত।

তবে নজরুল এই পত্রিকার জন্য জাগরণ নামে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। কবিতাটি পরে সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

এই চিঠির সূত্রে জানা যায়- ৩১শে মার্চে (শনিবার, ১৮ চৈত্র ১৩৩৪) নজরুল কলকাতা থেকে হুগলি যান।

এপ্রিল ১৯২৮ (১৯ চৈত্র ১৩৩৪- ১৭ বৈশাখ ১৩৩৫)
৩১শে মার্চে মোতাহার হোসেনকে লেখা নজরুলের চিঠি অনুসরণ করলে, জানা যায় থেকে জানা যায়, অন্তত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত নজরুল হুগলিতে একজন বন্ধুর বাসায় ছিলেন। হুগলিতে তিনি কেন গিয়াছিলেন তা জানা যায়। প্রায় কুড়ি একুশ দিন একনাগাড়ে কলকাতায় থেকে হাঁফিয়ে উঠেছিলেন। এই একঘেঁয়েমি অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের আশায় হুগলি গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে তিনি সপরিবারের কৃষ্ণনগরে ফিরে এসেছিলেন সম্ভবত ৭ এপ্রিলে। আর ৮ এপ্রিল (রবিবার ২৬ চৈত্র ১৩৩৪) নজরুল কৃষ্ণনগরে একটি কবিতা রচনা করেন। কবিতাটি হলো-
  • এ মোর অহংকার। জিঞ্জীর কাব্যে অন্তর্ভুক্ত এই কবিতটির রচনার স্থান ও তারিখ উল্লেখ আছে- কৃষ্ণনগর চৈত্র ২৬ চৈত্র ১৩৩৪।
৮ এপ্রিল (রবিবার ২৬ চৈত্র ১৩৩৪) মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছিলেন। ১২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার ৩০ চৈত্র ১৩৩৪) কলকাতা থেকে নজরুল এই চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন। এই চিঠির প্রথমেই রয়েছে- ‌'‌তোমার চিঠি রবিবার সকালে পেয়েছি কৃষ্ণনগরে – কলকাতা এসেছি তিন-চারদিন হল।‌' অর্থাৎ নজরুল কলকাতায় এসেছিলেন ৮ বা ৯ এপ্রিল।

১২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার ৩০ চৈত্র ১৩৩৪) তিনি বেতারের কবিতা ও গান পরিবেশনের জন্য উপস্থিত হন। ওই অনুষ্ঠানে দুটি গান ও একটি কবিতা ‌'‌রহস্যময়ী‌' আবৃত্তি করার কথা ছিল। কিন্তু গান দুটি পরিবেশিত হলেও আবৃত্তি করেন নি। ৩-৪ দিন পরে  মোতাহার হোসেনকে লেখা একটি চিঠি থেকে এই সংবাদ পাওয়া যায়। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন- 'রেডিয়োতে সেদিন আবৃত্তি করিনি; কেন যেন ভালো লাগল না। তুমি ঠিক ধরেছ, তেওড়া তালে ‘দাঁড়াও আমার আঁখির আগে গানটা গীত হবার আগেই আমার গান হয়েছিল। আবৃত্তি আমিই ইচ্ছা করে করিনি। রেডিয়োতে গান দেবার আর সময় হবে না এক সপ্তাহের মধ্যে। '
        [১২ এপ্রিল ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ মোতাহার হোসেন-কে লেখা পত্র]

এই চিঠি থেকে জানা যায়, দিলীপকুমার রায় নজরুলকে সাথে নিয়ে কৃষ্ণনগরে যাওয়ার আয়োজন করেছে। সম্ভবত এঁরা ১৪ই এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন করার জন্য কৃষ্ণনগরে যেতে চেয়েছিলেন। চিঠিতে লিখেছিলন- '‌দিলীপ আবার আমায় কৃষ্ণনগর ধরে নিয়ে যাচ্ছে পরশু। কৃষ্ণনগরই ওর আসল বাড়ি। সেখানে তিন-চারদিন হবে হয়তো। তারপর কলকাতা ফিরে আসব।...‌'

এই বছরের ১৪ এপ্রিল ছিল ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন (শনিবার, ১ বৈশাখ ১৩৩৫)। এই দিন আহমদ আলী সম্পাদিত ‌'জাগরণ‌‌' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল একটি কবিতা। এটি হলো-
  • স্রোতের ফুল। রচনা ৩১শে চৈত্র। আহমদ আলী সম্পাদিত ‌'জাগরণ‌‌' পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা'য় প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতাটি নজরুলের জীবদ্দশায় কোনো কাব্যগ্রন্থে স্থান পায় নি।
১৫ এপ্রিল (রবিবার ২ বৈশাখ ১৩৩৫) নজরুল তাঁর নিজের রচিত ১৬টি গ্রন্থ ফজিলুতন্নেসাকে ডাক যোগে পাঠান। এই সংবাদ পাওয়া যায় ১৮ এপ্রিল  (বৃহস্পতিবার ৫ বৈশাখ ১৩৩৫) মোতাহার হোসেনকে লেখা নজরুলের একটি চিঠি থেকে।
         [১৮ এপ্রিল ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ মোতাহার হোসেন-কে লেখা পত্র]

১৪ই এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপন করার জন্য কৃষ্ণনগরে গিয়েছিলেন  দিলীপকুমার রায় এবং নলিনীকান্ত সরকার। নজরুল কলকতায় থেকে গিয়েছিলেন গ্রামোফোন কোম্পানির কাজে। চিঠিতে তিনি ২০ এপ্রিল (শুক্রবার ৭ বৈশাখ ১৩৩৫), বিকেল ৪টা থেকে ৫টার ভিতরে গ্রামোফোন কোম্পানির কাছে ৪টি গান ও নারী কবিতার আবৃত্তি জমা দেওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। এই কবিতাটি নজরুল নিজেই আবৃত্তি করেছিলেন। নজরুলের প্রশিক্ষণে ২টি গানের রেকর্ড করেছিলেন আঙ্গুরবালা। উল্লেখ্য, ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের দিকে নজরুলের সাথে এইচএমভির একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে তিনি এ‌ইচএমভির সঙ্গীত রচয়িতা এবং প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। চুক্তির অন্যতম বিষয় ছিল, ওই সময় নজরুলের গানে অন্য কেউ সুর করতে পারবেন না। এই চুক্তি অনুসারে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে নজরুলের ৪টি গান এবং তাঁর স্বকণ্ঠে 'নারী' কবিতার আবৃত্তি প্রকাশিত হয়েছিল। এই চারটি গানের রেকরডের সময় সম্পর্কের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তাঁর নজরুল জীবনী গ্রন্থে লিখেছেন-
‌'...নজরুলের প্রশিক্ষণে প্রথম প্রকাশিত নজরুল-সঙ্গীত-এর রেকর্ডে আঙুরবালার গাওয়া দুটি গান ছিল, ‌'ভুলি কেমনে‌' ও 'এত জল ও কাজল‌', আরো ছিল নজরুলের স্বরচিত স্বকণ্ঠে আবৃত্তি 'নারী' কবিতা এবং কে. মল্লিকের গাওয়া 'বাগিচায় বুলবুলি তুই' এবং 'আমারে চোখ ইশরায় ডাক দিল হায়।' ঐ সব গান ও আবৃত্তির রেকর্ড হয়েছিল ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসের দিকে আর প্রকাশিত হয়েছিল শেষ দিকে।
প্রকাশের বিচারে এই গানগুলোর কালানুক্রম হলো-
  1. ভুলি কেমনে আজো যে মনে [গান-৮৯৪][তথ্য]
    ১. এইচএমভি [জুলাই ১৯২৮ (আষাঢ় ১৩৩৫)। পি ৯৯৭৪। শিল্পী: আঙুরবালা। সুর: নজরুল ইসলাম]
    ২. টুইন [মে ১৯৩৬ (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৪৪৩)। এফটি ৪৩৬৭। শিল্পী: আঙুরবালা। সুর নজরুল ইসলাম]
  2. এত জল ও-কাজল চোখ [গান-৯৭] [তথ্য]
    ১. এইচএমভি [জুলাই ১৯২৮ (আষাঢ় ১৩৩৫)। পি ৯৯৭৪। শিল্পী: আঙুরবালা। সুর: নজরুল ইসলাম]
    ২. টুইন [মে ১৯৩৬ (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৪৪৩)। এফটি ৪৩৬৭। শিল্পী: আঙুরবালা। সুর নজরুল ইসলাম]
অপর দুটি গান ধারণ করা হয়েছিল কে মল্লিকের কণ্ঠে। গান দুটি ছিল-
  • বাগিচায় বুলবুলি তুই [গান ১৮২] [তথ্য]
  • আমারে চোখ ইশারায় [গান-৯৮] [তথ্য]
    এইচএমভি [সেপ্টেম্বর ১৯২৮ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৩৪)। পি ১১৫১৮। শিল্পী: কে. মল্লিক। সুর নজরুল]
২১ এপ্রিল (শনিবার ৮ বৈশাখ রাত্রি সাড়ে আটটা বা ৯টায় আটটায় বেতারে গান ও আবৃত্তি পরিবেশনের কথাও জানা যায় এই চিঠি থেকে। তবে তার পরিবেশিত গান বা কবিতার নাম পাওয়া যায় না।

এই মাসে প্রকাশিত অন্যান্য নতুন গান কবিতা ও গান
  • কবিতা:
  • গান
    • এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো ছলিতে  [তথ্য]
      কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২০ সংখ্যক গান। প্রগতি পত্রিকার 'বৈশাখ ১৩৩৫' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
    • পেয়ে কেন নাহি পাই হৃদয়ে [তথ্য]
      কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২১ সংখ্যক গান। জাগরণ পত্রিকার ‌'বৈশাখ ১৩৩৫‌' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।]
এই মাসে প্রকাশিত পূর্বে প্রকাশিত কবিতা
  • তুমি মোরে ভুলিয়াছচক্রবাক কাব্যগ্রন্থে কবিতার সাথে রচনার স্থান ও তারিখ উল্লেখ আছে- কলিকাতা '২০-৩-২৮‌' (মঙ্গলবার, ৭ চৈত্র ১৩৩৪)। কবিতাটি বেতারে পরিবেশনের জন্য নামকরণ করেছিলেন ‌‌রহস্যময়ী‌। সওগাত পত্রিকার 'বৈশাখ ১৩৩৫‌' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। নজরুল গবেষকদের মতে- কবিতাটি তাঁর প্রথম স্ত্রী নার্গিসের উদ্দেশ্যে রচনা করেছিলেন।
১ মে-২৪ মে ১৯২৮ (১৮ বৈশাখ-১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫)
  • নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখি-জল  [তথ্য]
    কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১২২ সংখ্যক গান। কালিকলম পত্রিকার 'জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫' সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।  রচনার স্থান ও রচনাকাল উল্লেখ নেই ।
পূর্বে রচিত এই মাসে প্রকাশিত কবিতা
  • কবিতা
    • হিংসাতুরচক্রবাক কাব্যগ্রন্থে কবিতাটি স্থান পেয়েছে। সওগাত পত্রিকার ‌জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫‌' সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
  • গান:
    • কে বিদেশী বন-উদাসী [গান-৪০] [তথ্য]
      কালানুক্রমিকের বিচারে এটি নজরুলের সঙ্গীতজীবনের দ্বিতীয় পর্বের ১১২ সংখ্যক গান। রচনার স্থান ও রচনাকাল উল্লেখ নেই। গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল সওগাত পত্রিকার 'পৌষ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ' সংখ্যায়। ভারতবর্ষ পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫ সংখ্যায় স্বরলিপিসহ প্রকাশিত হয়েছিল। স্বরলিপকার ছিলেন সাহানা দেবী। পৃষ্ঠা: ৮৩১-৮৩২।
নজরুলের ২৪ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স শেষ হয়েছিল গজল গান দিয়ে। কলকাতা থেকে কৃষ্ণনগরে ফিরে ছিলেন গলার ক্ষত থেকে মুক্ত হয়ে। তবে শারীরীকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লেগেছিল আরো কিছুদিন।
সূত্র
  • কাজী নজরুল। প্রাণতোষ ভট্টাচার্য। ন্যাশনাল বুক এজেন্সী প্রাইভেট লিমিটেড। কলকাতা-১২। ১৩৭৩ বঙ্গাব্দ
  • কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা। মুজফ্‌ফর আহমদ। ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড। ১২ বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রীট, কলিকাতা-১২। প্রথম সংস্করণ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫।
  • ঠাকুর-বাড়ির আঙিনায়। জসিম উদ্দিন। গ্রন্থপ্রকাশ। কলিকাতা।
  • নজরুল-জীবনী। রফিকুল ইসলাম। নজরুল ইন্সটিটউট, ঢাকা। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ।
  • নজরুল তারিখ অভিধান। মাহবুবুল হক। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জুন ২০১‌০ খ্রিষ্টাব্দ।
  • নজরুল যখন বেতারে। আসাদুল হক। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। মার্চ ১৯৯৯।
  • নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। প্রথম-দ্বাদশ খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ঢাকা]
  • নজরুল সঙ্গীত নির্দেশিকা। ব্রহ্মমোহন ঠাকুর [কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। আষাঢ় ১৪২৫/জুন ২০১৮]
  • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, ফেব্রুয়ারি ২০১২)।
  • বিদ্রোহী-রণক্লান্ত, নজরুল জীবনী। গোলাম মুরশিদ। প্রথমা, ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ। 
CHATURANGA_VOL_58_NO_2